বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০

শীতার্থ মানুষের পাশে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

একটুখানি উষ্ণতা দিতে শীতের দাপটে কাতর অসহায় বৃদ্ধ মা বাবাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব। মুজিব বর্ষের শুরুতে গরীব অসহায় শীত কাতর মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব সন্মানিত আর গৌরব বোধ করছে। এ কারনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রি দেশ রত্ন শেখ হাসিনাকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের পক্ষ হতে অভিনন্দন ও স্যালুট জানাই। যার সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রি ডাঃ এনামুর রহমানের সুপারিশে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব ৫শত কম্বল পায়। রিপোর্টার্স ক্লাবের কার্যালয়ে এসে গরীব অসহায় দুস্থ্যদের মাঝে কম্বল বিতরনের শুভ উদ্বোধন করেন বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান রংপুর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সুযোগ্য চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট,বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার,সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রি মরহুম আনিছুল হক চৌধুরির সুযোগ্য সন্তান উপজেলা আওয়ামিলীগের সাধারন সম্পাদক ও বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আহসানুল হক চৌধুরি টুটুল,ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি ও সমাজসেবক সরওয়ার জাহান মানিক,উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক উদীয়মান নেতা হাসান তবিকুর চৌধুরি পলিন সহ অনেকে। আমরা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। যার ধারাবাহিকতায় পৌরশহর সহ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সদস্য সহ ক্লাবের শুভাকাঙ্খিরা নিরলস পরিশ্রম করে প্রকৃত দুস্থ্য অসহায় ও বৃদ্ধ মা বাবাদের খুঁজে বের করেন। আর তাদের হাতেই তুলে দেয়া হচ্ছে মুজিব বর্ষের শুভেচ্ছা স্বরুপ শীত বস্ত্র(কম্বল)।  
এবার মুল প্রসঙ্গে আসি,প্রচন্ড শীতের দাপটে কাতর গরীব অসহায় দুস্থ্য মা বাবাদের পাশে দাঁড়াতে পারলে যে,কতখানি ভাললাগা আর আনন্দ হয় তা নিজে বদরগঞ্জ হতে ১৮ কি.মি দুরে গোপিনাথপুর ইউপির বুড়িরপুকুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে গিয়ে উপলব্ধি করলাম। যা সবার সাথে শেয়ার করছি মাত্র। আজ বুধবার ২২জানুয়ারি সকালে গিয়ে দেখি,ছারা মাই নামের স্বামি হারা সন্তান হারা এক অসহায় শতবর্ষি মা। তার গায়ে কম্বলটি তুলে দিতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। জানি না আমার মত এক গরীব কলম সৈনিকের কপালে তাদের মত মা দের স্নেহের পরশ নেবার সৌভাগ্য আর হবে কিনা ? আপনারা সবাই দোয়া করবেন বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সদস্যরা যেন আজন্ম গরীব অসহায় দুস্থ্য মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।
উল্লেখ্য যে,আমার লেখা গত ৩১ ডিসেম্বর “দৈনিক ইত্তেফাক”পত্রিকার অনলাইন সংস্করনে“একটা কম্বল দেও বাহে,খুব জাড় নাগোছে”শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে সংবাদটি দেশব্যাপি আলোচিত হয়। সংবাদের সুত্র ধরে বৃদ্ধা ঐ মায়ের জন্য কম্বল সহ ভরনপোষনের দায়িত্ব নেন রংপুরের সুযোগ্য পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার। পরে দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রি ডাঃ এনামুর রহমান বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের নামে ৫শত কম্বল পাঠিয়ে দেন। যা বিতরন চলছে।

 

প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা
সভাপতি,বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব
রংপুর।
  

শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০

গরীব অসহায় ও দুস্থ্যদের মাঝে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের কম্বল বিতরন


