বুধবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৮

বদরগঞ্জে ধান বাঁচাতে কৃষকের প্রাণান্তকর চেষ্টা




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

দুপুর গড়িয়ে বিকাল। তবুও সুর্যের লেলিহান শিখার দাপট যেন কমছে না। তপ্ত মাঠে আর ভ্যাবসা গরমে নাকাল কৃষক। তবুও বৈরি পরিবেশে কৃষক মাঠে। কারন একটাই,প্রচন্ড রোদে ধান গাছ শুকিয়ে ঝিমিয়ে যাচ্ছে।
বৃষ্টির দেখা নাই জেনে কৃষকরা তাদের জমির ধান বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ইঞ্জিনচালিত স্যালো মেশিন জমিতে বসিয়ে সেচ দিচ্ছেন। এ যেন কৃষককের ফসল বাঁচাতে প্রাণান্তকর চেষ্টা। এ চিত্র রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার আমন মাঠের।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার(২অক্টোবর)গোটা উপজেলা ঘুরে আমন ক্ষেতে ইঞ্জিনচালিত স্যালো মেশিন দিয়ে পানি দেয়ার দৃশ্যই চোখে পড়ে।
এ সময় কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের আমন চাষি মামুন মিয়া(৪৫)এর সাথে,তিনি জানান,মুই গত দুই দিন পরপর মোর আমনের ভুইয়োত পানি দিনু। তাও যেন মনে হওছে ভুই শুকি গেইছে।
ধানোত থোর ধরার সময় জমি ভিজা না থাকলে কি ভাল ধান হইবে ? এবার আবাদ যে ক্যানক্যা হইবে মুই ভাবি পাওছো না। হাঁড়ভাঙ্গা খাটুনি দিয়্যা ধান আবাদ করি হামার কি লাভ ?
একই এলাকার অপর আমন চাষি এমারুল হক(৫৯)জানান,সুর্যের তাপ এতটাই যে,স্যালো দিয়া জমিত পানি দিলেও পানি থাকোছে না। ভুই শুকি কাঠ হয়্যা যাওছে। তা হইলে ধান হইবে কেমন করি। ধান ভাল না হইলে যে হারা শ্যাস হয়্যা যামো বাহে।
কথা হয় লোহানীপাড়া ইউপির সাহেবগঞ্জ এলাকার কৃষক রাজ্জাক আলির সাথে,তিনি জানান,ধানের থোড় আসার সময় জমি ভেজা থাকাটা খুবই গুরুত্বপুর্ন। তা না হলে তো ধান হবে না।
তিনি আরও জানান,ধান আবাদের খরচ তার উপর জমি শুকিয়ে যাওয়ার কারনে পানি দেয়ার জন্য বাড়তি খরচ। এতে উৎপাদন খরচ কৃষকদের আরও বেড়ে গেল। আরও যদি কৃষকরা তাদের কাঙ্খিত ফসল না পান তাহলে তারা মাঠে মারা যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,বৃষ্টির পানি না হওয়ায় আমরা কৃষকদের জমিতে সেচ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত উপজেলায় আমন আবাদ তুলনামুলক ভালই আছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান,সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা জমিতে সেচ দিচ্ছেন এতে করে আমন আবাদে উৎপাদন ব্যয় অনেকটা বেড়ে যাবে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩অক্টোবর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪







শুক্রবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

বাঁশের সাঁকোতে পারাপার,২ ইউনিয়নের মানুষদের দুর্ভোগ চরমে



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ


যমুনেশ^রি নদীর কোল ঘেঁষা গ্রামের নাম বড়াইবাড়ি। কালুপাড়া ইউনিয়নে গ্রামটি হলেও বদরগঞ্জ পৌরসভা হতে এর দুরত্ব ১কি.মি মধ্যে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে নদীটি এতটাই ভয়াবহ রুপ ধারন করে যে,বড়াইবাড়ি,জেলেপাড়া গ্রাম সহ কুতুবপুর ইউনিয়নের সাথে বদরগঞ্জ সদরের যোগাযোগ সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কয়েক বছর আগে তাদের একমাত্র রাস্তাটি ভাঙ্গঁতে ভাঙ্গঁতে বিলিন হয়ে গ্রামের মাঝখানে গিয়ে ঠেকে। শুধু তাই নয় বন্যার পানি প্লাবিত হয়ে গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রাস্তার নিচ দিয়ে বড় ধরনের সুরঙ্গঁ পথের সৃষ্টি হয়। এ কারনে এ অঞ্চলের মানুষরা বাধ্য হয়ে নিজেদের প্রয়োজনেই তারা যাতায়াতের জন্য নির্মান করেন বাঁশের তৈরি সাঁকো। এই সাঁকো দিয়েই বড়াইবাড়ি জেলেপাড়া সহ কালুপাড়া ইউনিয়নের কিছু গ্রামের মানুষ এবং কুতুবপুর ইউনিয়নবাসি বদরগঞ্জ উপজেলা সদরে যাতায়াত করে। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ঝুঁিক আরও বেড়ে বর্ষা মৌসুমে। এ নিয়ে এলাকাবাসির ক্ষোভের শেষ নেই। তাদের প্রানের দাবি নদীটিতে বাঁধ সহ ব্রীজ নির্মানের।
সরেজমিনে গত বৃহঃস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়,বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে ভ্যান নিয়ে যাচ্ছেন কুতুবপুর দলপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইসমাইল হোসেন আর অপর প্রান্তে অপেক্ষা করছেন কালুপাড়া ইউপির বাসিন্দা ও কুতুবপুর ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাজকুর রহমান। কারন বাঁশের তৈরি সাঁকোটি দিয়ে দুইটি যানবাহন পারাপার সম্ভব নয়। এ কারনেই তার(প্রভাষক তাজকুরের) এই অপেক্ষা। 
এ সময় কথা হয় ভ্যানচালক ইসমাইল হোসেনের সাথে,তিনি জানান,হামার পাকে(কষ্ট) কেউ দেখে না। সাংবাদিক মাঝে মধ্যে আসি ছবি তোলে, আর চেয়ারম্যান,মেম্বার,অফিসের মানুষ আসি খালি হামাক ভোগা দেয় কিন্তু হামার কাম আর হয় না।
কথা হয় প্রতিনিয়ত বাঁশের সাঁকো পারাপারকারি ও কুতুবপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক তাজকুর রহমানের সাথে,তিনি জানান,মটরসাইকেল নিয়ে এই বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে আমাকে প্রতিদিন কলেজে যেতে হয়। ভয় লাগে কখন স্লিপ কেটে নদীতে পড়ে যাই।
তিনি আরও জানান,দ্রুত বাঁধ সহ এই ব্রিজটি নির্মান জরুরি হয়ে পড়েছে।
একই কথা বলেন কুতুবপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান চাপুল শাহ্। 
তিনি আরও জানান,এই রাস্তা দিয়েই আমাদের বদরগঞ্জে যেতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এর ভুক্তভোগি। আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করবো সরকার যেন বিষয়টিতে দৃষ্টি দেন এবং মানুষের কষ্ট লাঘব করেন।
বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মানিক জানান,বাঁশের সাঁকোটির স্থলে ব্রীজ হওয়া জরুরি। ব্রীজটি নির্মান হলে ২ ইউনিয়নের মানুষদের কষ্ট লাঘব হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্বতীপুর আতিকুর রহমান জানান,আমি এখানে নতুন বদলি হয়ে এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান,বিষয়টি আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানোর পর তারা এসে দেখে গিয়ে প্রোপোজাল ঢাকায় প্রেরন করেছে। আশা করছি দ্রুত বিষয়টির সমাধান হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮সেপ্টেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



 

রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ডাক বাক্সের জৌলুস আর নেই


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

“চিঠি লিখেছে বউ আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে...” স্ত্রী তার স্বামির কাছে এখন আর আবেগতাড়িত হয়ে কোন চিঠি যেমন লেখেন না,অনুরুপভাবে মা তার সন্তানদের কাছে কিংবা কোন তরুন তরুনী তার প্রিয় জনের কাছে চিঠি লিখে ডাক বাক্সে দিয়ে আসেন না। বর্তমান সময়ের মানুষরা তার প্রিয় জনের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ সারেন। বর্তমানে ডাক বাক্স যেন এক সুদুর অতীত। এক সময়ের ডাক বাক্সের জৌলুস আর আগের মত নেই। ডাক বাক্সে চিঠি ফেলে দিয়ে কবে তার প্রিয়জন সেই চিঠি পাবেন এই অপেক্ষা এখন আর কেউ করেন না।
মোবাইল ফোন কিংবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রিয়জনের কাছে দ্রুত ভাব বিনিময় করা যায় সত্য কিন্তু প্রকৃত অর্থে লিখুনির মাধ্যমে তার আবেগতাড়িত ভালবাসার কথা তাতে তেমনভাবে ফুটে উঠে না। প্রিয়জনের কাছ হতে পাওয়া সেই চিঠির জন্য অপেক্ষা কি যে মধুর, তা তখনকার প্রিয়জনরাই অনুভব করতেন। সময় পাল্টে গেছে আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমাদের মানষিকতাও পাল্টে গেছে। সময় নষ্ট করে আর কেউ যেমন চিঠি লেখেন না,তেমনি চিঠি অনেক দেরি করে প্রিয়জনের হাতে পৌঁছে যাক এটাও কেউ চায় না। কালের গর্ভে এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রিয়জনের কাছে হাতে লিখা চিঠি আর জৌলুস ছড়ানো ডাক বাক্সের কদর। এখন ডাক বাক্সে সরকারি চিঠি পত্র ছাড়া আর কোন চিঠিই পাওয়া যায় না।
দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পর কথা হয় হাতে লেখা চিঠি নিয়ে ডাক বাক্সে ফেলতে আসা প্রবীন ব্যক্তি উপজেলার রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)এর সাথে,তিনি জানান,আমার নাতি ঢাকায় চাকুরি করে তার কাছে চিঠি পাঠাতে এখানে এসেছি। আমি বাবা আগের মানুষ। মোবাইলে মেসেজ দিতে পারি না। আর মেসেজ কিংবা মোবাইল ফোনে সব কথা বলা সম্ভব হয় না তাই চিঠি লিখে তার কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
বদরগঞ্জ উপজেলা পোষ্টমাষ্টার সদরুল আলম জানান, বর্তমানে পোষ্ট অফিসে পার্সেল,বীমা,পরীক্ষার খাতা, সঞ্চয়পত্রের মত কাজগুলো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান,আগের দিনের মত এখন আর ব্যাপকভাবে চিঠি পত্র লেনদেন আর হয় না।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬সেপ্টেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

