বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২০

আসুন,কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে একটু দাঁড়াই


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
“মানুষ বাঁচে আশায়,দেশ বাঁচে সকলের ভালবাসায়”। মানুষকে ভালবাসার মধ্যেই পরম সুখ নিহিত। ভয়াবহ করোনার প্রার্দুভাবে শংকিত আমাদের দেশ বাংলাদেশ। গোটা দেশ আজ অবরুদ্ধ এবং আমরা পরস্পর পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন। বাংলাদেশ সরকার ভয়াবহ করোনার ছোবল হতে দেশ তথা দেশের মানুষকে বাঁচাতে সাধ্যমত অনেক কিছুই করছে। এ কারনে আমাদের সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা প্রশংসার দাবি রাখে। আমি একজন অতি সাধারন মানুষ হিসেবে বলতে পারি,দেশের আজ এই কঠিন সময়ে নিজ নিজ অবস্থান হতে দেশকে তথা দেশের মানুষকে ভালবাসা দেবার সময় এসে গেছে। মনে রাখতে হবে,দেশকে ও দেশের মানুষকে ভালবাসা দেবার সুযোগ সব সময় আসে না। আমি ১৯৯০সালের এসএসসি ব্যাচের তৎকালিন সকল শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি,আমরা কি পারি না, দেশের এই কঠিন সময়ে কর্মহীন অসহায় অভুক্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আমাদের সামর্থ্যনুযায়ি আমরা সকলেই যদি একত্রিত হয়ে নিজ নিজ এলাকার অসহায় কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়াই তাহলে এই কর্মহীন অসহায় অভুক্ত মানুষগুলো বেঁচে যায়। আপনাদের একটুখানি আন্তরিকতায় দুস্থ্য অসহায় মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটতে পারে।
শুধু সরকারের উপর নির্ভর করলে চলবে না,কঠিন এই সময়ে মানুষ হিসেবেও আমাদের কিছু করনীয় আছে। প্লিজ,আর বসে থাকবেন না, কিছু একটা করুন। 
পরিশেষে,চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্টের পিতা তার ছেলেকে(বর্তমান প্রেসিডেন্ট)  দেয়া একটি উপদেশের কথা মনে পড়ে গেল,“তুমি জীবনে যদি অন্যের জন্য ভাব,অন্যকে দাও,জীবনও তোমার কথা ভাববে,তোমাকে আরও বহুগুনে ফিরিয়ে দেবে।
আসুন,সকলে মিলে দেশের জন্য তথা দেশের মানুষের জন্য কিছু একটা করি। সবার জন্য শুভকামনা। ভুল ক্রুটি মার্জনীয়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২২এপ্রিল/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০

বাবা,আমি আর তোমার কাছে বায়না ধরবো না,কোন কিছুই চাইবো না,তুমি বাহিরে যেও না।


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
আমার একমাত্র সন্তান তাসিন। বয়স ৫বছর পার হলেও  ৬ বছর পূর্ন হয়নি। গতকাল রবিবার(১২এপ্রিল)সকালে আমার বুকে মাথা রেখে সে বলছে,বাবা আমি আর কোন কিছুর জন্য তোমার কাছে বায়না ধরবো না। কোন কিছু আনতে বলবো না,তুমি আর বাড়ি হতে বের হবে না। টিভিতে করোনা ভাইরাসের কথা বার বার বলছে,আমাকে খুব ভয় লাগছে। তুমি আর বাহিরে যাবে না। প্রাণ প্রিয় অবুঝ সন্তানের মুখে এমন কথা শোনার পর হৃদপিন্ডটা যেন মোচড় দিয়ে উঠলো। অবুঝ শিশুটিও যেন বুঝতে পেরেছে করোনা নামক দানবের ভয়াবহতা।
আমার সন্তানের মত আপনার সন্তানও আঁতকে আছে করোনার প্রার্দুভাবে। সন্তানের মায়া ভরা মুখ,পরিবারের তথা দেশের কথা ভেবে অযথা বাহিরে বের হবার প্রবনতা বন্ধ করি। সরকারের নির্দেশনা মেনে চলি। জানি,বাড়িতে থাকতে সবার কিছুটা কষ্ট হবে সত্যি কিন্তু প্রিয়জন হারানোর বেদনার চাইতে সে কষ্ট অবশ্যই বেশি নয়। এখন আমাদের সিন্ধান্ত নেবার সময় এসেছে,ঘরের ভিতরে সুরক্ষিত থাকবো নাকি ঘরের বাহিরে বের হয়ে নিজে অপরকে তথা দেশকে অরক্ষিত রাখবো।
সকলের জ্ঞাতার্থে বিনয়ের সাথে জানাতে চাই,এই জীবনে কখনো কি দেখেছেন, সরকার নিজে থেকেই দিনের পর দিন অফিস আদালত,এইসএসসি পরীক্ষা,  ট্রেন,বাস,নৌপথ,ব্যবসা বানিজ্য সহ সকল বিষয় বন্ধ করে দেয়। এতে সরকারের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কেন সরকারকে এই সিন্ধান্ত নিতে হল। শুধুমাত্র আমাদের কথা তথা বাংলাদেশের মানুষের কথা ভেবে সরকার এই সিন্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি আমাদের সকলকে বুঝতে হবে এবং মানতে হবে।  সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। সরকারের (স্বাস্থ্য বিষয়ক) নির্দেশনা মানতে হবে। মনে রাখতে হবে,কোন অযুহাত জীবনের চাইতে বড় হতে পারে না। নিজে বাঁচতে হবে,দেশকে বাঁচাতে হবে এই ভয়াবহ করোনা নামক দানবের হাত হতে। এ ক্ষেত্রে ভয় না পেয়ে ধৈর্য্যরে সাথে সকলকে এর মোকাবেলা করতে হবে। অতি প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। 
পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই,মানুষ বাঁচে আশায়,দেশ বাঁচে সকলের ভালবাসায়।
আশায় বুক বেঁধে আছি,অন্ধকারের বুক চিঁড়ে একদিন আলোর দেখা মিলবেই।
সকলেই ভাল থাকুন,ঘরে থাকুন,সুরক্ষিত থাকুন,সরকারের নির্দেশনা মেনে চলুন।  

