কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ ঃআর মাত্র ৬দিন পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে,ততই বেড়ে যাচ্ছে প্রার্থীদের টেনশন আর ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে রংপুর-২(বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ)আসনে তৈরি হয়েছে নির্বাচন মুখর এক পরিবেশ। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রতীক/প্রার্থীকে ভোট প্রদানের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন। আর তরুন ভোটার তথা নতুন ভোটাররা তো অস্থির হয়ে আছেন তাদের জীবনের প্রথম ভোটটি পছন্দের প্রার্থীকে প্রদানের জন্য।
গত ১৮ডিসেম্বর “রংপুর-২ আসনের নির্বাচনী পোষ্টমর্টেম শিরোনামে”একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিলো। অনেকেই দেখেছেন আবার অনেকেই লাইক কমেন্ট ও শেয়ারও করেছেন। আপনাদের মতামতের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে আমার সকল ফেসবুক বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং অন্তরের অন্তস্থল হতে নতুন বছরের(২০১৯)শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
আমি একজন সাধারন ভোটার ও সংবাদকর্মি হিসেবে “গত ১৮ডিসেম্বরের পর হতে এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত যদি মুল্যায়ন করি” তাহলে বর্তমানে(২৩ডিসেম্বর)নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে,লাঙ্গলের তীক্ষ্ম ফলায় উর্ব্বর জমি তৈরি আর ধানের শীষে কম ফলনের শংকা দেখা দিয়েছে।
আমি আমার ১৮ ডিসেম্বরের “নির্বাচনী পোষ্ট মর্টেম” লেখার এক অংশে বলেছিলাম“নির্বাচনে শেষ কথা বলে কিছু নেই এবং সময়ের সাথে সাথে মানুষের মনেরও পরিবর্তন ঘটে।”
আজ এই বিষয়টি নিয়েই কিছু বলতে চাই।
আওয়ামিলীগের অর্থ্যাৎ নৌকার পালে জোরেসোরে হাওয়া লেগেছে এ জন্য যে,ঐক্যবদ্ধ আওয়ামিলীগ ও তাদের কর্মি সমর্থকরা যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এটি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। আর ঘুরে দাঁড়াবেই না বা কেন ? বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ একটি ঐতিহ্যবাহি দল। যে দলটির রয়েছে পরতে পরতে ঐতিহ্য আর কঠিনতম সময়েও ঘুরে দাঁড়ানোর অসংখ্য (অভিজ্ঞতা)নজির। এছাড়াও রয়েছে বিশাল কর্মিবাহিনী ও তাদের ভোট ব্যাংক। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে প্রার্থী,নেতা-কর্মি ও সমর্থকদের দিনরাত পরিশ্রমের ফলে তারা তাদের একটি লক্ষে পৌঁছে গেছে বা পৌঁছাতে পারবে বলে আমি মনে করি। তবে তাদের আরও আরও বেশি পরিশ্রম করা প্রয়োজন বলে আমি এও মনে করি। আমি মনে প্রানে এও বিশ^াস করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রি জননেত্রি শেখ হাসিনার রংপুর সফর আওয়ামিলীগের নেতা কর্মিদের আরও উজ্জীবিত করবে তথা তাদেরকে(নৌকা প্রতীককে)অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছাতে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখবে।
লাঙ্গলের তীক্ষ্ম ফলায় উর্ব্বর জমি তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে এ কারনে বলছি যে,
এ আসনটিতে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা জয় পেয়েছে। রংপুরকে তারা তাদের ঘাঁটিও মনে করেন। কিন্তু গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পার্টি প্রধান ও রওশন এরশাদের সিন্ধান্ত বদল আর একাদশ জাতীয় সংসদে বহিরাগত প্রার্থীকে টেনে এনে এই আসনে দেয়ার বিষয়টি মানুষ ভাল চোখে দেখেনি। এখানে একটি কথা না বললেই নয় গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের সময় পর্যন্ত জাতীয় পার্টির প্রার্থী মানুষের দ্বারে দ্বারে বেড়িয়েছেন যা আজ অবধি চলছে। এই কাজটি আমার দৃষ্টিতে এই আসনে আর কোন প্রার্থীই করেননি। আমার মনে হয় এ কারনেই জাতীয় পার্টির উপর সাধারন মানুষের অনেকটা বিরক্তির পরেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী(লাঙ্গল প্রতীক)জনমনে আস্থার জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বা হচ্ছেন। ভুলে গেলেও চলবে না তাদেরও এই আসনে রয়েছে ভোট ব্যাংক।
ধানের শীষে কম ফলনের শংকা এ কারনে বলছি যে,এই আসনটি কখনই ধানের শীষের অনুকুলে ছিল না। অনেক বছর পর এবারই ধানের শীষের কথা সাধারন মানুষ বলছিলো। আগেও বলেছি যে,হয়তঃ কোন দলের প্রতি বিরক্ত হয়ে (প্রার্থীকে দেখে নয়) ধানের শীষের নাম এই আসনের মানুষ অনেক বছর পর নিয়েছে। এ কথা সত্যি যে,ধানের শীষের ভোটগুলো হল ভাসমান ভোট। এ ভোটগুলো তাদের দলের অর্জনকৃত ভোট নয়। এই ভোটগুলোকে যদি সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে না পারে তাহলে আগের অবস্থায় বিএনপি চলে যেতে বাধ্য। আমি যদি ভুল বলে না থাকি,দলটির প্রার্থী তথা নেতা কর্মিদের তৎপরতা অনেকটা কমে গেছে। হয়তঃ তারা মনে করছেন জিতে গেছি। ভুলে গেলে চলবে না, যে ভোটগুলো বর্তমানে আপনাদের কথা বলছে সে ভোটগুলো আপনাদের নয়। আমি আবারও বলছি,এই ভোটগুলি কোন ভাবেই বিএনপির অর্জনকৃত ভোট নয়। অনুকম্পা নয়তো বিরক্তি হতে এই ভোটগুলো আপনাদের পক্ষে চলে এসেছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে ভাসমান ভোট ধরে রাখা কিন্তু কঠিন কাজ। নেতা কর্মি সমর্থক তথা ভাসমান ভোটারদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করার মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠ ধরে রাখাই ধানের শীষের বড় বিষয়।
আমার এই লেখাটি ব্যক্তিগত মতামতের বর্হিপ্রকাশ মাত্র। কাউকে(প্রার্থী/কর্মি)আক্রমন করে কিংবা কষ্ট দেয়ার জন্য আমার এই লেখাটির উদেশ্য নয়। দয়া করে আমার এই লেখাটি পড়ে ভুল করেও যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
পরিশেষে বলতে চাই,এখনও সময় আছে,প্রত্যেক দল, প্রত্যেক প্রার্থী ও তাদের নেতা কর্মিদের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালবাসার সাথে বলতে চাই,আর একটু পরিশ্রম করুন আর একটু পরিশ্রমের মাত্রা বাড়িয়ে দিন অবশ্যই সফল হবেন। শুভ কামনা সকলের প্রতি।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৩ডিসেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪







