কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
রজনী কান্ত দাস(৫০) বসন্ত দাস(৩৫) ও সুশান্ত দাস(৪৫)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির গুদাম পাড়া গ্রামে। এদের প্রত্যেকের আদি পেশা নদীতে মাছ ধরা। এক সময় তাদের প্রত্যেকের বাবা দাদারা এই যমুনেশ^রী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। সময়ের পথ পরিক্রমায় আগের মত আর নদীতে পানি এবং মাছ না থাকায় বাপ দাদার আদি পেশা ছেড়ে দিয়ে তারা প্রত্যেকে কৃষি শ্রমিকের কাজ করেন। মাঝে মধ্যে নিজের প্রয়োজনে কখনো বেকার থাকার কারনে কখনোবা বাপ দাদার আদি পেশার টানেই নদীতে ছুটে আসেন। আজ তারা তিন জনেই এসেছেন বিশাল নামক জাল নিয়ে যমুনেশ^রী নদীতে মাছ ধরতে।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার(০১মে)সংবাদ সংগ্রহের উদেশ্যে উপজেলা ঘুরে দেখার সময় চোখে পড়ে বিশাল নামক জাল দিয়ে যমুনেশ^রী নদীতে মাছ ধরছেন রজনী কান্ত দাস এবং তাকে সহযেগিতা করছেন একই এলাকার বসন্ত দাস ও সুশান্ত দাস।
নদীতে জাল ফেলার ফাঁকে কথা হয় রজনী কান্ত দাসের সাথে,তিনি জানান, সেই সকাল থাকি মাছ মারোচি, এখন দোপড় গড়োছে, মাছ পাইনো তিন পোয়ার মতন। জাল ধরি হামার খালি ঘোরায় সার। মাছ আর পাইনো না।
তিনি জানান,আগে হামার বাপ দাদারা এই নদীত মাছ ধরি সংসার চালাইছে। হামরাও এক সময় বাপের সাথে মাছ ধরি বেড়াইছি। তখন অনেক মাছ আছিলো। এখন আর নদীত মাছ নাই।
তিনি আরও জানান,নদীত মাছ নাই দেখি হামরা এখন বাধ্য হয়্যা কৃষি শ্রমিকের কাম করি। এই সময়টাতে তেমন কোন কাম নাই। বেকার হয়্যা আছি। ভাবনো,নদীত যাই,যদি মাছ পাই,তাইল্যে আজকের দিনটা অন্তঃত কোন রকমে চলবে। মাছ তো পাইনো না।
এ সময় কথা হয় সুশান্ত দাসের সাথে,তিনি জানান, বিশাল জালটা অনেক বড়। এক জন জাল ধরি থাকে আর হারা দুই জন বড় দড়ি ধরি অনেক দুর পর্যন্ত পানিত ডাং দিতে থাকি, এক সময় পানিত ডাং দিতে দিতে মাছ জালের কাছোত নিয়া আসি। পরে জাল তোলা হয়। আগোত এই জাল দিয়া হারা অনেক মাছ ধরছেনো।
তিনি আরও জানান,এই যে হারা তিন জন। মাছ পাইনো তিন পোয়ার মতন। এখন্যা মাছ দিয়্যা কি হইবে ? মাছ মাইরব্যার আসস্যাটাই হামার ভুল হইছে।
অপর ব্যক্তি বসন্ত দাস বলেন, হামার মতন গরীব মানুষের এই সময়টাতে কাজ কাম না থাকায় খুব কষ্ট হয়। কি আর করার,দিন তো পার করব্যার নাগবে ?
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান,নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস,নদী ভরাট করা,মা মাছের আবাসস্থল নষ্ট করা,ডোবা নালা সেচ দিয়ে মাছ ধরা,জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার,জলাশয় দুষন,রাক্ষুসে মাছের চাষ সহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেশিয় মাছ বিলুপ্তির অন্যতম কারন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম পারভেজ জানান,নদ-নদীগুলোতে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে কথাটি সত্য। কারন হিসেবে তিনি জানান,মাছের অভয়াশ্রম নষ্ট হয়ে যাওয়া ও নতুন অভয়াশ্রম সৃষ্টি না হওয়ায় এ এলাকায় দেশিয় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। তবে মৎস্য বিভাগ মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র সৃষ্টির মাধ্যমে দেশিয় প্রজাতির মাছের অভাব পুরনে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০২মে/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন