শনিবার, ২৬ মে, ২০১৮

দারিদ্র জয় ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক হাড়িভাঁঙ্গা আম






কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

পাতলা চামড়া মাংসল আর রসে টইটুম্বুর আম “হাড়িভাঁঙ্গা”। আমটি একটি খেলে আরেকটি খাওয়ার  জন্য অপেক্ষা করবে যে কেউই।  
সপ্তাহ দুয়েক পর হতেই হলুদাভ লালচে আভা ছড়ানো রং নিয়ে বাজারে আসবে হাড়িভাঁঙ্গা নামক সু-স্বাদু আমটি। রংপুর অঞ্চলের বেকার যুবকদের কাছে হাড়িভাঁঙ্গা নামের আমটি এখন আর শুধু আম নয়, তারা এই আমটিকে দেখছেন দারিদ্র জয় ও স্বাবলম্বি হওয়ার প্রতীক হিসেবে।
এ কারনে বদরগঞ্জ সহ রংপুর জেলায় দিন দিন বাড়ছে হাড়িভাঁঙ্গা জাতের আম বাগান।
গত শুক্রবার(২৫মে)সংবাদ সংগ্রহের উদেশ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগানে গিয়ে দেখা যায়,বিস্তৃীর্ন বাগান। তাতে সারি সারি আম গাছ। সারির প্রতিটি গাছের ডালেই ঝুলে আছে ছোট বড় অপেক্ষাকৃত গোলাকৃতির হাড়িভাঙ্গা আম।
বাগান মালিক ও আম চাষিদের সাথে কথা বলে এও মনে হয়েছে,হাড়িভাঙ্গা আম যেন এ অঞ্চলের আম চাষিদের আগামির স্বপ্ন। আম চাষিরা সেই সোনালি স্বপ্নেই বর্তমানে বিভোর হয়ে আছেন। কারন সপ্তাহ দুয়েক পরেই তাদের বাগানের পরিপক্ক পুষ্ট রসালো আম বাজারে আসবে। বাজারে চাষিদের আম আসা মানেই আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া অর্থ্যাৎ স্বাবলম্বি হওয়া।
এ সময় কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউপির শংকরপুর ঝাড়পাড়া গ্রামের আম বাগান মালিক মাহাফুজ ওয়াহিদ চয়নের সাথে,তিনি জানান,আমাদের এই অঞ্চলে আমরাই প্রথম হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগান করি। আম গাছ রোপনের দু-বছর পর হতেই ফল ধরতে শুরু করে। পরবর্তী বছর গুলো হতে আমের ফলন বেশি হতে শুরু করে।
তিনি জানান,হাড়িভাঙ্গা আমের ফলন বেশি হয় এবং বাজারে দামও বেশি পাওয়া যায়। এ কারনে পরবর্তীতে আমরা আরও ৩টি হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান করি।
তিনি আরও জানান,প্রতি বছর আমাদের ৪টি আম বাগান(প্রায় ৯একর) হতে আয় হয় ৪০ লক্ষ টাকার উপরে।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের আম বাগান মালিক হাসান আল মাহমুদের সাথে,তিনি জানান,বছর ছয়েক আগে আমি দুই একর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান করি। শুরুতে ফলন কিছুটা কম হলেও পরবর্তিতে আশানুরুপ ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় বর্তমানে আমার ১০একর জমিতে হাড়িভাঙ্গার বাগান রয়েছে।
তিনি জানান,আশা করছি কমপক্ষে ৪৫ লক্ষ টাকার আম বিক্রি করতে পারবো। তাকে অনুসরন করে ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের অনেকেই এখন হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান করছেন।
তিনি আরও জানান,বেকার যুবকরা অহেতুক তাদের সময় নষ্ট না করে যদি জমি লিজ নিয়ে কিংবা নিজেদের জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান করতে পারেন আমার বিশ^াস তারা একদিন অবশ্যই স্বাবলম্বি হবেন।
বদরগঞ্জ উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,বদরগঞ্জ উপজেলায় হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগান রয়েছে ৩৯৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। তিনি আরও জানান,এ বছর হাড়িভাঙ্গা আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান,বদরগঞ্জে হাড়িভাঙ্গা জাতের আম বাগানের সংখ্যাই বেশি। ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় হাড়িভাঙ্গা আম বাগানের সংখ্যা এ উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে।
তিনি আরও জানান,হাড়িভাঙ্গা আমটিকে যদি প্রকৃত অর্থে সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা যেত তাহলে শুধু রংপুর অঞ্চলে নয় জাতীয় অর্থনীতিতে আমটি গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখতে পারতো।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৬মে/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ১৩ মে, ২০১৮

