মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯

একটা কম্বল দেও বাহে,খুব জাড় নাগোছে !



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

ছনের তৈরি জীর্ন কুঠির তাও আবার ভাংগাচোরা। পৌষের কনকনে ঠান্ডা আর হিম শীতল হাওয়া অনায়েসে প্রবেশ করে ঘরটিতে। এই ঘরেই বাস করেন সহায় সম্বলহীন অসহায় বৃদ্ধা লাখরাজি রাউথ (৭৫)।
বৃদ্ধা লাখরাজির বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির খোর্দ্দবাগবাড় মিশনপাড়া গ্রামে। প্রচন্ড ঠান্ডার দাপটে কাতর হয়ে ১০দিন আগে মারা গেছেন লাখরাজির স্বামি মিশরিয়া রাউথ।
বৃদ্ধার ৩ মেয়ে ২ ছেলে। সকলের বিয়ে হয়ে গেছে। আলাদা আলাদা সংসার তাদের। বৃদ্ধা লাখরাজির স্বামি মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত দু-জনেই একত্রে এই জীর্ন ছনের ঘরেই বাস করতেন। কৃষকের জমিতে ফেলে যাওয়া ধান আর ইঁদুরের গর্ত হতে বের করে আনা ধানই ছিল তাদের আয়ের এক মাত্র উৎস। বর্তমানে তিনি একা। 
সরেজমিনে  গতকাল মঙ্গলবার(৩১ডিসেম্বর) সংবাদ সংগ্রহের উদেশ্যে চলে যাই উপজেলা সদর হতে ১০কি.মি দুরে রামনাথপুর ইউপির খোর্দ্দবাগবাড় মিশনপাড়া গ্রামে। শীতের কুয়াশায় মোড়ানো সকালে মিষ্টি রোদের আশায় যবুথবু হয়ে জীর্ন ছনের ঘরের পাশে বসে আছেন অসহায় বৃদ্ধা লাখরাজি রাউথ।
বয়সের ভারে কোমর বেঁকে যাওয়া বৃদ্ধা লাখরাজি সংবাদকর্মি পরিচয় পেয়ে বলে ওঠেন, মোক একটা কম্বল দেন বাহে,এই জারোত মুই আর থাকপার পাওছো না। তোরা দিবার না পারেন,পেপারোত লেখি দেন বাবা,তাইলে কেউ না কেউ মোক একটা কম্বল দেবে। এই ঠান্ডাত ১০দিন আগে মোর স্বামি মরি গেইছে। এখন মুই কেমন করি বাঁচিম বাবা।
তিনি আরও জানান,এই বয়সোতও মুই বয়স্ক ভাতা পাও না। আর কত বয়স হইলে মোক ওরা বয়স্ক ভাতা দিবে।
এ দিকে,শীতের দাপটে কাতর অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি কিংবা বে-সরকারিভাবে এখনও চোখে পড়ার মত তেমন শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে শীত বস্ত্র বিতরন করা হয়েছে ৫ হাজার ৫শত কম্বল। এই উপজেলায় অসহায় দুস্থ মানুষের সংখ্যার তুলনায় কম্বলের পরিমান একেবারেই নগন্য। 
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট জানান, গোটা উপজেলায় ছিন্নমুল মানুষদের জন্য কম্বল বিতরন অব্যাহত আছে। আরও কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এলেই আবার বিতরন করা হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩১ডিসেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 


শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯

ডিম দুধ আর ভাঁপাপিঠা, যত বেশি শীত তত বেশি বিক্রি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ
 