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে গরীব অসহায় ও দুস্থ্যদের মাঝে কম্বল বিতরন করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার(১৭জানুয়ারি) দুপুরে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের অনুদানে স্থানিয় রিপোর্টার্স ক্লাবে এ কম্বল বিতরন করা হয়।
কম্বল বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,রংপুর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট,উপজেলা আওয়ামিলীগের সাধারন সম্পাদক ও বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান টুটুল চৌধুরি,বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার,বদরগঞ্জ ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি সরওয়ার জাহান মানিক,উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হাসান তবিকুর চৌধুরি পলিন,বদরগঞ্জ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল হোসেন,বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা,সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা সহ ক্লাবের সকল সাংবাদিক বৃন্দ।
উলেখ্য যে,গত ৩১ডিসেম্বর/১৯ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার অনলাইন সংস্করনে “একটা কম্বল দেও বাহে,খুব জাড় নাগোছে”শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ে মাননীয় প্রতিমন্ত্রির সুপারিশে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের নামে ৫শত কম্বল পাঠিয়ে দেন। যা আজ হতে পর্যায়ক্রমে গরীব অসহায় ও দুস্থ্যদের মাঝে বিতরন করা হচ্ছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭জানুয়ারি/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২০

অবশেষে অসহায় বৃদ্ধা লাখরাজি রাউথ প্রশাসন সাধারন মানুষের সহযোগিতা ও ভালবাসায় সিক্ত হলেন


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

অবশেষে সেই অসহায় বৃদ্ধা লাখরাজি রাউথ পুলিশ প্রশাসন সাধারন মানুষের সহযোগিতা আর ভালবাসায় সিক্ত হলেন। গত মঙ্গলবার(৩১ডিসেম্বর)দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার অনলাইন সংস্করনে সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর দেশে বিদেশে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে আজ শুক্রবার(৩জানুয়ারি)সকালে উপজেলার রামনাথপুর ইউপির খোর্দ্দবাগবাড় মিশনপাড়া গ্রামে অসহায় বৃদ্ধা লাখরাজি রাউথের বাড়িতে গেলে বৃদ্ধা লাখরাজি এই প্রতিবেদকে জড়িয়ে ধরে খুশিতে কেঁদে ফেলেন।
কান্নাজড়িত কন্ঠে লাখরাজি রাউথ জানান,বাবা,তোমাক আর তোমার পেপার(দৈনিক ইত্তেফাক)এর উপর মোর কৃতজ্ঞতার শ্যাষ নাই। তোমার জন্যে মুই আইজ সবার কাছ থাকি সহযোগিতা পাওছো। ভগবান তোমার ভাল করবে।
এ দিকে,সংবাদটি প্রকাশিত হবার পরেই পুলিশ প্রসাসনের দৃষ্টি আকর্ষন হলে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার বিল্পব কুমার সরকার বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)হাবিবুর রহমান হাওলাদারের মাধ্যমে কম্বল ও বৃদ্ধা লাখরাজির ভরন পোষনের দায়িত্ব নেবার কথা জানিয়ে দেন।
এ ছাড়াও লন্ডন প্রবাসি বদরগঞ্জ বালুয়াভাটা মহল্লার সাবেক কাষ্টমস সুপার মৃত আঃ মান্নানের ছেলে মাহাবুব আলম নয়ন ও সমাজ সেবক আঃ মতিন বৃদ্ধা লাখরাজি সহ ওই গ্রামের কিছু অসহায় মানুষের জন্য খাবার ও কম্বল বিতরন করেন। ইতোমধ্যেই অনেকে অসহায় বৃদ্ধা লাখরাজিকে সহযোগিতা করার জন্য খোঁজখবর নিচ্ছেন। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩জানুয়ারি/২০২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 


মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯

একটা কম্বল দেও বাহে,খুব জাড় নাগোছে !



