মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বদরগঞ্জ প্লাটফর্মের যাত্রি ছাউনির বেহাল দশা,যাত্রিদের দুর্ভোগ চরমে



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আরিফুর রহমান আবির। বিশ^বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে চাকুরি করছেন ঢাকার একটি বেসরকারি একটি ফার্মে। বাড়িতে এসে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বদরগঞ্জ প্লাটফর্মে এসেছেন রংপুরে যাবেন বলে। এই সময় বৃষ্টি,তাই তিনি বাধ্য হয়ে চলে এলেন প্লাটফর্মের যাত্রি ছাউনির নীচে। কিন্তু একি! যাত্রি ছাউনি দিয়ে পানি পড়ছে অবিরত। জামা প্যান্ট ভিজে একাকার। তিনি দেখছেন,আর ভাবছেন এতো কোন যাত্রি ছাউনি নয়,এ যেন কোন ঝর্নাধারা। বদরগঞ্জ রেলষ্টেশনের যাত্রি ছাউনির এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানালেন আবির।
শুধু আবির নয় এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানালেন সকালে প্লাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত যাত্রি কারমাইকেল বিশ^বিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী শিউলি বেগম।
শিক্ষার্থী শিউলি বেগম বলেন,বৃষ্টিতে যাত্রিছাউনির নীচে দাঁড়িয়ে আমার কি লাভ হল ? আমি তো ভিজে একাকার। এই অবস্থায় আমি এখন কিভাবে রংপুরে যাব। জরুরি ক্লাশ ছিল। সামনে আমার পরীক্ষা।
সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার(১৭সেপ্টেম্বর)সকালে বদরগঞ্জ প্লাটফর্মে গিয়ে যাত্রি ছাউনির নিচে দাঁড়ানো অপেক্ষমান ট্রেনের যাত্রিদের এই দুর্ভোগের চিত্রই চোখে পড়ে।
আরও চোখে পড়ে প্লাটফর্মের যাত্রিছাউনির নীচে বসার স্থানে বৃষ্টির পানিতে ঝবুথবু হয়ে ছোট নাতিকে নিয়ে কোন রকমে বসে থাকা বৃদ্ধা আমেনা বেগম(৬৫)কে। তিনি ট্রেনে যাবেন শ্যামপুরে। বদরগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান,গাও(শরীর)তো ভিজি একাকার,এখোন কি আর করা যাইবে,বাড়িততো যাবার নাগবে। ভয় নাগোছে ঝড়ির(বৃষ্টি)পানিত যদি নাতিটার জ¦র আইসে। 
বদরগঞ্জ প্লাটফর্মে যাত্রি ছাউনিটি নির্মিত হয় ২০০০ সালের ২১জুলাই। এই সময়ের মধ্যেই যাত্রিছাউনিটির টিন মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। গোটা যাত্রি ছাউনি দিয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরে। আকাশ মেঘ করে এলেই ট্রেনের যাত্রিরা জামা কাপড় ভিজে যাবার ভয়ে ভীত হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে কথা হয় বদরগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশন ম্যানেজার আঃ মাজেদের সাথে,তিনি জানান,উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে এই যাত্রি ছাউনিটির বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি,আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর সমাধান হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭সেপ্টেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪






 



২টি মন্তব্য:

  1. আপনার পোষ্টটি আসলেই বিবেক নাড়া দেয়ার মত। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় যাদের দেখা উচিত তারা দেখে না আর যদিওবা চলার পথে একটু থেমে দেখে সেটা হয়তোবা গ্রীষ্ম মৌসুমে। আপনার দেখা ঝরনা ধারার পাশেই রিপিয়ারিং এর কাজ চলছে কিন্তু ঠিকাদার বা ইঞ্জিনিয়ার আসে না । এ যেন অটো প্লের মত। সরকারী কাজ হলে বিলবোর্ড দিয়ে কাজের নাম , শুরুর তারিখ, বাজেট, ঠিকাদারীর প্রতিষ্ঠানের নাম ইত্যাদি দেয়া থাকে। এখানেও হয়তো দেয়া আছে ফাইলের ভিতরে। আমাদের এখান থেকে ঝিরনা দেখতে সিলেট চট্রগ্রাম যেতে হবে না । শুধু বর্ষার মৌসুমে বাদল ঝড়া দিনে বদরগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে যে কোন স্টেশনের টিকেট নিয়ে প্লাটফরমে দাড়ালেই আপনার দেখা সেই ঝরনা চোখের সামনে ভেসে উঠবে। এরকম জনদূর্ভোগের সরেজমিনে দেখা যে চিত্র আপনি তুলে ধরেছেন সে জন্য প্রতিবেদককে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না। আপনি এ ভাবে লিখলেই হয়তোবা ভূল বশত রেল কতৃপক্ষের চোখে পরলেও পড়তে পারে। তাতে হয়তো সমস্যা সমাধানের দিক উম্মেচিত হলেও হতে পারে। ধন্যবাদ ছোট ভাই মুক্তাকে।

    উত্তরমুছুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...