শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯

ডিম দুধ আর ভাঁপাপিঠা, যত বেশি শীত তত বেশি বিক্রি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ
 
স্বল্প আয়ের ছিন্নমুল মানুষরা শীতের দাপটে কাতর হলেও স্বপ্ল পুঁজির রাস্তার ধারের ভ্রাম্যমান দোকানদারদের ভাঁপাপুলি আর গরম দুধ ডিমের ব্যবসা চলছে রমরমা। বর্তমানে শীতের দাপট এতটাই বেড়ে গেছে যে,প্রচন্ড শীতে কাতর হয়ে পড়েছেন উপজেলার খেটে খাওয়া ছিন্নমুল মানুষরা।
ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাওয়া আকাশ আর হিমেল হাওয়া সব মিলিয়ে যেন হাড় কাঁপানো শীত। এই শীতে খেটে খাওয়া মানুষসহ সাধারন মানুষজন ঘর হতে বের হতে না পারলেও রাস্তার ধারে কিংবা দোকানের কোন এক কোনে বসে থাকা ভ্রাম্যমান দোকানদারদের শীতের গরম গরম মজাদার ভাঁপাপুলি,দুধ আর ডিমের চলছে রমরমা ব্যবসা। রাস্তার ধারের ভ্রাম্যমান দোকানদাররা কেউ ভাঁপাপুলির পসরা সাজিয়ে কেউবা দুধ আর ডিম নিয়ে বসে আছে। প্রতিটি দোকানেই যেন উপচে পড়া ভীড়। শীতের মজাদার নারিকেল ভাঁপাপুলি খেতে তারা এসেছেন এই সমস্ত ভ্রাম্যমান দোকানগুলিতে। কেউবা এসেছেন গরম দুধ আর সিদ্ধ ডিম খেতে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের এই ব্যবসা।
সরেজমিনে গত রাতে ও সকালে বদরগঞ্জ পৌরশহরের মোড়ে মোড়ে ভ্রাম্যমান ভাপাপুলি,দুধ আর সিদ্ধ ডিমের দোকানগুলিতে গিয়ে এ চিত্রই চোখে পড়ে। 
কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউপির ঢাঙ্গারপাড়া গ্রামের ভাঁপাপুলি বিক্রেতা ইয়ারুল ইসলামের(২৬)সাথে,তিনি জানান,ভাঁপাপুলি বিক্রি হয় সন্ধ্যা হতে রাত ১২টা পর্যন্ত। প্রতি পিঠা ৫টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা হতে প্রতিদিন আয় হয় কমপক্ষে ৬-৭শত টাকা। আমার অন্য ৩ ভাই আমার মত শীতের এই সময়টাতে পৌরশহরের অন্য মোড়ে ভাঁপাপুলির দোকান দিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ৪ ভাই ১ বোন। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।
অর্থাভাবে আমরা লেখাপড়া শিখতে পারি নাই। আমাদের আর্থিক অবস্থা বর্তমান সময়ের মত হলে আমার বাবা অবশ্যই আমাদের লেখাপড়া শেখাতো।
তিনি আরও জানান,যত বেশি কুয়াশা আর ঠান্ডা,তত বেশি বিক্রি হয় ভাঁপাপুলি,গরম দুধ আর সিদ্ধ ডিম।
কথা হয় উপজেলার মধুপুর ইউপির কাশিগঞ্জ গ্রামের দুধ ও ডিম বিক্রেতা আবু বক্কর সিদ্দিক(৫৪)সাথে,তিনি জানান,দীর্ঘ ২১ বছর ধরে দুধ ও ডিমের ব্যবসা করছি। শীতকালে এই ব্যবসাটি বেশি চলে। গ্রাহক এতবেশি বেড়ে যায় যে,বসে থাকার সময় পাই না। প্রতি গ্লাস দুধ ১৫টাকা ও প্রতি পিস ডিম ১০-১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন বিকাল ৪টা হতে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে। প্রতিদিন আয় হয় কমপক্ষে ৮-৯শত টাকা। 
তিনি আরও জানান,এক সময় মানুষের বাড়িতে মজুর দিয়ে সংসার চলতো। তখন অভাব অনটনের অন্ত ছিল না। এই ব্যবসা করেই জমি কিনে বাড়ি ঘর করা সহ সংসার,ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া সবকিছুই চলে। আল্লাহ্র রহমতে আমি ভালো আছি।
ভাঁপাপুলি আর সিদ্ধ ডিম খেতে আসা বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রাজিবুল ইসলাম রাজিব জানান,প্রচন্ড এই শীতে খেটে খাওয়া ছিন্নমুল মানুষদের কষ্ট হলেও রাস্তার ধারের স্বল্প পুঁজির এই দোকানদারদের ব্যবসা ভালই চলছে।
তিনি আরও জানান,শীত বস্ত্রের অভাবে ছিন্নমুল মানুষদের ভোগান্তি হলেও এই সমস্ত স্বল্প পুঁজির দোকানদার অর্থ্যাৎ গরীব ব্যবসায়িদের ব্যবসা কিন্তু ভালই চলছে। যত বেশি শীত আর ঠান্ডা তত বেশি তাদের বিক্রি।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট জানান,কনকনে শীতে এক শ্রেনির মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেলেও রাস্তার ধারের এই সমস্ত ভাঁপাপুলি,দুধ ডিমের দোকানগুলো ভালই চলছে।
তিনি আরও জানান,শীতের দাপট বাড়ার সাথে সাথে এ সমস্ত ভ্রাম্যমান দোকানগুলোর বিক্রি আরও বেড়ে যাবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২১ডিসেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...