মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯

একটা কম্বল দেও বাহে,খুব জাড় নাগোছে !



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ

ছনের তৈরি জীর্ন কুঠির তাও আবার ভাংগাচোরা। পৌষের কনকনে ঠান্ডা আর হিম শীতল হাওয়া অনায়েসে প্রবেশ করে ঘরটিতে। এই ঘরেই বাস করেন সহায় সম্বলহীন অসহায় বৃদ্ধা লাখরাজি রাউথ (৭৫)।
বৃদ্ধা লাখরাজির বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির খোর্দ্দবাগবাড় মিশনপাড়া গ্রামে। প্রচন্ড ঠান্ডার দাপটে কাতর হয়ে ১০দিন আগে মারা গেছেন লাখরাজির স্বামি মিশরিয়া রাউথ।
বৃদ্ধার ৩ মেয়ে ২ ছেলে। সকলের বিয়ে হয়ে গেছে। আলাদা আলাদা সংসার তাদের। বৃদ্ধা লাখরাজির স্বামি মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত দু-জনেই একত্রে এই জীর্ন ছনের ঘরেই বাস করতেন। কৃষকের জমিতে ফেলে যাওয়া ধান আর ইঁদুরের গর্ত হতে বের করে আনা ধানই ছিল তাদের আয়ের এক মাত্র উৎস। বর্তমানে তিনি একা। 
সরেজমিনে  গতকাল মঙ্গলবার(৩১ডিসেম্বর) সংবাদ সংগ্রহের উদেশ্যে চলে যাই উপজেলা সদর হতে ১০কি.মি দুরে রামনাথপুর ইউপির খোর্দ্দবাগবাড় মিশনপাড়া গ্রামে। শীতের কুয়াশায় মোড়ানো সকালে মিষ্টি রোদের আশায় যবুথবু হয়ে জীর্ন ছনের ঘরের পাশে বসে আছেন অসহায় বৃদ্ধা লাখরাজি রাউথ।
বয়সের ভারে কোমর বেঁকে যাওয়া বৃদ্ধা লাখরাজি সংবাদকর্মি পরিচয় পেয়ে বলে ওঠেন, মোক একটা কম্বল দেন বাহে,এই জারোত মুই আর থাকপার পাওছো না। তোরা দিবার না পারেন,পেপারোত লেখি দেন বাবা,তাইলে কেউ না কেউ মোক একটা কম্বল দেবে। এই ঠান্ডাত ১০দিন আগে মোর স্বামি মরি গেইছে। এখন মুই কেমন করি বাঁচিম বাবা।
তিনি আরও জানান,এই বয়সোতও মুই বয়স্ক ভাতা পাও না। আর কত বয়স হইলে মোক ওরা বয়স্ক ভাতা দিবে।
এ দিকে,শীতের দাপটে কাতর অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি কিংবা বে-সরকারিভাবে এখনও চোখে পড়ার মত তেমন শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে শীত বস্ত্র বিতরন করা হয়েছে ৫ হাজার ৫শত কম্বল। এই উপজেলায় অসহায় দুস্থ মানুষের সংখ্যার তুলনায় কম্বলের পরিমান একেবারেই নগন্য। 
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট জানান, গোটা উপজেলায় ছিন্নমুল মানুষদের জন্য কম্বল বিতরন অব্যাহত আছে। আরও কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এলেই আবার বিতরন করা হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩১ডিসেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 


শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯

ডিম দুধ আর ভাঁপাপিঠা, যত বেশি শীত তত বেশি বিক্রি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ
 
স্বল্প আয়ের ছিন্নমুল মানুষরা শীতের দাপটে কাতর হলেও স্বপ্ল পুঁজির রাস্তার ধারের ভ্রাম্যমান দোকানদারদের ভাঁপাপুলি আর গরম দুধ ডিমের ব্যবসা চলছে রমরমা। বর্তমানে শীতের দাপট এতটাই বেড়ে গেছে যে,প্রচন্ড শীতে কাতর হয়ে পড়েছেন উপজেলার খেটে খাওয়া ছিন্নমুল মানুষরা।
ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাওয়া আকাশ আর হিমেল হাওয়া সব মিলিয়ে যেন হাড় কাঁপানো শীত। এই শীতে খেটে খাওয়া মানুষসহ সাধারন মানুষজন ঘর হতে বের হতে না পারলেও রাস্তার ধারে কিংবা দোকানের কোন এক কোনে বসে থাকা ভ্রাম্যমান দোকানদারদের শীতের গরম গরম মজাদার ভাঁপাপুলি,দুধ আর ডিমের চলছে রমরমা ব্যবসা। রাস্তার ধারের ভ্রাম্যমান দোকানদাররা কেউ ভাঁপাপুলির পসরা সাজিয়ে কেউবা দুধ আর ডিম নিয়ে বসে আছে। প্রতিটি দোকানেই যেন উপচে পড়া ভীড়। শীতের মজাদার নারিকেল ভাঁপাপুলি খেতে তারা এসেছেন এই সমস্ত ভ্রাম্যমান দোকানগুলিতে। কেউবা এসেছেন গরম দুধ আর সিদ্ধ ডিম খেতে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের এই ব্যবসা।
সরেজমিনে গত রাতে ও সকালে বদরগঞ্জ পৌরশহরের মোড়ে মোড়ে ভ্রাম্যমান ভাপাপুলি,দুধ আর সিদ্ধ ডিমের দোকানগুলিতে গিয়ে এ চিত্রই চোখে পড়ে। 
কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউপির ঢাঙ্গারপাড়া গ্রামের ভাঁপাপুলি বিক্রেতা ইয়ারুল ইসলামের(২৬)সাথে,তিনি জানান,ভাঁপাপুলি বিক্রি হয় সন্ধ্যা হতে রাত ১২টা পর্যন্ত। প্রতি পিঠা ৫টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা হতে প্রতিদিন আয় হয় কমপক্ষে ৬-৭শত টাকা। আমার অন্য ৩ ভাই আমার মত শীতের এই সময়টাতে পৌরশহরের অন্য মোড়ে ভাঁপাপুলির দোকান দিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ৪ ভাই ১ বোন। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।
অর্থাভাবে আমরা লেখাপড়া শিখতে পারি নাই। আমাদের আর্থিক অবস্থা বর্তমান সময়ের মত হলে আমার বাবা অবশ্যই আমাদের লেখাপড়া শেখাতো।
তিনি আরও জানান,যত বেশি কুয়াশা আর ঠান্ডা,তত বেশি বিক্রি হয় ভাঁপাপুলি,গরম দুধ আর সিদ্ধ ডিম।
কথা হয় উপজেলার মধুপুর ইউপির কাশিগঞ্জ গ্রামের দুধ ও ডিম বিক্রেতা আবু বক্কর সিদ্দিক(৫৪)সাথে,তিনি জানান,দীর্ঘ ২১ বছর ধরে দুধ ও ডিমের ব্যবসা করছি। শীতকালে এই ব্যবসাটি বেশি চলে। গ্রাহক এতবেশি বেড়ে যায় যে,বসে থাকার সময় পাই না। প্রতি গ্লাস দুধ ১৫টাকা ও প্রতি পিস ডিম ১০-১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন বিকাল ৪টা হতে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে। প্রতিদিন আয় হয় কমপক্ষে ৮-৯শত টাকা। 
তিনি আরও জানান,এক সময় মানুষের বাড়িতে মজুর দিয়ে সংসার চলতো। তখন অভাব অনটনের অন্ত ছিল না। এই ব্যবসা করেই জমি কিনে বাড়ি ঘর করা সহ সংসার,ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া সবকিছুই চলে। আল্লাহ্র রহমতে আমি ভালো আছি।
ভাঁপাপুলি আর সিদ্ধ ডিম খেতে আসা বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রাজিবুল ইসলাম রাজিব জানান,প্রচন্ড এই শীতে খেটে খাওয়া ছিন্নমুল মানুষদের কষ্ট হলেও রাস্তার ধারের স্বল্প পুঁজির এই দোকানদারদের ব্যবসা ভালই চলছে।
তিনি আরও জানান,শীত বস্ত্রের অভাবে ছিন্নমুল মানুষদের ভোগান্তি হলেও এই সমস্ত স্বল্প পুঁজির দোকানদার অর্থ্যাৎ গরীব ব্যবসায়িদের ব্যবসা কিন্তু ভালই চলছে। যত বেশি শীত আর ঠান্ডা তত বেশি তাদের বিক্রি।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট জানান,কনকনে শীতে এক শ্রেনির মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেলেও রাস্তার ধারের এই সমস্ত ভাঁপাপুলি,দুধ ডিমের দোকানগুলো ভালই চলছে।
তিনি আরও জানান,শীতের দাপট বাড়ার সাথে সাথে এ সমস্ত ভ্রাম্যমান দোকানগুলোর বিক্রি আরও বেড়ে যাবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২১ডিসেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



 

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...