স্বল্প আয়ের ছিন্নমুল মানুষরা শীতের দাপটে কাতর হলেও স্বপ্ল পুঁজির রাস্তার ধারের ভ্রাম্যমান দোকানদারদের ভাঁপাপুলি আর গরম দুধ ডিমের ব্যবসা চলছে রমরমা। বর্তমানে শীতের দাপট এতটাই বেড়ে গেছে যে,প্রচন্ড শীতে কাতর হয়ে পড়েছেন উপজেলার খেটে খাওয়া ছিন্নমুল মানুষরা।
ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাওয়া আকাশ আর হিমেল হাওয়া সব মিলিয়ে যেন হাড় কাঁপানো শীত। এই শীতে খেটে খাওয়া মানুষসহ সাধারন মানুষজন ঘর হতে বের হতে না পারলেও রাস্তার ধারে কিংবা দোকানের কোন এক কোনে বসে থাকা ভ্রাম্যমান দোকানদারদের শীতের গরম গরম মজাদার ভাঁপাপুলি,দুধ আর ডিমের চলছে রমরমা ব্যবসা। রাস্তার ধারের ভ্রাম্যমান দোকানদাররা কেউ ভাঁপাপুলির পসরা সাজিয়ে কেউবা দুধ আর ডিম নিয়ে বসে আছে। প্রতিটি দোকানেই যেন উপচে পড়া ভীড়। শীতের মজাদার নারিকেল ভাঁপাপুলি খেতে তারা এসেছেন এই সমস্ত ভ্রাম্যমান দোকানগুলিতে। কেউবা এসেছেন গরম দুধ আর সিদ্ধ ডিম খেতে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের এই ব্যবসা।
সরেজমিনে গত রাতে ও সকালে বদরগঞ্জ পৌরশহরের মোড়ে মোড়ে ভ্রাম্যমান ভাপাপুলি,দুধ আর সিদ্ধ ডিমের দোকানগুলিতে গিয়ে এ চিত্রই চোখে পড়ে। 
কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউপির ঢাঙ্গারপাড়া গ্রামের ভাঁপাপুলি বিক্রেতা ইয়ারুল ইসলামের(২৬)সাথে,তিনি জানান,ভাঁপাপুলি বিক্রি হয় সন্ধ্যা হতে রাত ১২টা পর্যন্ত। প্রতি পিঠা ৫টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা হতে প্রতিদিন আয় হয় কমপক্ষে ৬-৭শত টাকা। আমার অন্য ৩ ভাই আমার মত শীতের এই সময়টাতে পৌরশহরের অন্য মোড়ে ভাঁপাপুলির দোকান দিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ৪ ভাই ১ বোন। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।
অর্থাভাবে আমরা লেখাপড়া শিখতে পারি নাই। আমাদের আর্থিক অবস্থা বর্তমান সময়ের মত হলে আমার বাবা অবশ্যই আমাদের লেখাপড়া শেখাতো।
তিনি আরও জানান,যত বেশি কুয়াশা আর ঠান্ডা,তত বেশি বিক্রি হয় ভাঁপাপুলি,গরম দুধ আর সিদ্ধ ডিম।
কথা হয় উপজেলার মধুপুর ইউপির কাশিগঞ্জ গ্রামের দুধ ও ডিম বিক্রেতা আবু বক্কর সিদ্দিক(৫৪)সাথে,তিনি জানান,দীর্ঘ ২১ বছর ধরে দুধ ও ডিমের ব্যবসা করছি। শীতকালে এই ব্যবসাটি বেশি চলে। গ্রাহক এতবেশি বেড়ে যায় যে,বসে থাকার সময় পাই না। প্রতি গ্লাস দুধ ১৫টাকা ও প্রতি পিস ডিম ১০-১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন বিকাল ৪টা হতে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে। প্রতিদিন আয় হয় কমপক্ষে ৮-৯শত টাকা। 
তিনি আরও জানান,এক সময় মানুষের বাড়িতে মজুর দিয়ে সংসার চলতো। তখন অভাব অনটনের অন্ত ছিল না। এই ব্যবসা করেই জমি কিনে বাড়ি ঘর করা সহ সংসার,ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া সবকিছুই চলে। আল্লাহ্র রহমতে আমি ভালো আছি।
ভাঁপাপুলি আর সিদ্ধ ডিম খেতে আসা বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রাজিবুল ইসলাম রাজিব জানান,প্রচন্ড এই শীতে খেটে খাওয়া ছিন্নমুল মানুষদের কষ্ট হলেও রাস্তার ধারের স্বল্প পুঁজির এই দোকানদারদের ব্যবসা ভালই চলছে।
তিনি আরও জানান,শীত বস্ত্রের অভাবে ছিন্নমুল মানুষদের ভোগান্তি হলেও এই সমস্ত স্বল্প পুঁজির দোকানদার অর্থ্যাৎ গরীব ব্যবসায়িদের ব্যবসা কিন্তু ভালই চলছে। যত বেশি শীত আর ঠান্ডা তত বেশি তাদের বিক্রি।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট জানান,কনকনে শীতে এক শ্রেনির মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেলেও রাস্তার ধারের এই সমস্ত ভাঁপাপুলি,দুধ ডিমের দোকানগুলো ভালই চলছে।
তিনি আরও জানান,শীতের দাপট বাড়ার সাথে সাথে এ সমস্ত ভ্রাম্যমান দোকানগুলোর বিক্রি আরও বেড়ে যাবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২১ডিসেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



 

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

এক হালি পেঁয়াজের দামে দেড় হালি ডিম


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

এক হালি পেঁয়াজে দেড় হালি ডিম পাওয়া যাচ্ছে। দেশে পেঁয়াজ নিয়ে হৈ চৈ শুরু হলেও কিছুতেই এর সমাধান হচ্ছে না। আপাতত সমাধানের কোন লক্ষনও দেখা যাচ্ছে না। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা সাধারন। এ ছাড়াও আগে ছোট বড় হোটেল(রেস্তোরা)গুলোতে ব্যাপকভাবে মুখরোচক খাবার পিঁয়াজি তৈরি এবং বিক্রি হলেও এখন তা শুন্যের কোটায় দাঁড়িয়েছে কারন পিঁয়াজি তৈরির অন্যতম উপাদানই হল পিঁয়াজ। দাম অনেকটা নাগালের বাহিরে যাওয়ায় দোকানদাররাও আর পিঁয়াজি তৈরি করছেন না। আর অল্প কিছু দোকানদার পিঁয়াজি তৈরি করলেও পিঁয়াজির দাম বৃদ্ধির কারনে ক্রেতারাও তা খাচ্ছেন না।
সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার(১৫নভেম্বর)সকালে বদরগঞ্জ পৌরবাজার ঘুরে দেখা যায়,দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২৭০টাকায় আর দেশের বাহিরের(বোল্ডার)পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২শত হতে ২২০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থ্যাৎ এক হালি পেঁয়াজের দামে পাওয়া যাচ্ছে দেড় হালি(৬টি)ডিম।
কাঁচাবাজার করতে আসা পৌরশহরের বালুয়াভাটা মহল্লার বাসিন্দা জান্নাতুল বাকি জানান,কাঁচাবাজারের অন্যান্য জিনিষ পত্রের দাম কিছুটা বেশি হলেও তবুও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের দাম তো কিছুতেই পড়ছে না। বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই বাসার জন্য ১ পোয়া পিঁয়াজ(বোল্ডার)৫৫টাকায় কিনলাম।
তিনি আরও জানান,আমি হিসেব করে দেখলাম,এক হালি পেঁয়াজে অনায়েসে দেড় হালি ডিম পাওয়া যাচ্ছে।
বদরগঞ্জ পৌরবাজারের পাইকাড়ি পেঁয়াজ বিক্রেতা এনামুল হক ও আকবার আলি জানান,আমরা দেশের বড় বড় মোকাম হতে দেশি ও বোল্ডার পিঁয়াজ কিনে এনে বদরগঞ্জ সহ বিভিন্ন জায়গায় পাইকাড়ি দরে বিক্রি করি। বর্তমানে পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারে এর বেশ প্রভাব পড়েছে। তবে দেশি পিঁয়াজ বাজারে আসলেই পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে যাবে।
বদরগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকার খুচরা কাঁচামাল ব্যবসায়ি মাহাবুল ইসলাম জানান,আমরাও বুঝি পিঁয়াজের দাম অনেক বেশি। আগে আমার দোকানের জন্য পিঁয়াজ কিনে আনতাম বস্তায় বস্তায়,এখন কিনে আনি ২০কেজি হতে ৪০ কেজি।
বদরগঞ্জ উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক রায় জানান,পেঁয়াজ সংকটের কথা মাথায় রেখে আমরা এখন হতেই কৃষকদের পিঁয়াজ সহ মশলা জাতীয় ফসল চাষের জন্য উৎসাহিত করছি যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মশলা জাতীয় ফসলের সংকট রোধ করা যায়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫নভেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৯

অর্থের অভাবে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না বদরগঞ্জের শিউলি খাতুন


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

শুধুমাত্র অর্থের অভাবে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না বদরগঞ্জের অদম্য মেধাবি শিউলি খাতুন। শিউলির বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে ৯কিমি দুরে দামোদরপুর ইউপির শেখেরহাট এলাকার নয়াপাড়া গ্রামে। ভুমিহীন গরীব দর্জি পিতা গোলবার হোসেনের ৭ সন্তানের মধ্যে শিউলি ৫ম। পরিশ্রম আর ইচ্ছা শক্তির উপর ভর করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় নিয়ে বাড়ি হতে ৯ কিমি দুরের পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন পাঁয়ে হেঁটে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় নিয়মিত ক্লাশ করতেন শিউলি খাতুন। ২০১৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর গরীব মেধাবি শিউলি খাতুন কোন ধরনের কোচিং ছাড়াই বাড়িতে পড়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ঘ ইউনিটে মেধা তালিকায় ১৩৮তম স্থান লাভ করে। বর্তমানে শিউলি সকল প্রতিবন্ধকতাকে হার মানালেও অর্থের কাছে হার মানতে বাধ্য হচ্ছেন। কারন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ১৩৮তম সিরিয়ালে চান্স পাওয়া মেধাবি শিউলির মনে উৎকন্ঠা সে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে তো !
মেধাবি শিউলির পিতা ভুমিহীন গোলবার হোসেন জানান,আমি খুব গরীব মানুষ। আমার বাড়ি ভিটে ছাড়া কিছুই নেই। আমার ৭ সন্তান। দর্জির কাজ করে কোন রকমে সংসার চালাই। খুব চিন্তায় আছি কিভাবে মেয়েটিকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি করাবো ?
তিনি জানান,শিউলির লেখাপড়াতে এত আগ্রহ ছিল যে,অনেক দিন সে না খেয়ে পাঁয়ে হেঁটে মহিলা কলেজে যেত। টাকা পয়সা তো দিতে পারতাম না। বিশ^াস ছিল, যত কষ্ট করে মেয়েটি আমার পড়াশুনা করছে সে একদিন ভাল করবেই। 
তিনি আরও জানান,বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপাল বিমলেন্দু সরকার সহ কলেজের সকল শিক্ষকরা তাকে খুব ভালবাসতো এবং লেখাপড়ায় সহযোগিতা করতো।
মেধাবি শিউলি খাতুন জানান,না খেয়ে পাঁয়ে হেটে কষ্ট করে আমি এতদুর এগিয়েছি,জানিনা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে চান্স পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারবো কিনা ? আমি জানি, আমার গরীব বাবা আমাকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি করা সহ পড়াশুনার খরচ যোগাতে পারবে না। সমাজের বিবেকবান কেউ যদি আমার লেখাপড়ার ভার বহন করতো আমি তার কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকতাম। 
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান,শিউলি অসম্ভব মেধাবি মেয়ে। কোন ধরনের কোচিং বা কারো সাহায্য ছাড়াই সে একাকি বাড়িতে পড়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় ১৩৮তম স্থান করে নিয়েছে।
আমি আশা করবো,সমাজের বিবেকবান কেউ মেয়েটির উচ্চ শিক্ষার পথ প্রশস্ত করতে এগিয়ে আসবেন।
আমি এও মনে করি,ভবিষ্যতে শিউলিকে অনুসরন করে আমার কলেজের অন্য শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রেরনা পাবে। 
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৫ নভেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৯

বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে নবনির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন ও নবীনবরন অনুষ্ঠিত


