রবিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৮

বদরগঞ্জে ধানের ফলন ভাল হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

হাঁড়ভাঙ্গাঁ খাটুনি আর কৃষানোক(কৃষি শ্রমিক)টাকা দিতেই হামার শ্যাষ,লাভের লাভ কিছুই হয় না। ধানোত কিছু নাই বাহে। ধান আবাদ করি বউ ছইল ধরি সংসার চালায় হামার দায় হয়্যা পড়ছে। কথাগুলো আক্ষেপের সাথে বললেন উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঘাটাবিল এলাকার কৃষক অতুল চন্দ্র রায়(৬০)।
রংপুরের বদরগঞ্জে আমন ধানের ফলন ভাল হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারন আমন ধান আবাদে কৃষকের যে অর্থ ব্যয় হয়েছে বর্তমান বাজারমুল্যে স্থানভেদে বিঘা প্রতি কৃষকের লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর সাথে তো কৃষি শ্রমিক সংকট রয়েছেই।  
সরেজমিনে গত শনিবার(২৪নভেম্বর)উপজেলা ঘুরে কৃষকদের ধান কাটা,ধান বহন করা এবং ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করার চিত্রই চোখে পড়ে।
কথা হয় দামোদরপুর ইউপির মোস্তফাপুর সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক হেমন্ত সরকারের সাথে,তিনি জানান,প্রতি বিঘা(৬০শতাংশ)জমিতে আমন চাষ করতে উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ১৭হাজার ৫শত টাকা। জমিতে সেচ দিয়ে ধান পেলাম প্রতি বিঘায় প্রায় ৩৬মন ধান। আর যারা সেচ দেননি তারা ধান পেয়েছেন ৩০মনেরও কম।
তিনি আরও জানান,বর্তমান বাজার মুল্য ৪৪০টাকা(প্রতি মন)। ৩৬মন ধান বিক্রি করলে দাম পাবো প্রায় ১৬হাজার টাকা। বিঘা প্রতি লোকসানে আছি ১হাজার ৫শত টাকা। ধানের দাম ৫শত টাকার নীচে থাকলে সকল কৃষকই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
কথা হয় বদরগঞ্জ পৌরশহরের ডাঙ্গাপাড়া মহল্লার কৃষক কামরুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান,আমার বাবা এক সময় ধান বিক্রি করে ইলিশ মাছ নিয়ে আসতো। কিন্তু আমি এখন ধান আবাদ করে আমার বাচ্চাদের ইলিশ মাছ খাওয়াতে পারি না। বিঘা প্রতি আমার লোকসান প্রায় ২হাজার হতে আড়াই হাজার টাকা।
তিনি আরও জানান,আমি ১০বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। আমনের উৎপাদন খরচ আর কৃষি শ্রমিকদের টাকা দিতেই তো আমি শেষ। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই তো ধান আবাদ করতে হচ্ছে। সংসার চালাবো কি করে ?
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,উপজেলায় আমন ধানের ফলন ভাল হয়েছে। তবে ধানের দাম কম হওয়ায় এখন পর্যন্ত কৃষকরা লোকসানের মুখে রয়েছে। ধানের দাম ৫৫০টাকার নীচে হলে কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন না। 
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মোঃ জোবাইদুর রহমান মামুন জানান,আমার উপজেলায় চলতি বছর আমনের ব্যাপক ফলন হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ার কারনে বর্তমান বাজারমুল্যে ধান চাষে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫নভেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪











শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮

হারিয়ে যেতে বসেছে শিশু-কিশোরদের ঐতিহ্যবাহি লাটিম খেলা



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

শিশু-কিশোরদের এক সময়ের জনপ্রিয় খেলার মধ্যে অন্যতম ছিল লাটিম খেলা । অথচ সময়ের সাথে সাথে অন্যান্য গ্রামিন খেলাধুলার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের ঐতিহ্যবাহি লাটিম খেলাটি যেন আজ সময়ের পথপরিক্রমায় হারিয়ে গেছে।    
বিগত দিনের গ্রামিন শিশু-কিশোরেরা যে বয়সে খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকত ডিজিটাল এই যুগে এখন সে বয়সে তারা যান্ত্রিক খেলাধুলায় মেতে থাকে। আগের দিনের পাড়া মহল্লার শিশু-কিশোরেরা দলবেঁধে গ্রাম্য খেলায় বিশেষ করে লাটিম খেলায় মেতে হারিয়ে যেত তাদের আপন ভুবনে। অথচ বর্তমানে ওই বয়সের শিশু কিশোরেরা এখন গ্রাম্য খেলাধুলা(লাটিম)বাদ দিয়ে কম্পিউটার গেমস,ভিডিও গেমস খেলাধুলাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম(ফেসবুক) নিয়ে ব্যস্ত  থাকে। দেশের বেশিরভাগ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বাস করলেও কালের বিবর্তনে যুগের গতানুগতিক হাওয়ায় গ্রামের ঐতিহ্যবাহি লাটিম খেলা আজ হারিয়ে গেছে।
সরেজমিনে গত শুক্রবার(১৬নভেম্বর) উপজেলা ঘুরে মধুপুর ইউপির সন্তোষপুর চারআনিপাড়া নামক গ্রামে গিয়ে লাটিম খেলার দৃশ্য চোখে পড়লে দ্রুত মটরবাইক থামিয়ে লাটিম খেলার দৃশ্যের স্থির চিত্র ধারন করি। 
এ সময় কথা হয় কিশোর জিম বাবুর সাথে,সে এই প্রতিবেদককে জানায়,আমি ৫ম শ্রেনিতে পড়ি। লেখাপড়া ও অন্যান্য খেলাধুলার ভীড়ে লাটিম খেলা এখন আর হয়েই উঠেনা। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে সিন্ধান্ত নিয়েছি আজ লাটিম খেলবো।
একই কথা বলেন অপর কিশোর জয় বাবু,সে জানায়,ফুটবল আর ক্রিকেট খেলা ছাড়া লাটিম খেলার জন্য সঙ্গী খুঁজে পাওয়া যায় না। অনেক দিন পর আজ লাটিম খেলছি। ভীষন ভালো লাগছে।
দেশিয় সংস্কৃতি ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে সবাইকে বিশেষ করে অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানকে হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। না হলে এক সময় বিলিন হয়ে যাবে গ্রাম বাংলার এসব ঐতিহ্যবাহি খেলাধুলা(লাটিম)বলে মনে করেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার।




বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭নভেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪





মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৮

পাখিদের প্রতি ভালবাসা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

ছিমছাম পরিপাটি বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ। চারিদিকে সারি সারি ফলজ আর বনজ গাছে ভরা। আর তাতে বিশেষ করে (সারি সারি) নারিকেল গাছে পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থলেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও পরিষদের শ্রীবৃদ্ধির জন্য তৈরি করা হচ্ছে পানির ফোয়ারা। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে বদরগঞ্জবাসি স্বাগত জানিয়েছে।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার(৬নভেম্বর)সকালে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে গিয়ে দেখা যায়,নারিকেল গাছগুলিতে পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল সহ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তা দেখতে আসছেন উপজেলায় আগত বিভিন্ন এলাকার লোকজন।
পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় সহ পানির ব্যবস্থা করা দেখে উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির সাহেবগঞ্জ এলাকার স্কুল শিক্ষক আঃ রাজ্জাক এই প্রতিবেদকে জানান,আমি সত্যিই মুগ্ধ,উপজেলা প্রশাসন বিশেষ করে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক স্যারের প্রতি। কারন তিনি বদরগঞ্জে আসার পর উপজেলা পরিষদের চিত্রই পাল্টে গেছে। পাখিদের প্রতি মমত্ব এর আগে আমি আর কোন নির্বাহি অফিসারের দেখিনি।
উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মিম চৌধুরি জানান,আমাকে খুব ভাল লেগেছে উপজেলা প্রশাসন তথা নির্বাহি অফিসারের এই কর্মকান্ডে। আমি যতটুকু জানি,তিনি তার দাপ্তরিক কাজ সহ সকল কাজের প্রতি বেশ আন্তরিক। আর তার পাখিদের প্রতি এই মমত্ব আমার মনকে ভীষনভাবে নাড়া দিয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান,পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উপজেলা নির্বাহি অফিসারের এ উদ্যোগকে আমি অবশ্যই সাধুবাদ জানাই।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক জানান,মুলতঃ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে আমার এ কাজটি করা। তবে সবে শুরু করেছি মাত্র। আমার কাছে মনে হয়েছে,নিরাপদ আবাসস্থলের অভাবে দিনকে দিন  পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৬নভেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

 


  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...