শনিবার, ৩০ জুন, ২০১৮

এক সময়ের ক্যাসেটের রিল এখন শুধুই দোকানের সৌন্দর্য




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ভিসিডি, ডিভিডি প্লেয়ার, মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে বর্তমান সময়ে অকেজো হয়ে পড়ে আছে ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দির মানুষের শ্রেষ্ঠ বিনোদন মাধ্যম ক্যাসেট ও ক্যাসেটের রেশমি ফিতা (রিল)। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার অসংখ্য ইলেকট্রনিক্স দোকানগুলোতে এক সময়ের সাড়া জাগানো ক্যাসেটের রিল অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকলেও এগুলোর খোঁজ করার মত এখন আর কোন ক্রেতা নেই। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কাছে হেরে যাওয়া রিলগুলো দেখে মনে হয় এগুলো যেন এখন শুধুই স্মৃতি। দোকানের বাড়তি সৌন্দর্য ছাড়া আর কিছুই নয়।
গতকাল শনিবার(৩০জুন)পৌর শহরের ‘সুর ঝংকার ইলেকট্রনিক্স,অথৈই ইলেকট্রনিক্স,খোকন ইলেকট্রনিক্স,জেরিন ইলেকট্রনিক্স,সবুজ ইলেকট্রনিক্স, আব্দুল ‘মান্নান ইলেকট্রনিক্স, আনারুল টেলিকমসহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক্স দোকানে গিয়ে চোখে পড়ে অবিক্রিত অবস্থায় দোকানে পড়ে থাকা হাজার হাজার রেশমি ফিতা (রিল)।  
গত  তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল হতে  এ সব ক্যাসেটের রিল দোকানে পড়ে থাকলেও এখন ভুলক্রমেও কোন ক্রেতা এসে এগুলোর খোঁজ খবর নেননা। তাই দোকানদাররা কবে কখন এই ক্যাসেটের শেষ রিল বিক্রি করেছেন সেটাও তারা বলতে পারেননা। এক সময়ের সাড়া জাগানো বাংলা,হিন্দি ছায়া ছবি,নাটক, গান, সংলাপ ও ওয়াজ মাহফিলের রিল গুলোর প্রচুর চাহিদা থাকায় দোকানদাররা সেগুলো পাইকারি হারে ২৮-৩০ টাকায় ক্রয় করে ৪৫-৫০টাকায় বিক্রি করতেন। কিন্তু এর পর হতে বাজারে ভিসিডি, ডিভিডি, মোবাইল ফোন আসার পর লোকজন ক্যাসেটের ব্যবহার একেবারে বন্ধ করে দেয়। এছাড়াও কম্পিউটারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে ক্যাসেটের নাম পর্যন্ত মানুষ ভুলে যেতে বসেছে বলে দোকানদাররা জানান।
আরও জানা যায়,তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল শেষ হওয়ার পরেও এ উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীতে কিছু কিছু মানুষ ক্যাসেটের গান শুনতো বলে সে সময় কিছু কিছু করে রিল বিক্রি হতো। কিন্তু এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির তৈরি ইলেকট্রনিক সামগ্রি গুলো শহরের বাইরে গ্রামের মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে যাওয়ায় (রেশমি ফিতা) ক্যাসেটের রিলগুলো একেবারে অচল হয়ে গেছে।
সুর ঝংকার ইলেকট্রিক্স এর সত্ত্বাধিকারি মোকছেদুল হক শাহ্ জানান, আমার দোকানে বর্তমানে ৮ হাজার রিল অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। যার মুল্য ২৫হাজার টাকা। সে সময় রিলগুলো কেনার পর ক্রেতার অভাবে বিক্রি করতে পারিনি। ক্যাসেটের রিলগুলো এখন আমার দোকানের স্মৃতি বহন করছে। একারনে রিলগুলো র‌্যাকের মধ্যে সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছি।  
বদরগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা ও ক্যাসেটের প্রবীন শ্রোতা  আব্দুল আলিম (৭৪) জানান,এক সময়ের এই ক্যাসেটের গান শুনে আমার সারাদিন আনন্দে কাটতো। তিনি আরও জানান,অনেক টাকা খরচ করে চট্রগ্রাম হতে একটি বড় ধরনের ক্যাসেট সেট কিনে এনেছিলাম। বর্তমানে আমার সেই ক্যাসেটটি খেলনা সামগ্রিতে পরিনত হয়েছে।