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে নবনির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন ও নবীনবরন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার(৪ নভেম্বর)সকালে মহিলা ডিগ্রি কলেজে নবনির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন রংপুর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক। পরে নবীনবরন অনুষ্ঠিত হয়। প্রভাষক মফিজুল ইসলাম ও প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা এর উপস্থাপনায় অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকারের সভাপতিত্বে নবীনবরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট,বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার,মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কাজি খয়রাত হোসেন,কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আ.ম.আ.কাইয়ুম,বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মেছের উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা আওয়ামিলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এমডি শামসুল হক,কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মনি কৃষ্ণ রায়,বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ।
পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে গান পরিবেশন করেন,বদরগঞ্জ থানার এসআই ওয়াজেদ আলি,নৃত্য পরিবেশন করেন একাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রি কনা রায়, এছাড়াও বাল্য বিবাহ ও অসম বিয়ের উপর নাটিকা পরিবেশন করেন একাদশ শ্রেনির ছাত্রি পিউ দাস ও তার দল।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৪ নভেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৯

যানজটের শহর বদরগঞ্জ এখন অনেকটাই যানজটমুক্ত







কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

এমারুল হক(৫৭)। বাড়ি উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামে। বদরগঞ্জের হাটবার(সোম ও বৃহঃস্পতি) হওয়াতে তিনি হাটে এসেছেন লাউ ও কাঁচা মরিচ বিক্রি করতে। হাটে এসে তিনি অবাক। হাটবার সহ অন্যদিনেও যে বদরগঞ্জে রাস্তায় যানজট সহ রাস্তার ধারে অগোছালো ভ্রাম্যমান দোকানের কারনে বিশেষ করে হাটের দিনে আসায় দায় হতো অথচ আজ সব কিছুই ফাঁকা। সব কিছুতেই শৃঙ্খলা। নিজের জমির সব্জি বিক্রির পর বাড়ির প্রয়োজনীয় সওদা ক্রয় করে বাড়ির দিকে রওনা হচ্ছেন।
সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গতকাল বৃহঃস্পতিবার(৩১অক্টোবর)দুপুরে বদরগঞ্জ পৌরসভা ঘুরে বেড়ার এক পর্যায়ে দেখা হয় কৃষক এমারুলের সাথে,তিনি এই প্রতিবেদককে জানান,গত হাটবার অর্থ্যাৎ সোমবারেও এত সুন্দর সুশৃঙ্খল পরিবেশ ছিল না। হঠাৎ হাটের এই সুন্দর সুশৃঙ্খল পরিবেশ কিভাবে ফিরে এল এটাই ভাবছি। তিনি আরও জানান,পরে লোকমুখে শুনলাম বদরগঞ্জ থানার নতুন ওসি এসে এই সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
পরে গোটা পৌরশহরের হাট এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,নিত্য দিনের যানজটের অসহনীয় যন্ত্রনার দৃশ্য অনেকটাই নেই বললেই চলে।
এ সময় কথা হয় যানজট এলাকা নামে পরিচিত হক সাহেবের মোড় এলাকার রড সিমেন্ট ও টিন ব্যবসায়ি জাহাঙ্গীর সরকারের সাথে,তিনি জানান,দীর্ঘ দিনের যানজট দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম,আজ দেখছি অনেকটাই ভিন্ন চিত্র। সত্যিই ভাল লাগছে। বদরগঞ্জে প্রশাসন বিশেষ করে বদরগঞ্জের ওসিকে ধন্যবাদ জানাই তিনি বদরগঞ্জে নতুন এসেই এই ভাল কাজটি করলেন।
কথা হয় দুধহাটি এলাকার তৈরি কাপড় ব্যবসায়ি কৃষ্ণ কুমার সাহার সাথে,গত কয়েকদিন আগেও একদিকে কাঁচা বাজার ব্যবসায়িদের ভীড় অন্যদিকে যত্রতত্র রিক্সা ভ্যান আর অটো রিক্সার দৌরাত্বের কারনে দোকানে কাষ্টমার আসতে পারতো না। অথচ আজ হাটবার হওয়ার পরও নিবিঘের্œ মানুষ চলাচল করতে পারছে। তিনি আরও জানান,জানি না,ক-দিন এত সুন্দর পরিবেশ থাকবে। আমি আশা করবো এই সুন্দর পরিবেশ যেন অব্যাহত থাকে।
কথা হয় বদরগঞ্জ কলেজ শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক প্রভাষক আঃ সালামের সাথে,তিনি জানান,যানজট খ্যাত বদরগঞ্জের এই সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনাতে বদরগঞ্জে নতুন ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার সাহেবকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যানজট সহ বদরগঞ্জের শৃঙ্খলা ফেরাতে ওসি সাহেবের এই মহতি উদ্যোগকে উপজেলার সকল মানুষ তাকে সহযোগিতা করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করি।
বদরগঞ্জ থানার নবাগত ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান,আমি বদরগঞ্জে নতুন এসেছি। বাল্যবিবাহ,মাদক,যানজট ও সুন্দর পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনাদের সহযোগিতা পেলে কাজগুলি করতে আমার খুব সহজ হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩১অক্টোবর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
   




বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বৃক্ষ যেন জীবন্ত সাইনবোর্ড





কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

লোহার পেরেকে ক্ষত-বিক্ষত গাছগুলি। ক্ষত-বিক্ষত শরীরে প্রচন্ড যন্ত্রনা নিয়ে নিরবে যেন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। কারন গাছে বড় বড় পেরেক দিয়ে সাঁটানো হয়েছে ছোট বড় সাইনবোর্ড আর বিলবোর্ড। যেন দেখার কেউ নেই! 
উপমহাদেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানি জগদীশ চন্দ্র বসু প্রমান করেছেন বৃক্ষের যেমন জীবন আছে,তেমনি তার যন্ত্রনা অনুভবের বিষয়টিও রয়েছে।
অথচ আমরা অক্সিজেন ফ্যাক্টরি নামে খ্যাত গাছগুলির শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে একদিকে যেমন অমানবিক কাজ করছি অন্যদিকে গাছটি নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনী শক্তি হারিয়ে মারা পড়ছে।
সরেজমিনে গত বুধবার(১৮সেপ্টেম্বর) বদরগঞ্জ উপজেলা ঘুরে পৌরশহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলি সহ উপজেলার ১০ ইউনিয়নের রাস্তার ধারে লাগানো গাছগুলিতে  বড় বড় লোহার পেরেক দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে ছোট বড় সাইনবোর্ড আর বিলবোর্ড সাঁটানোর দৃশ্যই চোখে পড়ে।
কথা হয় বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানার সাথে,তিনি জানান,পৌরশহর সহ গোটা উপজেলায় রাস্তার ধারের গাছগুলিতে ব্যক্তি,প্রতিষ্ঠান ও ডাক্তারদের বড় বড় পেরেক মেরে ছোট বড় সাইনবোর্ড বিলবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। পেরেকের অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে গাছগুলি কোন রকমে বেঁচে আছে। যেন দেখার কেউ নেই। 
কথা হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান,বৃক্ষের প্রতি মানুষের সদয় ও যতœবান হওয়া উচিত। কারন বৃক্ষ ছাড়া আমরা বাঁচতে পারবো না।
‘গাছ লাগাও পরিবেশ বাঁচাও’ নামক সংগঠনের বদরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম জানান, পেরেক দিয়ে জীবন্ত গাছে সাইন বোর্ড লাগানো  ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। গাছের সাথে এ নিষ্ঠুর আচরন বন্ধের তিনি জোর দাবি জানান।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান,জীবন্ত গাছে পেরেক মেরে সাইন বোর্ড লাগানো ঠিক না। এতে গাছটি নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মরে যেতে পারে অথবা গাছটি বিকৃত হয়ে ফুল ফল উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পেতে পারে।
উপজেলা বন বিট অফিসার মোর্সেদ আলম জানান,জীবন্ত গাছে লোহার পেরেক দিয়ে সাইন বোর্ড লাগানো অবৈধ,ফরেষ্ট আইনে এটি দন্ডনীয় অপরাধ।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার আমিনুল ইসলাম(অতিরিক্ত দায়িত্ব)মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯সেপ্টেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 






মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বদরগঞ্জ প্লাটফর্মের যাত্রি ছাউনির বেহাল দশা,যাত্রিদের দুর্ভোগ চরমে



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আরিফুর রহমান আবির। বিশ^বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে চাকুরি করছেন ঢাকার একটি বেসরকারি একটি ফার্মে। বাড়িতে এসে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বদরগঞ্জ প্লাটফর্মে এসেছেন রংপুরে যাবেন বলে। এই সময় বৃষ্টি,তাই তিনি বাধ্য হয়ে চলে এলেন প্লাটফর্মের যাত্রি ছাউনির নীচে। কিন্তু একি! যাত্রি ছাউনি দিয়ে পানি পড়ছে অবিরত। জামা প্যান্ট ভিজে একাকার। তিনি দেখছেন,আর ভাবছেন এতো কোন যাত্রি ছাউনি নয়,এ যেন কোন ঝর্নাধারা। বদরগঞ্জ রেলষ্টেশনের যাত্রি ছাউনির এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানালেন আবির।
শুধু আবির নয় এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানালেন সকালে প্লাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত যাত্রি কারমাইকেল বিশ^বিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী শিউলি বেগম।
শিক্ষার্থী শিউলি বেগম বলেন,বৃষ্টিতে যাত্রিছাউনির নীচে দাঁড়িয়ে আমার কি লাভ হল ? আমি তো ভিজে একাকার। এই অবস্থায় আমি এখন কিভাবে রংপুরে যাব। জরুরি ক্লাশ ছিল। সামনে আমার পরীক্ষা।
সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার(১৭সেপ্টেম্বর)সকালে বদরগঞ্জ প্লাটফর্মে গিয়ে যাত্রি ছাউনির নিচে দাঁড়ানো অপেক্ষমান ট্রেনের যাত্রিদের এই দুর্ভোগের চিত্রই চোখে পড়ে।
আরও চোখে পড়ে প্লাটফর্মের যাত্রিছাউনির নীচে বসার স্থানে বৃষ্টির পানিতে ঝবুথবু হয়ে ছোট নাতিকে নিয়ে কোন রকমে বসে থাকা বৃদ্ধা আমেনা বেগম(৬৫)কে। তিনি ট্রেনে যাবেন শ্যামপুরে। বদরগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান,গাও(শরীর)তো ভিজি একাকার,এখোন কি আর করা যাইবে,বাড়িততো যাবার নাগবে। ভয় নাগোছে ঝড়ির(বৃষ্টি)পানিত যদি নাতিটার জ¦র আইসে। 
বদরগঞ্জ প্লাটফর্মে যাত্রি ছাউনিটি নির্মিত হয় ২০০০ সালের ২১জুলাই। এই সময়ের মধ্যেই যাত্রিছাউনিটির টিন মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। গোটা যাত্রি ছাউনি দিয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরে। আকাশ মেঘ করে এলেই ট্রেনের যাত্রিরা জামা কাপড় ভিজে যাবার ভয়ে ভীত হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে কথা হয় বদরগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশন ম্যানেজার আঃ মাজেদের সাথে,তিনি জানান,উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে এই যাত্রি ছাউনিটির বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি,আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর সমাধান হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭সেপ্টেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪






 



শনিবার, ৮ জুন, ২০১৯

কয়েকদিন পরেই বাজারে আসতে শুরু করবে আমের রাজা হাড়িভাঙ্গাঁ


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই বাজারে আসতে শুরু করবে আমের রাজা হাড়িভাঙ্গা। পাতলা পর্দা মাংসল বিশিষ্ট আর সু-স্বাদু হবার কারনে আমটির এত জনপ্রিয়তা। হাড়িভাঙ্গা আম পছন্দ করেন না দেশে এমন মানুষ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। ইতোমধ্যে আমটি লালচে আভা ছড়াতে শুরু করেছে। রংপুর অঞ্চলের মানুষ এখন আর হাড়িভাঙ্গা আমটিকে শুধু আর আম হিসেবেই দেখছেন না,দেখছেন গ্রামিন অর্থনীতির অফুরন্ত সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার(৮জুন)বদরগঞ্জ উপজেলার আম বাগান ঘুরে হাড়িভাঙ্গা আমের লালচে বর্ন ধারন করার চিত্রই চোখে পড়ে।
কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউপির হাড়িভাঙ্গা আমচাষি মাহাফুজ ওয়াহিদ চয়নের সাথে,তিনি জানান,গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আমার বাগানে অনেক বেশি আম ধরেছে। শুধু আমার বাগানেই আম বেশ ধরেছে তাই নয় কম বেশি সকলের আম বাগানে পর্যাপ্ত পরিমানে আম ধরেছে।
তিনি জানান,এ বছর আমি আম বাগান বিক্রি করেছি ৪২ লক্ষ টাকায়। যারা বাগান কিনেছে আশা করছি এবার তাদের অনেক বেশি লাভ হবে।
তিনি আরও জানান,এ বছর আম বাগানগুলোতে যে পরিমানে আম ধরেছে,যদি আমগুলোকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষন করা যেতো তাহলে কয়েক বছরের ঘাটতি পুরন করা সম্ভব হতো। সাধার মানুষও সারা বছর সু-স্বাদু এই আম পেত।
কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির আমচাষি হাসান মাহমুদের সাথে,তিনি জানান,এ বছর আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। রাজশাহীর এক আম ব্যবসায়ির কাছে বাগান বিক্রি করেছি ৪৫লক্ষ টাকায়। আশা করছি আমার বাগান কিনে তারাও অনেক লাভবান হবেন।
তিনি জানান, ১২’শত হাড়িভাঙ্গা আম গাছ নিয়ে আমার বাগান। ইতোমধ্যে আমে রং আসতে শুরু করেছে। বাজারে আসতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।
তিনি আরও জানান,আমে অহেতুক কীটনাশক প্রয়োগ কিংবা মানুষের স্বাস্থ্যহানি হবে না এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আমি আমার বাগান পরিচর্যায় নিজেই সময় দিয়েছি। দাম দিয়ে মানুষ আম কিনবে আর আম স্বাস্থ্য স¤œত হবে না এটা কি হয় ? আমি চাই আমার বাগানের আম মানুষ নিশ্চিন্তে ক্রয় করুক। কারন এটাই আমার ব্যবসার পুঁজি। সততা ছাড়া তো আর ব্যবসা হবে না।
বদরগঞ্জ উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,বদরগঞ্জ উপজেলায় হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগান রয়েছে ৩৯৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি।
তিনি আরও জানান,এ বছর হাড়িভাঙ্গা আমের বাম্পার ফলন হয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম মোস্তফা মোঃ জোবাইদুর রহমান জানান,বদরগঞ্জে হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগানের সংখ্যাই বেশি। ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় হাড়িভাঙ্গা আম বাগানের সংখ্যা এ উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে।
তিনি আরও জানান,হাড়িভাঙ্গা আমটিকে যদি প্রকৃত অর্থে সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা যেত তাহলে শুধু রংপুর অঞ্চলে নয় জাতীয় অর্থনীতিতে আমটি গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখতে পারতো।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৮জুন/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


 


শুক্রবার, ৭ জুন, ২০১৯

বদরগঞ্জ উপজেলা ক্রিকেট প্রিমিয়ারলীগ-২০১৯ উদ্বোধন



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


মাদক ও জুয়াকে না বলি,ক্রিকেটকে হাঁ বলি এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে ধারন করে বদরগঞ্জ উপজেলা ক্রিকেট প্রিমিয়ারলীগ-২০১৯ প্রথম আসরের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার(৭জুন)বিকেলে বাসষ্ট্যান্ড বয়েজ ক্লাবের আয়োজনে বদরগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে ক্রিকেট প্রিমিয়ালীগের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদ সদস্য রংপুর-২ আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক।
সাংবাদিক আঃ রাজ্জাক রাজুর সার্বিক সহযোগিতায় বাসষ্ট্যান্ড বয়েজ ক্লাবের সভাপতি আশিকুর রহমান শুভ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট,উপজেলা নির্বাহি অফিসার নবীরুল ইসলাম,পৌর মেয়র উত্তম সাহা,জেলা পরিষদ সদস্য মমতাজ আলি,মোহসিনা বেগম,উপজেলা আওয়ামিলীগের সাধারন সম্পাদক টুটুল চৌধুরি,বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম,বিশিষ্ট ঠিকাদার রবিউল ইসলাম রবি,উপজেলা আওয়ামি যুবলীগের আহবায়ক হাসান তবিকুর চৌধুরি পলিন।
আরও উপস্থিত ছিলেন,বদরগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রভাষক আব্দুল্লাহ্ আল মামুন,প্রভাষক মমিনুল হক প্রমুখ।
উল্লেখ্য,ক্রিকেট প্রিমিয়ারলীগে পৌরশহরের ৪টি দল অংশ গ্রহন করে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৭জুন/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


 

 


বুধবার, ১৫ মে, ২০১৯

আত্ম মানবতার সেবায় বদরগঞ্জের গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ
 গৃহহীন,নাম পরিচয়হীন,অসুস্থ্য মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করছে বদরগঞ্জের গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামে এক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে ৬কিঃমিঃ
পশ্চিমে রামনাথপুর ইউপির হাসিনা নগর নামক স্থানে। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন ২০১২ সালে মারুফ কেইন নামে এক যুবক। শুরুতে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির পথ চলা শুরু হলেও বর্তমানে এলাকার অনেকেই বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত। 

৪টি খড়ের আঁটি,২টি চটের বস্তা,১টি কম্বল আর ভাড়া করা টিনশেড ঘর দিয়ে শুরু হয়েছিলো এর কার্যক্রম। ধীরে ধীরে এগিয়ে আসেন অনেকেই। এভাবে এক মুষ্টি চাল হতে যেমন ১কেজি চাল,তেমনিভাবে গ্লাস,প্লেট,মশারি,পুরাতন কাপড় সহ প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র অসহায় মানুষের সেবায় যোগ হতে থাকে প্রতিদিন।
প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বাড়ার সাথে সাথে মারুফ কেইন তার নিজের অর্থে কেনা জমিটুকুও দান করেন সংস্থাটির নামে। আর এখানেই গড়ে ওঠে গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নিজস্ব অবকাঠামো।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার(১৪মে)সকালে উপজেলার রামনাথপুর ইউপির হাসিনানগর নামে গ্রামে অবস্থিত গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়ে গিয়ে পরিচয়হীন অসহায় গৃহহীন নারীদের চোখে পড়ে। তাদের বেশিরভাগই মানষিকভাবে অসুস্থ্য হওয়ায় তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
কথা হয় গ্লোরি সমাজ উন্নয়ন সংস্থ্যার নির্বাহি পরিচালক মারুফ কেইনের সাথে,তিনি জানান,রাস্তার ধারে বাসষ্ট্যান্ড কিংবা ষ্টেশন চত্ত্বরে কিছু পরিচয়হীন মানুষ খাবার কিংবা চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর প্রহর গুনছে,আমরা তাদেরকে আমাদের এখানে নিয়ে এসে যতœ ও সেবা দিয়ে থাকি। সুস্থ্য হওয়ার পর যারা নাম ঠিকানা বলতে পারেন আমরা তাদের পরিবার পরিজনকে ডেকে তাদের হাতে হস্তান্তর করি।
আর যারা নাম ঠিকানা বলতে পারেন না আমরা তাদের আমাদের এখানে আজীবন রাখার ব্যবস্থা করি। বর্তমানে আমাদের এখানে ৪৫জন অসহায় গৃহহীন মানুষ বাস করছে।
তিনি আরও জানান,সরকারের পাশাপাশি দেশের বিত্তবান মানুষদের কাছ হতে সহায়তা পেলে অসহায় এই মানুষগুলিকে সেবা দেয়া তার সংস্থার জন্য আরও সহজ হবে।
রামনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানান,মারুফ কেইন মানবতার সেবায় যে কাজগুলি করছে তাকে সাধুবাদ জানাই। আমি আশা করবো সমাজের বিত্তবান মানুষরা অসহায় এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫মে/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪













বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৯

লিচুর দানায় প্রোথিত কৃষকের আগামির স্বপ্ন



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

কয়েক দিন আগেও লিচু গাছগুলি ছিল মুকুলে পূর্ন। সময়ের সাথে সাথে মুকুলের পেট চিড়ে বের হয়েছে দানা। এ দানাগুলিতে যেন প্রোথিত রয়েছে কৃষকের স্বপ্ন। আগামির স্বপ্নে বিভোর কৃষকরা তাই তাদের লিচু বাগানকে পরিচর্যা করে চলেছেন পরম মমতায়। কারন এরই উপর নির্ভর করছে নিজেদের আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়া,সন্তানদের লেখাপড়া সহ ভরনপোষনের কাজ। তাই তাদের এই প্রাণান্তকর চেষ্টা।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার(৯এপ্রিল)উপজেলার লিচু বাগান ঘুরে দেখা যায়,কেউ সার মাটি দিয়ে গাছের গোড়া পরিচর্যা করছেন কেউবা ভিটামিন-হরমোন স্প্রে করছেন,যাতে লিচুর দানাগুলি দ্রুত পূর্ণতা পায়।
কথা হয় উপজেলার রাধানগর ইউপির দিলালপুর মাদারগঞ্জের লিচু চাষি আফজাল হোসেনের সাথে,তিনি জানান,এবার আমার বাগানে লিচু বেশ ধরেছে। এই সময়টাতে গাছের পরিচর্যা খুব জরুরি। তা না হলে কাঙ্খিত ফলন পাব না।
তিনি আরও জানান,বৈরি আবহাওয়ার কারনে একটু শংকায় আছি,যদি আবহাওয়া অনুকুলে থাকে কয়েক লক্ষ টাকার লিচু বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি। 
কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউপির জামুবাড়ি(মায়াভুবন)গ্রামের লিচু চাষি রায়হান গোলাম কবিরের সাথে,তিনি জানান,আমার ১০বিঘা জমির উপর লিচু বাগান। আমার বাগানে চায়না থ্রি,বেদনা এবং বোম্বে জাতের লিচু গাছ আছে। এই সময়টাতে বেশি ভয় লাগে কারন কখন যে আবহাওয়া বৈরি হয় ? আর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে গত বছরের চাইতে লিচুর বেশি ফলনের আশা করছি।  
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক রায় জানান,উপজেলায় ৩৭০হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা আছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহাবুবর রহমান জানান,এ উপজেলায় দিন দিন লিচু বাগানের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যদি আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকুলে থাকে তবে লিচু চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১০এপ্রিল/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শনিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৯

এমপি ডিউককে মন্ত্রি হিসেবে দেখতে চায় বদরগঞ্জবাসি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
একজন বিনয়ি মিশুক ও সজ্জন ব্যক্তির নাম আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক এমপি। এলাকায় ডিউক নামেই যার ব্যাপক পরিচিতি। সদ্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যিনি বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হওয়ার কারনে রংপুর-২(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ)তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নও করেছেন। ফলশ্রুতিতে তিনি আবারও হয়েছেন সংসদ সদস্য।
সাধারন মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয় হবার অন্যতম কারন হল,যে কোন সমস্যা নিয়ে যে কেউ অনায়েসে তার কাছে পৌঁছাতে পারেন। সাধারন মানুষ তাকে(এমপি মহোদয়)জানাতে পারে তাদের কষ্টের কথা,ভাললাগার কথা এবং তিনি ধৈর্যের সাথে মানুষের কথা শুনে তা সমাধানের চেষ্টা করেন। এই বিষয়টি তার সবচাইতে বড় গুন। কারন এ অঞ্চলের মানুষ আরও অনেক সংসদ সদস্যকে দেখেছেন তাদের কাছে পৌঁছানো সাধারন মানুষের জন্য এক সময় একটি কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিল।
আমরা সবাই জানি,মরহুম আনিছুল হক চৌধুরি(সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রি)পর দীর্ঘ সময়(বছর)অতিবাহিত হয়ে গেলেও এই সংসদীয় আসনের কোন এমপি মন্ত্রি হতে পারেননি।
আমরা সাধারন মানুষ এও জানি,একজন এমপি তার নিজ নির্বাচনী এলাকার জন্য আপ্রান চেষ্টা করেও যতটুকু কাজ করতে পারেন,যদি সেই নির্বাচনী এলাকার কোন এমপি মন্ত্রি হন তাহলে যে উন্নয়নের বন্যা বয়ে যায়,এ বিষয়টিও আমরা সাধারন মানুষ ভালভাবেই জানি এবং বুঝি।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বিশে^র মানচিত্রে বাংলাদেশকে যে আকাশসম উচ্চতায় নিয়ে গেছেন আমি একজন অতি সাধারন নাগরিক হিসেবে গর্ববোধ করি। আরও গর্ববোধ করি তার মানবতার জন্য। যিনি মিয়ানমারের অসহায় নাগরিকদের দেশে আশ্রয় দিয়েছেন। কারন আমরাও তো একটা সময়ে(মহান মুক্তিযুদ্ধ)অন্য দেশের আশ্রিত ছিলাম। এটাই মহানুভবতা। যে দেশের প্রধানমন্ত্রি এতটা মহানুভব হতে পারেন সেই দেশের একজন সাধারন নাগরিক হিসেবে আমি গর্ববোধ করতেই পারি। আরও গর্ববোধ করি বাংলাদেশ আমার প্রিয় জন্মভুমি।
আমরা রংপুর-২(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ)নির্বাচনী এলাকার সাধারন মানুষ,আমাদের মহানুভব প্রধানমন্ত্রি জননেত্রি শেখ হাসিনার কাছে আবেদন নিবেদন ও অনুরোধ করছি,আমাদের এলাকার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক ভাইকে মন্ত্রিত্ব দিয়ে আপনার নির্বাচনী অঙ্গিকার “প্রতিটি গ্রামকে শহরে রুপান্তরিত করার” লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়নের কাজে(এমপি ডিউককে)পাশে রাখবেন। আমার মত আমাদের নির্বাচনী এলাকার সকল সাধারন মানুষও চায় ডিউক ভাই মন্ত্রি হয়ে আমাদের(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) এলাকার আরও আরও বেশি উন্নয়ন করবেন। আগামির সুখি সমৃদ্ধশালি উন্নত বাংলাদেশ দেখার প্রত্যাশায়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৫জানুয়ারি/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...