একটি ব্রীজ কমাতে পারে দুই উপজেলার ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার দুই উপজেলার ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। একটি ব্রীজই কমাতে পারে দুই উপজেলার ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ।
ঘৃনই নদীর উপর দেয়া বাঁশের সাকোটির অবস্থান বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে ১৫কি.মি দক্ষিনে লোহানীপাড়া ইউপির ঘৃনই মালতোলা নামক স্থানে। নদীর ওপারে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়ন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরের দুরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন ভাল না হওয়ায় বদরগঞ্জের সীমান্ত ঘেঁষা নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউপির পশ্চিমপাড়া,ডিঙ্গাপাড়া,বাদিঘৃনই,মধ্যটারি সহ বদরগঞ্জের মালতোলা,ঘৃনই,ঘুনুরঘাট,আমতলা সহ অনেক গ্রামের লোকজন এই বাঁশের সাকো দিয়ে যাতায়াত করে।
দুই উপজেলার ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের যাতায়াত এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে অথচ এখানে একটি ব্রীজ নেই, এ নিয়ে তাদের ক্ষোভ আর কষ্টের অন্ত নেই। তাদের প্রানের দাবি এখানে একটি ব্রীজ নির্মানের।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার(১১সেপ্টেম্বর)গিয়ে দেখা যায়,নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউপির পশ্চিমপাড়া গ্রামের মেহেরুল নামের এক যুবক সে তার কাঁধে বাইসাইকেল নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছেন।
কথা হয় মেহেরুলের সাথে,তিনি জানান,প্রতিনিয়ত কাজের জন্য আমাদেরকে বদরগঞ্জে আসতে হয়। কারন আমাদের ওপারের অসংখ্য মানুষের জমি এ পাড়ে রয়েছে। তাছাড়া আমাদের এখান হতে নবাবগঞ্জের দুরত্ব ও যোগাযোগ ভাল না হওয়ায় আমাদের এ অঞ্চলের মানুষ বদরগঞ্জেই বেশি যাতায়াত করে।
কথা হয় ঘৃনই মালতোলা(বদরগঞ্জ)গ্রামের বাসিন্দা সাহারা বেগমের সাথে,তিনি জানান,সাঁকোর পাশেই আমার বাড়ি। ওপারে (নবাবগঞ্জ)আমাদের এ এলাকার মানুষের অনেক জমি রয়েছে। ধান কেটে সাঁকো দিয়ে নিয়ে আসতে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এখানে একটি ব্রীজ হবে এটাই আমাদের প্রানের দাবি হলেও জনপ্রতিনিধিরা শুধু ভোটের সময় এসে ব্রীজটি নির্মানের আশ^াস দিলেও ওই পর্যন্তই শেষ। ভোট হয়ে গেলে আমাদের আর কেউ খোঁজ রাখেন না।
বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রাকিব হাসান ডলু শাহ্ জানান,বাঁশের সাঁকোটির স্থলে ব্রীজ হওয়া জরুরি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে পিআইও অফিসে ব্রীজটির জন্য আবেদন করি। মাপে বেশি হওয়ায় পিআইও অফিসের পক্ষে ব্রীজটি করা সম্ভব না। পরে এলজিইডিতে যোগাযোগ করেছি।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান,নদীটির অবস্থান দুই উপজেলায় হওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই এলাকার এমপির সাথে যোগাযোগ করেছি। আমি চেষ্টা করছি ব্রীজটি যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে হয়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২সেপ্টেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



 

শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

প্রতিবন্ধি মেয়েটি কে ?



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

নিজের ও পিতা মাতার নাম বলতে পারলেও আর বেশি কিছু বলতে পারছে না প্রতিবন্ধি কিশোরি সীমা ঘোষ(১৪)। পরিচয়হীন মেয়েটিকে পাওয়া যায় গত শনিবার(১সেপ্টেম্বর)উপজেলার রামনাথপুর ইউপির হাসিনা নগর নামাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ভারতী রানির উঠান হতে। এর পর তার আশ্রয় হয় গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থায়। যদিওবা তারা কাজ করে পরিচয়হীন,গৃহহীন অসুস্থ্য মানুষদের স্বেচ্ছায় সেবা দানের মাধ্যমে।  তবুও তারা মানবিক দিক বিবেচনা করে সীমাকে আশ্রয় দিয়েছে। ইচ্ছে করলে সীমার স্বজনরা যোগাযোগের মাধ্যমে তাকে নিয়ে যেতে পারেন। সীমা তার বাবার নাম বলছে মানিক ঘোষ আর মার নাম চন্দনা ঘোষ। এ ছাড়া সে আর কিছুই বলতে পারছে না।
গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহি পরিচালক মারুফ কেইন জানান,যদিও আমরা যাদেরকে সেবা দেই সেই ক্যাটাগরিতে সীমা পড়ে না,তবুও অসহায় প্রতিবন্ধি ও তার নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা তাকে আশ্রয় দিয়েছি। সীমার স্বজনরা পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে নিয়ে যেতে পারেন।
তিনি আরও জানান,আমাদের এখানে আরও ১৪ জন গৃহহীন অসুস্থ্য মানুষ রয়েছে। আমরা তাদেরকেও সেবা দিচ্ছি,পাশাপাশি তাদেও ঠিকানা সন্ধান করছি। 
 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৭সেপ্টেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শুক্রবার, ২০ জুলাই, ২০১৮