বদরগঞ্জ, রংপুর
তারিখ-৩০জুন/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪          
 

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন, ২০১৮

কান পরিস্কার করে জীবিকা নির্বাহ


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

ছিপছিপে কালচে হালকা পাতলা গড়নের যুবক হাবিবুর রহমান হাবিব(২৪)। বাড়ি লালমনিরহাট জেলার ইটাপতা গ্রামে। কান পরিস্কার করাই তার পেশা। অতি সাধারন দরিদ্র ঘরে জন্ম নেয়া হাবিব এক সময় রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। রাজমিস্ত্রির কাজ করে বাবা মা স্ত্রী ও ২ সন্তান নিয়ে ভালই দিন কাটছিলো। হঠাৎ তার পেটে অপারেশন করতে গিয়ে তিনি যেমন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন,পাশাপাশি আগের মতো তেমন ভারি কাজও তিনি করতে পারেন না। বাড়ির কর্মক্ষম ব্যক্তি হওয়ার কারনে ওই সময়টাতে তার পরিবার নিয়ে তিনি কষ্টেই দিন কাটাচ্ছিলেন। এভাবে অতি কষ্টে ৬ মাস বাড়িতে অতিবাহিত করার পর হাবিরের এক বন্ধুর(কান পরিস্কার কারক)পরামর্শে দরিদ্র যুবক হাবিব জড়িয়ে পড়েন এ পেশায়।
গত বৃহঃস্পতিবার(২৮জুন)সকালে পৌরশহরের বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ গেট এলাকায় দেখা মেলে হাবিবের। মাথায় লেন্স পরিহিত অবস্থায় হাবিব এক ব্যক্তির কান পরিস্কার করছেন। কাজ শেষ হলে কথা হয় হাবিবের সাথে।
তিনি জানান,দীর্ঘ ৮ বছর ধরে এ কাজ করছি। শারীরিক অক্ষমতার জন্য যখন কোন কাজ করতে পারছিলাম না তখন আমার এক বন্ধুর পরামর্শেই কান পরিস্কারের কাজ শুরু করি। সে আমাকে কান পরিস্কারের অনেক টেকনিক শিখিয়ে দেয়। নরমাল কান পরিস্কার ২০টাকা,সামান্য সমস্যা জনিত কান পরিস্কার করা ৪০টাকা আর কানে পুঁজ আসা পরিস্কার করতে ১শত টাকা।
তিনি জানান,প্রতিদিন সকাল বেলা ট্রেনে বাসে চড়ে আশে পাশের জেলা উপজেলায় ঘুরে কাজ করি আর রাতে বাড়ি ফিরি। প্রতিদিন আয় হয় ৭শত হতে ২হাজার টাকার মতো। যা দিয়ে চলে আমার সংসার।
তিনি আরও জানান,অহেতুক সময় অপচয় না করে পছন্দ অনুযায়ি সকলের কাজ করে যাওয়া উচিত। তাহলে নিজের,সমাজের এবং সংসারের উপকার হবে। বেকার হয়ে সময় অপচয় করা মোটেও ঠিক না।
বদরগঞ্জ কলেজগেট এলাকার বাসিন্দা হাবিবের কাছে কান পরিস্কার করা যুবক আঃ বাকি জানান,আমার কানে কিছুটা সমস্যা ছিল। হাবিবকে দেখে অনেকটা খেয়ালের বশে তার কাছে কান পরিস্কার করি। আমার কানে আগে যে সমস্যা অনুভব করতাম কান পরিস্কারের পর অনেকটা সুস্থতা অনুভব করছি। হাবিবের কান পরিস্কার করাটা আমার ভালো লেগেছে এ জন্য যে,সে যতœ সহকারে কান পরিস্কার করে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও কলেজ রেল গেট এলাকার বাসিন্দা ইউনুস আলি জানান,অনেক দিন পর পর কান পরিস্কার করতে হাবিব বদরগঞ্জে আসে। বেকার হয়ে বাড়িতে না থেকে সে কাজ করে যে জীবিকা নির্বাহ করছে এটাই আমার ভালো লেগেছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮জুন/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪  