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

ছনের তৈরি জীর্ন কুঠির তাও আবার ভাংগাচোরা। পৌষের কনকনে ঠান্ডা আর হিম শীতল হাওয়া অনায়েসে প্রবেশ করে ঘরটিতে। এই ঘরেই বাস করেন সহায় সম্বলহীন অসহায় বৃদ্ধা লাখরাজি রাউথ (৭৫)।
বৃদ্ধা লাখরাজির বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির খোর্দ্দবাগবাড় মিশনপাড়া গ্রামে। প্রচন্ড ঠান্ডার দাপটে কাতর হয়ে ১০দিন আগে মারা গেছেন লাখরাজির স্বামি মিশরিয়া রাউথ।
বৃদ্ধার ৩ মেয়ে ২ ছেলে। সকলের বিয়ে হয়ে গেছে। আলাদা আলাদা সংসার তাদের। বৃদ্ধা লাখরাজির স্বামি মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত দু-জনেই একত্রে এই জীর্ন ছনের ঘরেই বাস করতেন। কৃষকের জমিতে ফেলে যাওয়া ধান আর ইঁদুরের গর্ত হতে বের করে আনা ধানই ছিল তাদের আয়ের এক মাত্র উৎস। বর্তমানে তিনি একা। 
সরেজমিনে  গতকাল মঙ্গলবার(৩১ডিসেম্বর) সংবাদ সংগ্রহের উদেশ্যে চলে যাই উপজেলা সদর হতে ১০কি.মি দুরে রামনাথপুর ইউপির খোর্দ্দবাগবাড় মিশনপাড়া গ্রামে। শীতের কুয়াশায় মোড়ানো সকালে মিষ্টি রোদের আশায় যবুথবু হয়ে জীর্ন ছনের ঘরের পাশে বসে আছেন অসহায় বৃদ্ধা লাখরাজি রাউথ।
বয়সের ভারে কোমর বেঁকে যাওয়া বৃদ্ধা লাখরাজি সংবাদকর্মি পরিচয় পেয়ে বলে ওঠেন, মোক একটা কম্বল দেন বাহে,এই জারোত মুই আর থাকপার পাওছো না। তোরা দিবার না পারেন,পেপারোত লেখি দেন বাবা,তাইলে কেউ না কেউ মোক একটা কম্বল দেবে। এই ঠান্ডাত ১০দিন আগে মোর স্বামি মরি গেইছে। এখন মুই কেমন করি বাঁচিম বাবা।
তিনি আরও জানান,এই বয়সোতও মুই বয়স্ক ভাতা পাও না। আর কত বয়স হইলে মোক ওরা বয়স্ক ভাতা দিবে।
এ দিকে,শীতের দাপটে কাতর অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি কিংবা বে-সরকারিভাবে এখনও চোখে পড়ার মত তেমন শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে শীত বস্ত্র বিতরন করা হয়েছে ৫ হাজার ৫শত কম্বল। এই উপজেলায় অসহায় দুস্থ মানুষের সংখ্যার তুলনায় কম্বলের পরিমান একেবারেই নগন্য। 
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট জানান, গোটা উপজেলায় ছিন্নমুল মানুষদের জন্য কম্বল বিতরন অব্যাহত আছে। আরও কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এলেই আবার বিতরন করা হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩১ডিসেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 


শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯

ডিম দুধ আর ভাঁপাপিঠা, যত বেশি শীত তত বেশি বিক্রি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ
 