ভিক্ষুক মা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

ভর দুপুর। প্রচন্ড রোদ আর গরমের দাপটে অতিষ্ট হয়ে ট্রেনের অপেক্ষায় যাত্রিরা যাত্রি ছাউনির নীচে ইট সিমেন্টের তৈরি বসার স্থানে কেউ বসে কেউবা দাঁড়িয়ে। তাপদাহ এতটাই যে,যাত্রি ছাউনির মেঝেও যেন হয়েছে তপ্ত মরুভুমি। বসার স্থান না পেয়ে প্রচন্ড তাপে ঘেমে যাওয়া এক ভিক্ষুক মা তার কন্যা সন্তানকে যাত্রি ছাউনির এক কোনে তপ্ত মেঝের মধ্যে দুটো পা মেলিয়ে দিয়ে রোদের লেলিহান শিখা হতে রক্ষা সহ পরম মমতায় আগলে রেখেছেন। এই হল মা।
দৃশ্যটি চোখে পড়ে রংপুরের বদরগঞ্জ প্লাটফর্ম এলাকায়।
কাছে গিয়ে কথা হয় উপজেলার দামোদরপুর ইউপির চাম্পাতলি হিন্দুপাড়া গ্রামের ভিক্ষুক মা স্বরস্বতি দেবির(৩২)সাথে,তিনি জানান,মেয়ে সন্তান জন্ম নেবার অপরাধে আমাকে ছেড়ে চলে যান স্বামি। আমার বাবা মা ভাই বোন না থাকার কারনে কারো কাছে আশ্রয় না পেয়ে এক সময় সন্তানকে নিয়ে নেমে পড়ি রাস্তায়। অবশেষে একই এলাকার নিঃসন্তান গরীব এক বৃদ্ধ আমাকে আশ্রয় দেন।
তিনি জানান,প্রথমে বাড়ি বাড়ি ঝিয়ের কাজ করলেও কোমড়ের হাড় ক্ষয় ও শরীরে নানা ধরনের রোগ ব্যধি হবার কারনে তেমন আর কাজ করতে পারি না। বাধ্য হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে জীবিকা নির্বাহ করি। আমিও বুঝি ভিক্ষা করা ভালো নয় কিন্তু কি করবো ? জীবনতো বাঁচাতে হবে।
তিনি আরও জানান,রোদের কারনে প্লাটফর্মের মেঝেতে বসে সন্তানকে নিয়ে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি।
এ সময় প্লাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষমান দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রি বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ রুহুল আমিন পাইকাড় জানান,অনেকক্ষন হতে লক্ষ্য করছি,তপ্ত মেঝেতে বসে ভিক্ষুক মহিলাটি পরম মমতায় তার শিশু সন্তানটিকে আদর করছেন। এমনকি নিজে কষ্ট স্বীকার করে গরম মেঝেতে শিশুটি যাতে কষ্ট না পায় পরম আদর দিয়ে তা নিবারনের চেষ্টা করছেন এ মমতাময়ী মা।
তিনি আরও জানান,আজ বিশ^ মা দিবস। আমার জীবনে দেখা শ্রেষ্ঠ মা,এই ভিক্ষুক মা। মা তোমাকে স্যালুট জানাই।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৩মে/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪       