শনিবার, ২৩ জুন, ২০১৮

লালচে আভা ছড়াতে শুরু করেছে হাড়িভাঙ্গাঁ



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

পাতলা পর্দা মাংস বিশিষ্ট আর রসে টইটুম্বুর আম হাড়িভাঙ্গাঁ। আমটিকে পছন্দ করেন না দেশে এমন মানুষ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমের রাজা হিসেবে খ্যাত হাড়িভাঙ্গাঁ আমটি আর দিন দশেক পরেই বাজারে আসতে শুরু করবে। ইতোমধ্যে আমটি লালচে আভা ছড়াতে শুরু করেছে। রংপুর অঞ্চলের মানুষ এখন আর হাড়িভাঙ্গা আমটিকে শুধু আর আম হিসেবেই দেখছেন না,দেখছেন গ্রামিন অর্থনীতির অফুরন্ত সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার(২৩জুন)বদরগঞ্জ উপজেলার আম বাগান ঘুরে হাড়িভাঙ্গা আমের লালচে বর্ন ধারন করার চিত্রই চোখে পড়ে।
কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউপির হাড়িভাঙ্গা আমচাষি মাহাফুজ ওয়াহিদ চয়নের সাথে,তিনি জানান,গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আমার বাগানে অনেক বেশি আম ধরেছে। শুধু আমার বাগানেই আম বেশ ধরেছে তাই নয় কম বেশি সকলের আম বাগানে পর্যাপ্ত পরিমানে আম ধরেছে।
তিনি জানান,এ বছর আমি আম বাগান বিক্রি করেছি ৪০ লক্ষ টাকায়। কিন্তু যাদের কাছে আম বাগান বিক্রি করেছি তারা ভীষন চিন্তায় আছে। কারন এ বছর হাড়িভাঙ্গা আমের ফলন এত বেশি হয়েছে যে,দাম নিয়ে তারা শংকা প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও জানান,এ বছর আম বাগানগুলোতে যে পরিমানে আম ধরেছে,যদি আমগুলো সংরক্ষন করা যেতো তাহলে কয়েক বছরের ঘাটতি পুরন করা সম্ভব হতো।
কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের আমচাষি হাসান আল মাহমুদের সাথে,তিনি জানান,এ বছর আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। আম বিক্রি নিয়ে খুব টেনশনে আছি। দামে দরে বাগান ক্রেতা না মেলায় সিন্ধান্ত নিয়েছি আমার বাগানের আম আমি নিজে খুচরা ও পাইকাড়ি বিক্রি করবো। এ কারনে বাগানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছি।
তিনি জানান, ১২’শত হাড়িভাঙ্গা আম গাছ নিয়ে আমার বাগান। ইতোমধ্যে আমে রং আসতে শুরু করেছে। বাজারে আসতে আরও কমপক্ষে ১০দিন লাগবে।
তিনি আরও জানান,আমে অহেতুক কীটনাশক প্রয়োগ কিংবা মানুষের স্বাস্থ্যহানি হবে না এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আমি আমার বাগান পরিচর্যায় নিজেই সময় দিয়েছি। দাম দিয়ে মানুষ আম কিনবে আর আম স্বাস্থ্য স¤œত হবে না এটা কি হয় ? আমি চাই আমার বাগানের আম মানুষ নিশ্চিন্তে ক্রয় করুক। কারন এটাই আমার ব্যবসার পুঁজি। সততা ছাড়া তো আর ব্যবসা হবে না।
বদরগঞ্জ উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,বদরগঞ্জ উপজেলায় হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগান রয়েছে ৩৯৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি।
তিনি আরও জানান,এ বছর হাড়িভাঙ্গা আমের বাম্পার ফলন হয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান,বদরগঞ্জে হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগানের সংখ্যাই বেশি। ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় হাড়িভাঙ্গা আম বাগানের সংখ্যা এ উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে। যদিও এবার দাম নিয়ে আমচাষিরা শংকায় আছেন।
তিনি আরও জানান,হাড়িভাঙ্গা আমটিকে যদি প্রকৃত অর্থে সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা যেত তাহলে শুধু রংপুর অঞ্চলে নয় জাতীয় অর্থনীতিতে আমটি গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখতে পারতো।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৩জুন/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