স্বল্প আয়ের ছিন্নমুল মানুষরা শীতের দাপটে কাতর হলেও স্বপ্ল পুঁজির রাস্তার ধারের ভ্রাম্যমান দোকানদারদের ভাঁপাপুলি আর গরম দুধ ডিমের ব্যবসা চলছে রমরমা। বর্তমানে শীতের দাপট এতটাই বেড়ে গেছে যে,প্রচন্ড শীতে কাতর হয়ে পড়েছেন উপজেলার খেটে খাওয়া ছিন্নমুল মানুষরা।
ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাওয়া আকাশ আর হিমেল হাওয়া সব মিলিয়ে যেন হাড় কাঁপানো শীত। এই শীতে খেটে খাওয়া মানুষসহ সাধারন মানুষজন ঘর হতে বের হতে না পারলেও রাস্তার ধারে কিংবা দোকানের কোন এক কোনে বসে থাকা ভ্রাম্যমান দোকানদারদের শীতের গরম গরম মজাদার ভাঁপাপুলি,দুধ আর ডিমের চলছে রমরমা ব্যবসা। রাস্তার ধারের ভ্রাম্যমান দোকানদাররা কেউ ভাঁপাপুলির পসরা সাজিয়ে কেউবা দুধ আর ডিম নিয়ে বসে আছে। প্রতিটি দোকানেই যেন উপচে পড়া ভীড়। শীতের মজাদার নারিকেল ভাঁপাপুলি খেতে তারা এসেছেন এই সমস্ত ভ্রাম্যমান দোকানগুলিতে। কেউবা এসেছেন গরম দুধ আর সিদ্ধ ডিম খেতে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের এই ব্যবসা।
সরেজমিনে গত রাতে ও সকালে বদরগঞ্জ পৌরশহরের মোড়ে মোড়ে ভ্রাম্যমান ভাপাপুলি,দুধ আর সিদ্ধ ডিমের দোকানগুলিতে গিয়ে এ চিত্রই চোখে পড়ে। 
কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউপির ঢাঙ্গারপাড়া গ্রামের ভাঁপাপুলি বিক্রেতা ইয়ারুল ইসলামের(২৬)সাথে,তিনি জানান,ভাঁপাপুলি বিক্রি হয় সন্ধ্যা হতে রাত ১২টা পর্যন্ত। প্রতি পিঠা ৫টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা হতে প্রতিদিন আয় হয় কমপক্ষে ৬-৭শত টাকা। আমার অন্য ৩ ভাই আমার মত শীতের এই সময়টাতে পৌরশহরের অন্য মোড়ে ভাঁপাপুলির দোকান দিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ৪ ভাই ১ বোন। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।
অর্থাভাবে আমরা লেখাপড়া শিখতে পারি নাই। আমাদের আর্থিক অবস্থা বর্তমান সময়ের মত হলে আমার বাবা অবশ্যই আমাদের লেখাপড়া শেখাতো।
তিনি আরও জানান,যত বেশি কুয়াশা আর ঠান্ডা,তত বেশি বিক্রি হয় ভাঁপাপুলি,গরম দুধ আর সিদ্ধ ডিম।
কথা হয় উপজেলার মধুপুর ইউপির কাশিগঞ্জ গ্রামের দুধ ও ডিম বিক্রেতা আবু বক্কর সিদ্দিক(৫৪)সাথে,তিনি জানান,দীর্ঘ ২১ বছর ধরে দুধ ও ডিমের ব্যবসা করছি। শীতকালে এই ব্যবসাটি বেশি চলে। গ্রাহক এতবেশি বেড়ে যায় যে,বসে থাকার সময় পাই না। প্রতি গ্লাস দুধ ১৫টাকা ও প্রতি পিস ডিম ১০-১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন বিকাল ৪টা হতে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে। প্রতিদিন আয় হয় কমপক্ষে ৮-৯শত টাকা। 
তিনি আরও জানান,এক সময় মানুষের বাড়িতে মজুর দিয়ে সংসার চলতো। তখন অভাব অনটনের অন্ত ছিল না। এই ব্যবসা করেই জমি কিনে বাড়ি ঘর করা সহ সংসার,ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া সবকিছুই চলে। আল্লাহ্র রহমতে আমি ভালো আছি।
ভাঁপাপুলি আর সিদ্ধ ডিম খেতে আসা বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রাজিবুল ইসলাম রাজিব জানান,প্রচন্ড এই শীতে খেটে খাওয়া ছিন্নমুল মানুষদের কষ্ট হলেও রাস্তার ধারের স্বল্প পুঁজির এই দোকানদারদের ব্যবসা ভালই চলছে।
তিনি আরও জানান,শীত বস্ত্রের অভাবে ছিন্নমুল মানুষদের ভোগান্তি হলেও এই সমস্ত স্বল্প পুঁজির দোকানদার অর্থ্যাৎ গরীব ব্যবসায়িদের ব্যবসা কিন্তু ভালই চলছে। যত বেশি শীত আর ঠান্ডা তত বেশি তাদের বিক্রি।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট জানান,কনকনে শীতে এক শ্রেনির মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেলেও রাস্তার ধারের এই সমস্ত ভাঁপাপুলি,দুধ ডিমের দোকানগুলো ভালই চলছে।
তিনি আরও জানান,শীতের দাপট বাড়ার সাথে সাথে এ সমস্ত ভ্রাম্যমান দোকানগুলোর বিক্রি আরও বেড়ে যাবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২১ডিসেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



 

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

এক হালি পেঁয়াজের দামে দেড় হালি ডিম


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

এক হালি পেঁয়াজে দেড় হালি ডিম পাওয়া যাচ্ছে। দেশে পেঁয়াজ নিয়ে হৈ চৈ শুরু হলেও কিছুতেই এর সমাধান হচ্ছে না। আপাতত সমাধানের কোন লক্ষনও দেখা যাচ্ছে না। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা সাধারন। এ ছাড়াও আগে ছোট বড় হোটেল(রেস্তোরা)গুলোতে ব্যাপকভাবে মুখরোচক খাবার পিঁয়াজি তৈরি এবং বিক্রি হলেও এখন তা শুন্যের কোটায় দাঁড়িয়েছে কারন পিঁয়াজি তৈরির অন্যতম উপাদানই হল পিঁয়াজ। দাম অনেকটা নাগালের বাহিরে যাওয়ায় দোকানদাররাও আর পিঁয়াজি তৈরি করছেন না। আর অল্প কিছু দোকানদার পিঁয়াজি তৈরি করলেও পিঁয়াজির দাম বৃদ্ধির কারনে ক্রেতারাও তা খাচ্ছেন না।
সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার(১৫নভেম্বর)সকালে বদরগঞ্জ পৌরবাজার ঘুরে দেখা যায়,দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২৭০টাকায় আর দেশের বাহিরের(বোল্ডার)পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২শত হতে ২২০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থ্যাৎ এক হালি পেঁয়াজের দামে পাওয়া যাচ্ছে দেড় হালি(৬টি)ডিম।
কাঁচাবাজার করতে আসা পৌরশহরের বালুয়াভাটা মহল্লার বাসিন্দা জান্নাতুল বাকি জানান,কাঁচাবাজারের অন্যান্য জিনিষ পত্রের দাম কিছুটা বেশি হলেও তবুও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের দাম তো কিছুতেই পড়ছে না। বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই বাসার জন্য ১ পোয়া পিঁয়াজ(বোল্ডার)৫৫টাকায় কিনলাম।
তিনি আরও জানান,আমি হিসেব করে দেখলাম,এক হালি পেঁয়াজে অনায়েসে দেড় হালি ডিম পাওয়া যাচ্ছে।
বদরগঞ্জ পৌরবাজারের পাইকাড়ি পেঁয়াজ বিক্রেতা এনামুল হক ও আকবার আলি জানান,আমরা দেশের বড় বড় মোকাম হতে দেশি ও বোল্ডার পিঁয়াজ কিনে এনে বদরগঞ্জ সহ বিভিন্ন জায়গায় পাইকাড়ি দরে বিক্রি করি। বর্তমানে পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারে এর বেশ প্রভাব পড়েছে। তবে দেশি পিঁয়াজ বাজারে আসলেই পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে যাবে।
বদরগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকার খুচরা কাঁচামাল ব্যবসায়ি মাহাবুল ইসলাম জানান,আমরাও বুঝি পিঁয়াজের দাম অনেক বেশি। আগে আমার দোকানের জন্য পিঁয়াজ কিনে আনতাম বস্তায় বস্তায়,এখন কিনে আনি ২০কেজি হতে ৪০ কেজি।
বদরগঞ্জ উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক রায় জানান,পেঁয়াজ সংকটের কথা মাথায় রেখে আমরা এখন হতেই কৃষকদের পিঁয়াজ সহ মশলা জাতীয় ফসল চাষের জন্য উৎসাহিত করছি যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মশলা জাতীয় ফসলের সংকট রোধ করা যায়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫নভেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৯