শুক্রবার, ১১ মে, ২০১৮

কৃষি শ্রমিক সংকট দিশেহারা কৃষক



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

“কনকনা ঠান্ডাত আর শরীল পানি করি হামরা খালি ধান আবাদ করি,এমনিতে ধানোত বাবোদ তার পর হাড় ভাঁঙ্গা খাটুনি,অসময়ে পানিতে ধানের ক্ষতি,তার উপর ফির ধান কাটা মানুষ পাওয়া যাওছে না। ক্যাংকা করি হারা ধান আবাদ করমো।” এই কথাগুলো বললেন বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির কিসমত ঘাটাবিল এলাকার কৃষক এমারুল হক(৫৫)।
তিনি আরও জানান,ধান পাকি ভুইয়োতে শেষ হয়্যা যাওছে,কামলার অভাবে ধান কাটপ্যার পারোছো না। কয় দিন ঘুরি যে দুই জন কামলা পানু,ওরা ফির পানিত পড়া ধান কাটপ্যার চাওছে না। মুই এখন কি করিম ? 
সরেজমিনে গত শুক্রবার(১১মে) গোটা উপজেলা ঘুরে দেখা যায়,উপজেলার বিস্তৃর্ন মাঠ জুড়ে পাকা ধান ক্ষেত। সোনালি আভা ছড়াচ্ছে পাকা ধান ক্ষেতগুলো। কোথাও দেখা যায়,অসময়ের বৃষ্টিতে পাকা ধান ক্ষেতে পানি জমে আছে, আবার কোথাও দেখা যায়,পানিতে ন্যুইয়ে পড়েছে পাকা ধান গাছ। উপজেলার প্রতিটি জমির ধান কাটার উপযুক্ত হলেও শুধুমাত্র কৃষি শ্রমিক সংকটের কারনে কৃষকরা তা কাটতে পারছেন না। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। এই হল রংপুর বদরগঞ্জের ধান কাটা নিয়ে শ্রমিক সংকটের চিত্র।
কথা হয় গোপিনাথপুর ইউপির বোর্ডেরহাট এলাকার কৃষক সাহাবুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান,কয় দিন আগে শিলাবৃষ্টিতে এমনিতেই ধানের ক্ষতি হয়েছে তার উপর বেশি মজুরি দিয়েও ধান কাটার জন্য মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না। পাকা ধান নিয়ে আমরা খুব সমস্যায় আছি।
তিনি আরও জানান,এমনিতেই ১ বিঘা(৫২শতাংশ)ধান ফলছে ৪০মন(১মন-২৮কেজি)। ১ বিঘা জমি আবাদ করতে খরচ হয়েছে সব মিলিয়ে ১৫ হাজার টাকারও বেশি। শ্রমিক সংকটের কারনে এখন ১ বিঘা জমিতে ধান কাটতে খরচ হচ্ছে ৫হাজার টাকা। এ দিকে,ধানের মন ৫শত টাকা। এখন বুঝেন,কৃষকের ধান আবাদ করে কতটুকু লাভ ?
কথা হয় রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিকের সাথে,তিনি জানান,আগে আমাদের এলাকায় ধান কাটার জন্য অনেক কৃষি শ্রমিক পাওয়া যেত। এখন আর পাওয়া যায় না, কারন হিসেবে তিনি বলেন,আমাদের এ অঞ্চলের কিছু লোকজন দল বেঁধে এ মৌসুমে দেশের নানা প্রান্তে ধান কাটতে যায় অধিক টাকা আয়ের জন্য। আর কিছু লোকজন ঢাকায় গার্মেন্টস্ সহ রিকসা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। তাই আমাদের এ এলাকায় কৃষি শ্রমিক সংকট। 
তিনি আরও জানান,আমারও ৩০ বিঘা জমির পাকা ধান কৃষি শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারছি না। ধান জমিতেই পড়ে আছে। জানি না কি হবে ?
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়,বোরোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭২৬০হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ১৭৩২৫হেক্টর। এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান,অর্জিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক জমির ধান কাটা সম্পন্ন হলেও মজুর সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে ধান কাটা বিলম্বিত হচ্ছে। 
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান মজুর সংকটের বিষয়ে জানান, দেশের নানা প্রান্তে আগাম ধান কাটা শুরু হওয়ার কারনে এ উপজেলার কৃষি শ্রমিকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাওয়ায় কৃষি শ্রমিকের এ সংকট।
তিনি আরও জানান, এ ছাড়াও এক ধরনের কৃষি শ্রমিক এখন আর কৃষির সঙ্গে সংযুক্ত নয়। তারা এখন ভ্যান,অটো রিক্সা,চার্জার ভ্যান সহ অন্য কাজের সাথে যুক্ত। তারা এখন আর রোদে পুড়ে ধান কাটতে চায় না। এটাও কৃষি শ্রমিক সংকটের অন্যতম কারন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২মে/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

মঙ্গলবার, ১ মে, ২০১৮

“জাল নিয়া হামার খালি ঘোরায় সার,মাছ পাইনো না”