 


শুক্রবার, ২২ জুন, ২০১৮

যমুনেশ^রি নদীর ব্রীজের এক ধার আর্জেন্টিনা অন্য ধার ব্রাজিলের পতাকার দখলে


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বদরগঞ্জের বুক চিড়ে বয়ে চলা যমুনেশ^রি নদীর ব্রীজের(এরশাদ ব্রীজ)এক ধার আর্জেন্টিনা ও অন্য ধার ব্রাজিল সমর্থকদের পতাকার দখলে। পতপত করে উড়ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা। পতাকায় মোড়ানো ব্রীজের এ দৃশ্য আগে কখনো দেখেনি এ এলাকার মানুষ। প্রচন্ড গরমে একটু খানি শীতল পরশ ও পতাকায় মোড়ানো যমুনেশ^রি ব্রীজ দেখতে ছুটে আসছেন উপজেলার হাজারো মানুষ। ব্রীজের এই নৈসগ্রিক দৃশ্য দেখতে মুলতঃ ভিড় বাড়ে সন্ধ্যার পর হতে মধ্যরাত অবধি। যদিও বিশ^কাপে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দর্শক হৃদয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোন ভালো খেলা উপহার দিতে পারেনি। তবুও দল দুটির ভক্ত বলে কথা।
সরেজমিনে গত বৃহঃস্পতিবার(২১জুন)পড়ন্ত বিকেলে রংপুর বদরগঞ্জের যমুনেশ^রি ব্রীজে গিয়ে চোখে পড়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল ভক্তদের ব্রীজের দু-ধার দু-দেশের পতাকায় মোড়ানোর দৃশ্য। পতপত করে উড়ছে পতাকাগুলি। দেখে মনে হচ্ছে দল দুটির প্রতি ভক্তদের কতটাই না আস্থা আর ভালবাসা। যার কারনে ভক্তরা নিজ খরচে পতাকা তৈরি ও নিজেদের বাঁশ ঝাড় হতে বাঁশ কেটে এই আয়োজন করেছেন।
কথা হয় যমুনেশ^রি ব্রীজের মাঝখানে মটরবাইক থামানো বদরগঞ্জের বিশিষ্ট ঠিকাদার মাহ্বুব সরকার দ্বীপের সাথে, তিনি জানান,কমবেশি প্রতিদিনই আমি রংপুরে যাই। কখনো ব্রীজের এই সুন্দর দৃশ্য চোখে পড়েনি। আজ ব্রীজের দু-ধার পতাকায় মোড়ানো দেখে এতটাই ভালো লাগলো যে,মটরবাইক না থামিয়ে পারলাম না। আমিও আর্জেন্টিনার ভক্ত। আর্জেন্টিনার সফলতা কামনা করছি।
কথা হয়,ব্রীজের এক ধারে ব্রাজিলের পতাকা উড়ানো যুবক হাবিবুর রহমান হাবিবের সাথে,তিনি জানান,আমি ব্রাজিলের ভক্ত। খেলার শুরুতেই আমি আমার নিজ অর্থে ২শত পতাকা ও নিজের বাঁশ ঝাড় হতে ২শত বাঁশ কেটে ব্রীজের এক ধাওে পতাকা লাগিয়ে দিয়েছি।
তিনি আরও জানান,খুব ভালো লাগছে এই ভেবে যে, ব্রীজের এই দৃশ্য দেখে প্রতিদিন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ তা দেখতে আসছে।
আর্জেন্টিনা সমর্থক ও ব্রীজে পতাকা উড়ানো ব্যক্তি বাইসাইকেল মেকার লুৎফর রহমান জানান,আমি গরীব মানুষ। আর্জেন্টিনা দলকে ভালবেসেই নিজ খরচে পতাকা তৈরি ও বাঁশ কিনে ব্রীজের এক ধারে লাগিয়েছি। আমারও খুব ভালো লাগছে এই ভেবে যে,ব্রীজের এ দৃশ্য দেখতে উপজেলার হাজারো মানুষ এখানে আসছে।
তিনি আরও জানান,আমার পছন্দের দল আর্জেন্টিনা বিশ^কাপে ভাল করবে এই প্রার্থনাই করছি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২২জুন/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪     
   

রবিবার, ১৭ জুন, ২০১৮

আমার বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা


আমার বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা। বাবাই আমার আদর্শ। বাবাই আমার প্রেরনা। যদিও সকলেরই বাবা সকলের কাছেই শ্রেষ্ঠ। সেই ছোট বেলা হতে আজ অবধি আমার কোন সাধ আমার বাবা অপুর্ন রাখেনি। আমার আবদার পুরনে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন সবসময়। ছোট বেলা হতে বাবা আমাদের সব সময় বলতেন,কাউকে কষ্ট দিও না,কারো উপকার করতে না পারলেও ক্ষতি করো না,মানুষকে সন্মান করো,অন্যের সম্পদের উপর লোভ করো না,বিবেক বোধের বাহিরে যেও না। তবেই তুমি প্রকৃত মানুষ হবে। মানুষ তোমাকে ভালোবাসবে। মানুষের ভালোবাসা পাওয়াতে যে কতো সুখ বড় হলে বুঝতে পারবে। বাবার কথা মনে প্রানে ধারন লালন করে আমি আজও চলার চেষ্টা করছি। জানি না আমি মানুষকে ভালোবাসতে পেরেছি কিনা ?
ছোট বেলা হতে বাবাকে আমি আরও দেখেছি,অনেক দায়িত্বশীল পদে থেকেও ক্ষমতার অপব্যবহার কখনো করেননি। অর্থের ব্যাপারেও তিনি যথেষ্ট স্বচ্ছতার সাথে তার স্বীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। এ কারনেই হয়তো আল্লাহ্ তাকে দেশের শ্রেষ্ঠ সমবায়ি হিসেবে রাষ্ট্রপতি পদক দিয়েছেন। গর্বে আমার বুক ভরে যায় এ কারনে যে,রংপুর অঞ্চলের ক-জনের বাবা রাষ্ট্রপতি পদকে ভুষিত হতে পেরেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি,রংপুর-২ এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের মধ্যে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি,যিনি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ইতিহাসে টানা ১১বার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এ এক বিরাট পাওয়া। তিনি আমার বাবা। এখন পর্যন্ত সকল মানুষ তাকে সন্মান,শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার চোখে দেখে। পিতার এই অর্জন সন্তানকে প্রকৃত মানুষ হতে অনুপ্রেরনা জোগাবে বলে আমি মনে প্রানে বিশ^াস করি। 
বাবাকে অনেক সময় অনেক জ¦ালিয়েছি। কষ্ট দিয়েছি। অবাধ্য হয়েছি। তবুও তিনি আমাকে কিছু বলেননি। এখন নিজে বাবা হয়ে বুঝি,বাবা কি,আর সন্তান কি ? বাবা দিবসে বাবাকে জানাই আমার বিন¤্র শ্রদ্ধা। বাবা তুমি বেঁচে থাকো হাজার বছর।

