কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
লোহার পেরেকে ক্ষত-বিক্ষত গাছগুলি। ক্ষত-বিক্ষত শরীরে প্রচন্ড যন্ত্রনা নিয়ে নিরবে যেন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। কারন গাছে বড় বড় পেরেক দিয়ে সাঁটানো হয়েছে ছোট বড় সাইনবোর্ড আর বিলবোর্ড। যেন দেখার কেউ নেই!
উপমহাদেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানি জগদীশ চন্দ্র বসু প্রমান করেছেন বৃক্ষের যেমন জীবন আছে,তেমনি তার যন্ত্রনা অনুভবের বিষয়টিও রয়েছে।
অথচ আমরা অক্সিজেন ফ্যাক্টরি নামে খ্যাত গাছগুলির শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে একদিকে যেমন অমানবিক কাজ করছি অন্যদিকে গাছটি নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনী শক্তি হারিয়ে মারা পড়ছে।
সরেজমিনে গত বুধবার(১৮সেপ্টেম্বর) বদরগঞ্জ উপজেলা ঘুরে পৌরশহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলি সহ উপজেলার ১০ ইউনিয়নের রাস্তার ধারে লাগানো গাছগুলিতে বড় বড় লোহার পেরেক দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে ছোট বড় সাইনবোর্ড আর বিলবোর্ড সাঁটানোর দৃশ্যই চোখে পড়ে।
কথা হয় বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানার সাথে,তিনি জানান,পৌরশহর সহ গোটা উপজেলায় রাস্তার ধারের গাছগুলিতে ব্যক্তি,প্রতিষ্ঠান ও ডাক্তারদের বড় বড় পেরেক মেরে ছোট বড় সাইনবোর্ড বিলবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। পেরেকের অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে গাছগুলি কোন রকমে বেঁচে আছে। যেন দেখার কেউ নেই।
কথা হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান,বৃক্ষের প্রতি মানুষের সদয় ও যতœবান হওয়া উচিত। কারন বৃক্ষ ছাড়া আমরা বাঁচতে পারবো না।
‘গাছ লাগাও পরিবেশ বাঁচাও’ নামক সংগঠনের বদরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম জানান, পেরেক দিয়ে জীবন্ত গাছে সাইন বোর্ড লাগানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। গাছের সাথে এ নিষ্ঠুর আচরন বন্ধের তিনি জোর দাবি জানান।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান,জীবন্ত গাছে পেরেক মেরে সাইন বোর্ড লাগানো ঠিক না। এতে গাছটি নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মরে যেতে পারে অথবা গাছটি বিকৃত হয়ে ফুল ফল উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পেতে পারে।
উপজেলা বন বিট অফিসার মোর্সেদ আলম জানান,জীবন্ত গাছে লোহার পেরেক দিয়ে সাইন বোর্ড লাগানো অবৈধ,ফরেষ্ট আইনে এটি দন্ডনীয় অপরাধ।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার আমিনুল ইসলাম(অতিরিক্ত দায়িত্ব)মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯সেপ্টেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