কাঠ ফাটা গরমে জনজীবন স্থবির




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

কাঠ ফাটা গরমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড গরম আর তাপদাহে ঘর হতে বের হওয়া যেন দায় হয়ে পড়েছে। গত দু-দিন হতে রংপুরের বদরগঞ্জে প্রচন্ড তাপদাহ আর গরমের দাপট এতটাই যে,প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কেউ ঘর হতে বের হচ্ছেন না। এই সময়টাতে সবচাইতে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ছোট বাচ্চা বৃদ্ধ আর শ্রমজীবি মানুষরা।
সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার(২০জুলাই)দুপুরে গোটা পৌরশহর ঘুরে দেখা যায়,জনমানবহীন তপ্ত সড়ক। সড়কে রিক্সা কিংবা ব্যাটারিচালিত অটো রিক্সার দেখা নেই। অথচ দু-একদিন আগেও রিক্সা কিংবা ব্যাটারিচালিত অটো রিক্সার দাপটে সড়কে চলাচল করাই যেন দায় হয়ে যেত। আরও দেখা যায়, হাতে গোনা দু-একটি দোকান ছাড়া সকল দোকান বন্ধ। যে দু-একটি দোকান খোলা রয়েছে তাতেও হাতে গোনা লোকজন দোকানের মধ্যে বসে আসে। খোলা রয়েছে শুধু ঔষধের দোকান। ঔষধের দোকানগুলোতে রেকর্ড সংখ্যক স্যালাইন বিক্রির কথা দোকানদাররা জানান।
কথা হয় স্যালাইন কিনতে আসা পৌরশহরের সি.ও রোড মহল্লার বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের গনিত বিভাগের শিক্ষক নিখিল সরকারের সাথে,তিনি জানান,প্রচন্ড তাপদাহ আর গরমে ঘর হতে বের হওয়া যাচ্ছে না।
গরমে শরীর হতে ঘাম বের হবার কারনে স্যালাইন কিনতে এসেছি।
তিনি আরও জানান,প্রচন্ড গরমে আমার ছোট মেয়ে আর আমার মায়ের অবস্থা একেবারেই খারাপ। এই মাত্র ডাক্তারের সাথে কথা বলে স্যালাইন কিনতে এসেছি।
কথা হয় রাস্তার এক কোনে ছাঁয়ায় দাঁড়ানো রিক্সাচালক জুরান সাহার সাথে,তিনি জানান,আমি গরীব মানুষ রিক্সা না চালালে খাবো কি ? কিন্তু সকাল হতে রিক্সা নিয়ে বের হলেও এখন দুপুর পর্যন্ত মাত্র একজন যাত্রি পেয়েছি। তার কাছ হতে ভাড়া পেয়েছি দশ টাকা। এই হল দুপুর পর্যন্ত আমার রোজগার।
তিনি আরও জানান,এই রোদে মানুষতো বাইরে বের হতেই পারছে না। আমার রিক্সায় চড়বে কে ?
রেলষ্টেশন এলাকার লেবু শরবত বিক্রেতা এরশাদ আলি জানান,প্রচন্ড গরমে সকাল হতে গভীর রাত অবধি তার লেবু শরবতের দোকানে ভিড় লেগেই আছে। প্রতি গ্লাস লেবু শরবত ৫ টাকায় বিক্রি করি।
এদিকে,রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলি জানান,আজ (শুক্রবার)রংপুর অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮.০৪। তিনি আরও জানান,আজ কোথাও বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা না থাকলেও আগামিকাল শনিবার কোথাও কোথাও বৃষ্টি হতে পারে। 
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইফতেখারুল আলম মারুফ জানান,অতিরিক্ত গরমে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুন রোগি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই পেটের পীড়া ডায়রিয়া ও শ^াসকষ্টজনিত রোগি। এই গরমে শরীর হতে অতিরিক্ত লবন পানি ঘাটতি পুরনে সকলকে খাবার স্যালাইন ও বেশি বেশি পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২০জুলাই/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই, ২০১৮