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রজনী কান্ত দাস(৫০) বসন্ত দাস(৩৫) ও সুশান্ত দাস(৪৫)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির গুদাম পাড়া গ্রামে। এদের প্রত্যেকের আদি পেশা নদীতে মাছ ধরা। এক সময় তাদের প্রত্যেকের বাবা দাদারা এই যমুনেশ^রী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। সময়ের পথ পরিক্রমায় আগের মত আর নদীতে পানি এবং মাছ না থাকায় বাপ দাদার আদি পেশা ছেড়ে দিয়ে তারা প্রত্যেকে কৃষি শ্রমিকের কাজ করেন। মাঝে মধ্যে নিজের প্রয়োজনে কখনো বেকার থাকার কারনে কখনোবা বাপ দাদার আদি পেশার টানেই নদীতে ছুটে আসেন। আজ তারা তিন জনেই এসেছেন বিশাল নামক জাল নিয়ে যমুনেশ^রী নদীতে মাছ ধরতে।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার(০১মে)সংবাদ সংগ্রহের উদেশ্যে উপজেলা ঘুরে দেখার সময় চোখে পড়ে বিশাল নামক জাল দিয়ে যমুনেশ^রী নদীতে মাছ ধরছেন রজনী কান্ত দাস এবং তাকে সহযেগিতা করছেন একই এলাকার বসন্ত দাস ও সুশান্ত দাস।
নদীতে জাল ফেলার ফাঁকে কথা হয় রজনী কান্ত দাসের সাথে,তিনি জানান, সেই সকাল থাকি মাছ মারোচি, এখন দোপড় গড়োছে, মাছ পাইনো তিন পোয়ার মতন। জাল ধরি হামার খালি ঘোরায় সার। মাছ আর পাইনো না।
তিনি জানান,আগে হামার বাপ দাদারা এই নদীত মাছ ধরি সংসার চালাইছে। হামরাও এক সময় বাপের সাথে মাছ ধরি বেড়াইছি। তখন অনেক মাছ আছিলো। এখন আর নদীত মাছ নাই।
তিনি আরও জানান,নদীত মাছ নাই দেখি হামরা এখন বাধ্য হয়্যা কৃষি শ্রমিকের কাম করি। এই সময়টাতে তেমন কোন কাম নাই। বেকার হয়্যা আছি। ভাবনো,নদীত যাই,যদি মাছ পাই,তাইল্যে আজকের দিনটা অন্তঃত কোন রকমে চলবে। মাছ তো পাইনো না।
এ সময় কথা হয় সুশান্ত দাসের সাথে,তিনি জানান, বিশাল জালটা অনেক বড়। এক জন জাল ধরি থাকে আর হারা দুই জন বড় দড়ি ধরি অনেক দুর পর্যন্ত পানিত ডাং দিতে থাকি, এক সময় পানিত ডাং দিতে দিতে মাছ জালের কাছোত নিয়া আসি। পরে জাল তোলা হয়। আগোত এই জাল দিয়া হারা অনেক মাছ ধরছেনো।
তিনি আরও জানান,এই যে হারা তিন জন। মাছ পাইনো তিন পোয়ার মতন। এখন্যা মাছ দিয়্যা কি হইবে ? মাছ মাইরব্যার আসস্যাটাই হামার ভুল হইছে।
অপর ব্যক্তি বসন্ত দাস বলেন, হামার মতন গরীব মানুষের এই সময়টাতে কাজ কাম না থাকায় খুব কষ্ট হয়। কি আর করার,দিন তো পার করব্যার নাগবে ?  
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান,নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস,নদী ভরাট করা,মা মাছের আবাসস্থল নষ্ট করা,ডোবা নালা সেচ দিয়ে মাছ ধরা,জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার,জলাশয় দুষন,রাক্ষুসে মাছের চাষ সহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেশিয় মাছ বিলুপ্তির অন্যতম কারন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম পারভেজ জানান,নদ-নদীগুলোতে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে কথাটি সত্য। কারন হিসেবে তিনি জানান,মাছের অভয়াশ্রম নষ্ট হয়ে যাওয়া ও নতুন অভয়াশ্রম সৃষ্টি না হওয়ায় এ এলাকায় দেশিয় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। তবে মৎস্য বিভাগ মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র সৃষ্টির মাধ্যমে দেশিয় প্রজাতির মাছের অভাব পুরনে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০২মে/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


 










 

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...