অর্থের অভাবে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না বদরগঞ্জের শিউলি খাতুন


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

শুধুমাত্র অর্থের অভাবে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না বদরগঞ্জের অদম্য মেধাবি শিউলি খাতুন। শিউলির বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে ৯কিমি দুরে দামোদরপুর ইউপির শেখেরহাট এলাকার নয়াপাড়া গ্রামে। ভুমিহীন গরীব দর্জি পিতা গোলবার হোসেনের ৭ সন্তানের মধ্যে শিউলি ৫ম। পরিশ্রম আর ইচ্ছা শক্তির উপর ভর করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় নিয়ে বাড়ি হতে ৯ কিমি দুরের পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন পাঁয়ে হেঁটে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় নিয়মিত ক্লাশ করতেন শিউলি খাতুন। ২০১৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর গরীব মেধাবি শিউলি খাতুন কোন ধরনের কোচিং ছাড়াই বাড়িতে পড়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ঘ ইউনিটে মেধা তালিকায় ১৩৮তম স্থান লাভ করে। বর্তমানে শিউলি সকল প্রতিবন্ধকতাকে হার মানালেও অর্থের কাছে হার মানতে বাধ্য হচ্ছেন। কারন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ১৩৮তম সিরিয়ালে চান্স পাওয়া মেধাবি শিউলির মনে উৎকন্ঠা সে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে তো !
মেধাবি শিউলির পিতা ভুমিহীন গোলবার হোসেন জানান,আমি খুব গরীব মানুষ। আমার বাড়ি ভিটে ছাড়া কিছুই নেই। আমার ৭ সন্তান। দর্জির কাজ করে কোন রকমে সংসার চালাই। খুব চিন্তায় আছি কিভাবে মেয়েটিকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি করাবো ?
তিনি জানান,শিউলির লেখাপড়াতে এত আগ্রহ ছিল যে,অনেক দিন সে না খেয়ে পাঁয়ে হেঁটে মহিলা কলেজে যেত। টাকা পয়সা তো দিতে পারতাম না। বিশ^াস ছিল, যত কষ্ট করে মেয়েটি আমার পড়াশুনা করছে সে একদিন ভাল করবেই। 
তিনি আরও জানান,বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপাল বিমলেন্দু সরকার সহ কলেজের সকল শিক্ষকরা তাকে খুব ভালবাসতো এবং লেখাপড়ায় সহযোগিতা করতো।
মেধাবি শিউলি খাতুন জানান,না খেয়ে পাঁয়ে হেটে কষ্ট করে আমি এতদুর এগিয়েছি,জানিনা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে চান্স পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারবো কিনা ? আমি জানি, আমার গরীব বাবা আমাকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি করা সহ পড়াশুনার খরচ যোগাতে পারবে না। সমাজের বিবেকবান কেউ যদি আমার লেখাপড়ার ভার বহন করতো আমি তার কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকতাম। 
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান,শিউলি অসম্ভব মেধাবি মেয়ে। কোন ধরনের কোচিং বা কারো সাহায্য ছাড়াই সে একাকি বাড়িতে পড়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় ১৩৮তম স্থান করে নিয়েছে।
আমি আশা করবো,সমাজের বিবেকবান কেউ মেয়েটির উচ্চ শিক্ষার পথ প্রশস্ত করতে এগিয়ে আসবেন।
আমি এও মনে করি,ভবিষ্যতে শিউলিকে অনুসরন করে আমার কলেজের অন্য শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রেরনা পাবে। 
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৫ নভেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...