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৩এপ্রিল/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০

করোনার প্রভাব, প্যাটের আগুন বড় আগুন,কাম না করলে খামো কি ?



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

মোস্তাফিজার রহমান(৩৮)।বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির বক্সিপাড়া গ্রামে। পেশায় রিক্সা চালক। ২ সন্তানের জনক তিনি। বড় ছেলে ক্লাশ দশম শ্রেনিতে আর ছোট ছেলে নবম শ্রেনিতে পড়ে। আগে রিক্সা চালিয়ে যা আয় হত তা দিয়ে ৪জনের সংসার কষ্টের মধ্য দিয়ে হলেও মোটামুটি চলতো। কিন্তু করোনা ভীতির কারনে মানুষ এখন আর তেমন বাহিরে বের হচ্ছেন না। আয়-রোজগারও থেমে গেছে তার। সংসারের কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়েই তিনি রিক্সা নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছেন যাত্রির অপেক্ষায়।  তার মধ্যেও রয়েছে করোনা ভীতি কিন্তু কি করবেন তিনি?
সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার(৩এপ্রিল)সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত গোটা পৌরশহর ঘুরে রিক্সাচালকদের মোড়ে মোড়ে রিক্সায় বসে অলস সময় পার করার চিত্রই চোখে পড়ে।
কথা হয় রিক্সা চালক মোস্তাফিজারের সাথে,তিনি জানান,প্যাটের আগুন বড় আগুন,কাম না করলে খামো কি? হামরাও চাই বাইরোত বাহির না হবার।
দামোদরপুর ইউপির তুফানুপাড়া গ্রামের অপর রিক্সা চালক জগীন্দ্রনাথ(৪২)জানান,করোনার ভয় হামারও আছে। কিন্তু কি করমো? একদিন কাম না করলে হামার প্যাটোত ভাত যাবা নায়। রিক্সা নিয়া বাহির হছি, কিছু আয়পানি  হইলেই  চাউল ডাইল কিনি বাড়ি যামো।
রামনাথপুর ইউপির রামকৃষ্ণপুর ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের অপর রিক্সাচালক আকতার হোসেন(৫৫)জানান,হামরাও কি চাই হামার ওসুখ হউক ? হামাক যদি কেউ সাহায্য করিল হয় তাইলে হামরাও আর বাহিরোত বের হইনো না হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও)বাবুল চন্দ্র জানান,এখন পর্যন্ত এই উপজেলায় ২৩মে.টন চাল,৪শত ব্যাগ সয়াবিন তেল ও আলু এসেছে। এর মধ্যে ৭টন পৌরসভার জন্য এবং উপজেলার ১০ইউপির জন্য দেড় টন করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট জানান,উপজেলা পরিষদের পক্ষ হতে এবং আমার ব্যক্তিগত তহবিল হতে কর্মহীন দিনমজুর শ্রেনির মানুষদের মাঝে খাদ্য সামগ্রি বিতরন অব্যাহত আছে। উপজেলার বিত্তবান মানুষদের নিজ নিজ অবস্থান হতে কর্মহীন দিনমজুর শ্রেনির মানুষদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ানোর আহবানও জানান তিনি। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩এপ্রিল/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪











  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...