শোলার খোঁজে মালিরা




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

শোলা বদ্ধ জলাশয়ে জন্মানো একটি জলজ উদ্ভিদের নাম। রোঁমশ লম্বাটে ফাঁপা পাতলা এই উদ্ভিদটি আগে বদরগঞ্জ উপজেলার কমবেশি সকল বদ্ধ জলাশয়ে দেখা গেলেও এখন উপজেলার হাতে গোনা কয়েকটি স্থানে দেখতে পাওয়া যায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে শোলার কদর অত্যন্ত বেশি। দেব-দেবির পুজা অর্চনা বিয়ের মুকুট সহ বিয়ে বাড়ি সাজাতে বেশি প্রয়োজন হয় এই শোলা। এছাড়াও বাচ্চাদের নানা ধরনের খেলনা তৈরিতে উদ্ভিদটির জুড়ি মেলা ভার।
সরেজমিনে গত সোমবার(১৬জুলাই)সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উপজেলা ঘুরে দেখার সময় উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির মন্ডলপাড়া এলাকায় গিয়ে চোখে পড়ে কিছু লোকজন বদ্ধ জলাশয় হতে শোলা নামক জলজ উদ্ভিদটি তুলে রাস্তার ধারে স্তুপ করছেন।  কাছে গিয়ে তাদের স্থির চিত্র ধারন করি।
 এ সময় কথা হয় নীলফামারি জেলার মাগুড়া হতে আসা মালি দুলাল চন্দ্রের (৩৫) সাথে, তিনি জানান, আমরা প্রতি বছর নীলফামারির মাগুরা এলাকা থেকে এই এলাকায় শোলা সংগ্রহ করতে আসি।
অপর মালি সুবল দাস (৪০) জানান,নীলফামারির মাগুরা থেকে বদরগঞ্জের দুরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। আমরা সবাই বাইসাইকেলে করে এসেছি। জলাশয় এলাকায় আসতে গেলে বাইসাইকেলই উত্তম বাহন।
তিনি আরও জানান,অনেক জলাশয় আছে যা প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে ভাল যাতায়াত ব্যবস্থাই নেই। এখান হতে এই শোলা সংগ্রহ করে আমরা নীলফামারি সহ আশে পাশের জেলা উপজেলায় বিক্রি করি।
মালি সুবাস চন্দ্র (৩০) জানান, দেশের বড় বড় জলাশয় পুকুর ডোবা ভরাট হয়ে যাওয়ায় আর আগের মত শোলা পাওয়া যায় না। তাই আমরা আগেই বিভিন্ন জলাশয় এলাকার খোঁজখবর নিয়েই যেখানে শোলা পাওয়া যায় সেখানে চলে আসি।
তিনি আরও জানান, শোলা দিয়ে পুজোর সামগ্রি তৈরি করে থাকি। যেমন কদম ফুল, মুকুট ও নানা প্রকার খেলনা সামগ্রি। প্রথমে আমরা শোলা সংগ্রহ করি তারপর সংগ্রহীত শোলা শুকিয়ে বাহারি রঙ্গে রাঙ্গিয়ে পণ্য সামগ্রি তৈরি করে পুজোর বাজারে বিক্রি করি। প্রতি বছর এই শোলা সামগ্রি বিক্রি করে ২৫-৩০হাজার টাকা আয় করি। এছাড়াও পেশাটি আমাদের পুর্বপুরুষের। তাই কষ্ট করে হলেও ধরে রাখার চেষ্টা করছি।
বদরগঞ্জ বারোয়ারি কালিমন্দিরের পুরোহিত দিনেশ চক্রবর্তী জানান, শোলা দিয়ে আমাদের অনেক কাজ সারতে হয়। যেমন বিয়ের মুটুক, সাজসজ্জা, দেব-দেবির গলার হার, মনষা ও ছায়া মন্ডব তৈরি করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন রকম ফুল এবং পুজার কাজে শোলার ব্যবহার হয়। 
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক রায় জানান, এক সময় বদরগঞ্জ উপজেলায় প্রচুর পরিমান শোলা পাওয়া যেত। এ কারনে বদরগঞ্জের একটি এলাকার নামকরন হয়েছে শোলাগাড়ি।
বর্তমানে শোলা এখন পশুখাদ্য,রান্নার কাজে জ্বালানি ও জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি আরও জানান,সময়ের সাথে সাথে শোলা নামক এই জলজ উদ্ভিটির বিকল্প সামগ্রি ব্যবহার করার ফলে এর চাহিদা অনেকটাই কমেছে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬জুলাই/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪         












  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...