কামরুজ্জামান মুক্তা
প্রভাষক,বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ
ও
সভাপতি,বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব
রংপুর।

শনিবার, ২৬ মে, ২০১৮

দারিদ্র জয় ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক হাড়িভাঁঙ্গা আম






কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

পাতলা চামড়া মাংসল আর রসে টইটুম্বুর আম “হাড়িভাঁঙ্গা”। আমটি একটি খেলে আরেকটি খাওয়ার  জন্য অপেক্ষা করবে যে কেউই।  
সপ্তাহ দুয়েক পর হতেই হলুদাভ লালচে আভা ছড়ানো রং নিয়ে বাজারে আসবে হাড়িভাঁঙ্গা নামক সু-স্বাদু আমটি। রংপুর অঞ্চলের বেকার যুবকদের কাছে হাড়িভাঁঙ্গা নামের আমটি এখন আর শুধু আম নয়, তারা এই আমটিকে দেখছেন দারিদ্র জয় ও স্বাবলম্বি হওয়ার প্রতীক হিসেবে।
এ কারনে বদরগঞ্জ সহ রংপুর জেলায় দিন দিন বাড়ছে হাড়িভাঁঙ্গা জাতের আম বাগান।
গত শুক্রবার(২৫মে)সংবাদ সংগ্রহের উদেশ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগানে গিয়ে দেখা যায়,বিস্তৃীর্ন বাগান। তাতে সারি সারি আম গাছ। সারির প্রতিটি গাছের ডালেই ঝুলে আছে ছোট বড় অপেক্ষাকৃত গোলাকৃতির হাড়িভাঙ্গা আম।
বাগান মালিক ও আম চাষিদের সাথে কথা বলে এও মনে হয়েছে,হাড়িভাঙ্গা আম যেন এ অঞ্চলের আম চাষিদের আগামির স্বপ্ন। আম চাষিরা সেই সোনালি স্বপ্নেই বর্তমানে বিভোর হয়ে আছেন। কারন সপ্তাহ দুয়েক পরেই তাদের বাগানের পরিপক্ক পুষ্ট রসালো আম বাজারে আসবে। বাজারে চাষিদের আম আসা মানেই আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া অর্থ্যাৎ স্বাবলম্বি হওয়া।
এ সময় কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউপির শংকরপুর ঝাড়পাড়া গ্রামের আম বাগান মালিক মাহাফুজ ওয়াহিদ চয়নের সাথে,তিনি জানান,আমাদের এই অঞ্চলে আমরাই প্রথম হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগান করি। আম গাছ রোপনের দু-বছর পর হতেই ফল ধরতে শুরু করে। পরবর্তী বছর গুলো হতে আমের ফলন বেশি হতে শুরু করে।
তিনি জানান,হাড়িভাঙ্গা আমের ফলন বেশি হয় এবং বাজারে দামও বেশি পাওয়া যায়। এ কারনে পরবর্তীতে আমরা আরও ৩টি হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান করি।
তিনি আরও জানান,প্রতি বছর আমাদের ৪টি আম বাগান(প্রায় ৯একর) হতে আয় হয় ৪০ লক্ষ টাকার উপরে।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের আম বাগান মালিক হাসান আল মাহমুদের সাথে,তিনি জানান,বছর ছয়েক আগে আমি দুই একর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান করি। শুরুতে ফলন কিছুটা কম হলেও পরবর্তিতে আশানুরুপ ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় বর্তমানে আমার ১০একর জমিতে হাড়িভাঙ্গার বাগান রয়েছে।
তিনি জানান,আশা করছি কমপক্ষে ৪৫ লক্ষ টাকার আম বিক্রি করতে পারবো। তাকে অনুসরন করে ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের অনেকেই এখন হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান করছেন।
তিনি আরও জানান,বেকার যুবকরা অহেতুক তাদের সময় নষ্ট না করে যদি জমি লিজ নিয়ে কিংবা নিজেদের জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান করতে পারেন আমার বিশ^াস তারা একদিন অবশ্যই স্বাবলম্বি হবেন।
বদরগঞ্জ উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,বদরগঞ্জ উপজেলায় হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগান রয়েছে ৩৯৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। তিনি আরও জানান,এ বছর হাড়িভাঙ্গা আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান,বদরগঞ্জে হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগানের সংখ্যাই বেশি। ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় হাড়িভাঙ্গা আম বাগানের সংখ্যা এ উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে।
তিনি আরও জানান,হাড়িভাঙ্গা আমটিকে যদি প্রকৃত অর্থে সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা যেত তাহলে শুধু রংপুর অঞ্চলে নয় জাতীয় অর্থনীতিতে আমটি গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখতে পারতো।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৬মে/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ১৩ মে, ২০১৮

ভিক্ষুক মা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

ভর দুপুর। প্রচন্ড রোদ আর গরমের দাপটে অতিষ্ট হয়ে ট্রেনের অপেক্ষায় যাত্রিরা যাত্রি ছাউনির নীচে ইট সিমেন্টের তৈরি বসার স্থানে কেউ বসে কেউবা দাঁড়িয়ে। তাপদাহ এতটাই যে,যাত্রি ছাউনির মেঝেও যেন হয়েছে তপ্ত মরুভুমি। বসার স্থান না পেয়ে প্রচন্ড তাপে ঘেমে যাওয়া এক ভিক্ষুক মা তার কন্যা সন্তানকে যাত্রি ছাউনির এক কোনে তপ্ত মেঝের মধ্যে দুটো পা মেলিয়ে দিয়ে রোদের লেলিহান শিখা হতে রক্ষা সহ পরম মমতায় আগলে রেখেছেন। এই হল মা।
দৃশ্যটি চোখে পড়ে রংপুরের বদরগঞ্জ প্লাটফর্ম এলাকায়।
কাছে গিয়ে কথা হয় উপজেলার দামোদরপুর ইউপির চাম্পাতলি হিন্দুপাড়া গ্রামের ভিক্ষুক মা স্বরস্বতি দেবির(৩২)সাথে,তিনি জানান,মেয়ে সন্তান জন্ম নেবার অপরাধে আমাকে ছেড়ে চলে যান স্বামি। আমার বাবা মা ভাই বোন না থাকার কারনে কারো কাছে আশ্রয় না পেয়ে এক সময় সন্তানকে নিয়ে নেমে পড়ি রাস্তায়। অবশেষে একই এলাকার নিঃসন্তান গরীব এক বৃদ্ধ আমাকে আশ্রয় দেন।
তিনি জানান,প্রথমে বাড়ি বাড়ি ঝিয়ের কাজ করলেও কোমড়ের হাড় ক্ষয় ও শরীরে নানা ধরনের রোগ ব্যধি হবার কারনে তেমন আর কাজ করতে পারি না। বাধ্য হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে জীবিকা নির্বাহ করি। আমিও বুঝি ভিক্ষা করা ভালো নয় কিন্তু কি করবো ? জীবনতো বাঁচাতে হবে।
তিনি আরও জানান,রোদের কারনে প্লাটফর্মের মেঝেতে বসে সন্তানকে নিয়ে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি।
এ সময় প্লাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষমান দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রি বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ রুহুল আমিন পাইকাড় জানান,অনেকক্ষন হতে লক্ষ্য করছি,তপ্ত মেঝেতে বসে ভিক্ষুক মহিলাটি পরম মমতায় তার শিশু সন্তানটিকে আদর করছেন। এমনকি নিজে কষ্ট স্বীকার করে গরম মেঝেতে শিশুটি যাতে কষ্ট না পায় পরম আদর দিয়ে তা নিবারনের চেষ্টা করছেন এ মমতাময়ী মা।
তিনি আরও জানান,আজ বিশ^ মা দিবস। আমার জীবনে দেখা শ্রেষ্ঠ মা,এই ভিক্ষুক মা। মা তোমাকে স্যালুট জানাই।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৩মে/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪       

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...