বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৭

শিশু শ্রম




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

জীবন মানে গতিশীলতা,থেমে থাকা তার কাছে যেন দ্যর্থহীন কোন বাসনা। জীবন চলে তার নিজস্ব গতিতে আপন ভঙ্গিমায়। জীবনটাকে উপভোগ করছি আমরা সবাই ভিন্ন রঙ্গে ভিন্ন সাজে এই যা ! সবাই তো আর এক ভাবে জীবনটাকে উপভোগ করে না আর করতে পারেও না। এ জীবনে কতইনা উত্থান কতইনা পতন। জীবনের পড়ন্ত বেলায়ও সে যেন চলে ঘড়ির কাটার মত টিক টিক করে।
আমি আজ সেই জীবনের কথা বলবো যেখানে আছে শুধু গতিশীলতা,নেই কোন বিনোদনের লেশ মাত্র উপকরন। বেকার দারিদ্রতা হতাশাগ্রস্থ জীবন আর বিভিষিকাময় দিনগুলিকে পিছনে ফেলে মূলতঃ নিয়তির উপর ভর করে আদম সন্তানদের রাজধানি শহরে ছুঁটে আসা।
ছুঁটতে ছুঁটতে হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে হয়তঃ শরীরের কোন স্থান হতে লবন মিশ্রিত লাল পানি মুছে অথবা ঝটপট নোংড়া কাপড় দিয়ে আবৃত করে ব্যাথায় কাতরাতে কাতরাতে আবারো ছুঁটা। এ যেন দৌঁড় দৌঁড় খেলা।
এমন চরম বাস্তবতাকে স্বচক্ষে দেখতে গেলে সকাল ৭টা হতে ৮টার মধ্যে রাজধানির যে কোন রাস্তায় কিংবা গলির দিকে তাকালে এর সচিত্র সহজেই চোখে পড়বে। ছোট বড় কমবয়সি মধ্যবয়সি সব ধরনের লোকজন অর্থাৎ যাকে বলি আবালবৃদ্ধবনিতা। তবে এদের মধ্যে সহজেই দৃষ্টি কাড়ে কোমলমতি শিশুদের। যাদের কোমল হাত প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হচ্ছে জীবিকার কষাঘাতে। এ সব দেখে আবেগে আপ্লুত হয় মন। ঘৃনা ক্ষোভ আর লজ্জা যেন আমার ঘুমিয়ে থাকা বিবেককে যাতাকলে পিষ্ট করে।
উন্নত বিশ্বে যখন শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হচ্ছে তখন আমরা তাকে ঘটা করে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা এতটাই নির্দয় ও অমানবিক যে, এমন কোন কাজ নেই যা আমরা শিশুদের দিয়ে করাচ্ছি না। ইটভাটা,খোঁয়া(ইট)ভাঁঙ্গা হতে শুরু করে পতিতাবৃত্তি পর্যন্ত। খোঁয়া ভাঁঙ্গতে ভাঁঙ্গতে এ সব কোমলমতি শিশুদের হাতের নরম মাংসপিন্ড গুলো যেন শিখ কাবাবের মত হয়ে যায় আর তাদের হাতের তালুগুলো দেখলে মনে হয় তেলে ভাজা পিঁয়াজির অংশ বিশেষ। জীবিকার তাগিদে তবুও চলে একের পর এক ইট ভাঁঙ্গার কাজ। এ সব কথা ভাবলে শিহরে উঠে শরীর,মোচড় দিয়ে ওঠে হৃদপিন্ড, হৃদয়ে ভীষন ব্যথা অনুভব হয়। তখন লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করে। এ লজ্জা কি শুধু আমার একার! এ লজ্জা আমাদের সকলের। ভেবে দেখুন পাঠক,এই সব আদম সন্তানরা আমাদের ভাই বন্ধু এবং আমাদের সন্তান। এই সকল শিশুরাও চায় সুন্দর এই পৃথিবীতে সূস্থ্যভাবে বেঁচে থাকতে,চায় আনন্দময় জীবন। বের হয়ে আসতে চায় দারিদ্রের  কষাঘাত,পাচারকারি,ধর্ষনকারি তথা মানুষরুপি পশুদের শৃঙ্খল হতে। এই দু-পা বিশিষ্ট প্রানিদের দায়িত্ব কে নেবে? এই নিষ্পাপ ফুলের মত আদম সন্তানদের নির্বিঘেœ চলাফেরা,চিকিৎসা,লেখাপড়া,বাসস্থান তথা মৌলিক চাহিদাগুলো পূরনে কে এগিয়ে আসবে? নাকি এদের সকলের দয়ায় অনুকম্পায় বেঁচে থাকতে হবে। এভাবে বেঁচে থাকার নামকে কি জীবন বলে ? কি মূল্য আছে এ জীবনের ? দেয়ালে পিঠ লেগে থাকা শিশুদের হয়তঃ একদিন দেখা যাবে সারাদেশ জুড়ে মিছিলের কলকানি,স্লোগান একটাই “আমরা বাঁচতে চাই,আমাদের বাঁচতে দিন”।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩০নভেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪    

বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭

প্রতিবন্ধকতা হার মানলো বদরগঞ্জের আইয়ুব আলির কাছে



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
 

পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছা শক্তি যে, কোন মানুষের জন্য প্রতিবন্ধকতা নয় তার জলন্ত উদাহরন বদরগঞ্জের পিএসসি পরীক্ষার্থী আইয়ুব আলি(১১)। বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির কোদালদাহ্ গ্রামে। দিনমজুর পিতা নুর ইসলামের ৩ সন্তানের মধ্যে বড় সে।
শ্যামলা মাঝারি গড়নের শিশু সস্তান আইয়ুব আলির দু-হাত না থাকলেও মুখ দিয়ে পিএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে সে।
হস্ত প্রতিবন্ধি হলেও তার লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ এতটাই যে দিনমজুর পিতা নুর ইসলাম বাধ্য হন বুদ্ধি প্রতিবন্ধি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিতে। বর্তমানে সে পিএসসি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষে কথা হয় আইয়ুব আলির সাথে,
সে জানায়; ছোট বেলা হতে লেখাপড়া করতে আমার ভীষন ভাল লাগতো। এ কারনে লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে আমার গরীব পিতা স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু আমার কপাল এতটাই খারাপ যে,ক্লাস টু তে পড়াকালিন সময়ে এক বিদ্যুৎ দুর্ঘটনায় আমার দুটো হাতই কেটে ফেলতে হয়। এক সময় আমার বাবা আমাকে স্কুল হতে ছাড়িয়ে আনেন। আমি বাড়িতে অবশিষ্ট হাতের সাহায্যে মুখ দিয়ে লেখার চেষ্টা করি এবং আল্লাহ্র অশেষ রহমতে সফল হই।
সে আরও জানায়; আমি লেখাপড়া শিখে বড় হতে চাই। বড় হয়ে প্রতিবন্ধিদের পাশে দাঁড়াতে চাই। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।
কালুপাড়া গুটিরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ বি এম আমিনুল ইসলাম জানান; আমার স্কুলেই আইয়ুব আলি পিএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আমি আশ্চর্য হয়েছি এই ভেবে যে, সুস্থ্য বাচ্চাদের মত সে কষ্ট করে হলেও ভালো পরীক্ষা দিচ্ছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহিউদ্দিন আহম্মেদ মোবাইল ফোনে জানান; বাচ্চাটির অদম্য ইচ্চা শক্তিই আমাকে অবাক করছে। আমি তার সাফল্য কামনা করি।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান; প্রচন্ড আগ্রহ ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি যে মানুষকে সামনের দিকে নিয়ে যায় হস্ত প্রতিবন্ধি আইয়ুব তার প্রমান। আমার বিশ^াস সে এগিয়ে যাবেই।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৩নভেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪









শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

নরসুন্দর - রাস্তায় যাদের জীবন জীবিকা





কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বয়সের ভারে ন্যুইয়ে পড়া বৃদ্ধ মানুষটির নাম শশী মোহন শীল(৭১)। ক্ষুর কাঁচি আর চট বিছিয়ে রাস্তার ধারে বসে আছেন কাষ্টমার ধরতে। পেশায় তিনি নাপিতের কাজ করেন। জীবন জীবিকার প্রয়োজনে তিনি এই বৃদ্ধ বয়সেও নাপিতের কাজ করছেন।
শশী মোহনের বাড়ি উপজেলার দামোদরপুর ইউপির মোস্তফাপুর গ্রামে।
সহায় সম্বলহীন মানূষটি এ কাজ করছেন পাকিস্তান আমল হতে। অনেক কষ্টে বাপ-দাদার পেশাটিকে তিনি আঁকড়ে ধরে আছেন। তার  ৩ ছেলে এক মেয়ে। সবার বিয়ে হয়ে গেছে। সন্তানরা তাদের নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত।
বৃদ্ধ নর সুন্দর শশী মোহন শীল জানান; জমি-জমা কিছুই নেই আমার। বৃদ্ধ বয়সে কোন কাজও করতে পারি না। তাই এই বয়সেও নরসুন্দরের কাজ করে যাচ্ছি। রাস্তার ধারে ঝড় বৃষ্টি অতিক্রম করে কোন রকমে এ পেশাটিকে ধরে রেখেছি। কষ্ট হয় সস্তানরাও দেখে না পৌরসভা কর্তৃপক্ষও দেখে না। পৌরসভা হতে যদি কোন ঘর বরাদ্দ করে দিত তাহলে এই বৃদ্ধ বয়সে কাজ করে শান্তি পেতাম। তিনি আরও জানান;গরীব মানুষরা আমার এখানে এসে চুল দাড়ি কামায়। চুল কাটা ১০ টাকা আর দাড়ি কামানো ৫ টাকা। আর কেউ যদি চুল-দাড়ি একসঙ্গেঁ কাটে তবে ৩ টাকা কম নেই। বদরগঞ্জ উপজেলায় যত নরসুন্দর আছেন তারা আমাদেরই বংশধর।
কথা হয় অপর নরসুন্দর কালি পদ(৬৬)সাথে তার বাড়ি
উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউপির হাজিপুর গ্রামে।
তিনি জানান;রোদ বৃষ্টি ঝড় মাথায় নিয়ে আমরা রাস্তার ধারে বসে চুল দাড়ি কাটার কাজ করি। যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে। আমরা রাস্তার ধারে বসা নরসুন্দররা শুধু মাত্র ২দিন অর্থ্যাৎ বদরগঞ্জের হাটবারে কাজ করি। বাকি দিন অন্যের বাড়িতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করি। বাপ-দাদার পেশা ছাড়তেও পারি না। তবে আমাদের দিকে কেউ তাকায় না। পুঁজি থাকলে কি আমরা রাস্তার ধারে বসতাম ?
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন অপর নরসুন্দর নির্মল বিশ্বাস(৬৩)। বাড়ি উপজেলার মধুপুর ইউপির রাজারামপুর গ্রামে। তিনি জানান;হতদরিদ্র গরীব লোকজনরাই আমাদের কাষ্টমার। সারাদিন কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে আমার সংসার। তিনি আরও জানান;আমরা মানুষকে সুন্দর করি কিন্তু আমাদের জীবন সুন্দর নয়। অনেক কষ্টে চলে আমাদের জীবন। এভাবে কি বেঁচে থাকা যায় !
একে একে নরসুন্দর লাল মিয়া((৬৫),মেনহাজুল হক(৪৫),সাজ্জাদ আলি(৩০)এই প্রতিবেদককে জানান;ভাই আমরা রাস্তার ধারে খুব কষ্টের মধ্যে দিয়ে কাজ করি। এমনভাবে লিখে দেন পৌরসভা কর্তৃপক্ষ যেন আমাদের জন্য কিছু একটা করে।
বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র উত্তম সাহা জানান;বিষয়টি আমি অবগত আছি। জমি পাওয়া মাত্র রাস্তার ধারে বসা ভ্রাম্যমান নরসুন্দরদের পুর্নবাসন করা হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮নভেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪







 
     

শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৭

পেশা যাদের সাপ ধরা



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে ৭ কিঃমিঃ পর্ব-পশ্চিম কোনে রামনাথপুর ইউপির খোর্দ্দবাগবাড় গ্রাম। যেখানকার সকল মানুষই আদিবাসি এবং বসবাস করেন মাটির তৈরি কুঁড়ো ঘরে।  
সতিই আজব একটি গ্রাম। যে গ্রামের মানুষদের বসবাস সাপের সাথে। সাপ ধরাই যাদের নেশা ও পেশা। প্রায় আড়াই’শ বছর ধরে বাপ-দাদার এই পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছেন তারা। এই গ্রামের ৮০টি পরিবার সকলেই এই পেশার সাথে সরাসরি জড়িত।
হালকা পাতলা গড়নের মানুষ রাম রশি রাউথ(৬৫)। যার পেশা জীবিত সাপ ধরা। সারাদিন সাপ ধরে এবং বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলে তার ৬ জনের সংসার। বাপ-দাদার পেশাও ছিল এটি। রাম রশির মত তার গ্রামের সকলেরই পেশা সাপ ধরা,এ কারনে উপজেলার মানুষরা ওই গ্রামের নাম দিয়েছে সাপের গ্রাম।
আজব গ্রাম সাপ পল্লীতে কয়েকদিন ঘুরে তাদের একত্রে না পাওয়ার কারনে একদিন তাদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে বিদায় নিতে হয় অন্যদিন শুধু ছবি নিয়েই ফিরতে হয়। কারন তারা ভোর বেলা বাড়ি হতে বের হয়ে আশে পাশের সকল জেলা উপজেলায় ঘুরে বেড়ায় সাপের খোঁজে। অনুরোধ করে একদিন তাদের কমবেশি সকলের একত্রে পাওয়া যায়। 
এ সময় কথা হয় সাপ ধরতে নের্তৃত্ব দেয়া রাম রশি রাউথের সাথে,তিনি জানান;সারা দিন বনে জঙ্গলে ঘুরে সাপের সন্ধান করি যে দিন সাপ ধরতে পারি সে দিন ভাল লাগে এই ভেবে দু-দিন অন্ততঃ সংসারের খরচ চলবে। আবার অনেক সময় সাপ না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। তিনি আরও জানান;একেকটি সাপ সাপুড়েদের কাছে বিক্রি করেন ৪-৬শত টাকায়। আগের মত আর সাপ পাওয়া যায় না। বাপ-দাদার পেশা ছাড়তেও পারছি না।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন সাপ পল্লীর বাসিন্দা সাহা রাউথ(৪৯)জানান; ভাই সাপ দেখবেন,বলেই তিনি তার বাড়ি হতে একটি সাপের ঝাঁপি(বক্স) নিয়ে আসেন। এরপর ঝাঁপি (বক্স)খুলে দিতেই ফোঁস করে ফনা তুলে উপরে ভেসে উঠে একটি বিষধর গোখরা। তিনি জানান;সাপ ধরা একটি কৌশলমাত্র। সাপ ধরার সময় ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি যেন বিপদ না হয়।
সাপ পল্লীর অপর বাসিন্দা মিসরি রাউথ(৪৮)জানান;সাপ ধরতে গেলে বাড়ির সবাই আতঙ্কে থাকে-এই বুঝি সাপ ছোবল মারল। আমরা প্রতিনিয়ত সাপের সাথে বসবাস করি। ভয় লাগে কখন সাপ আমাদের দংশন করে। তিনি আরও জানান;সাপ ধরা কাজটি ছাড়া আমরা আর কোন শিখিনি বাধ্য হয়ে এ পেশাটিকে আঁকড়ে ধরে আছি। 
ভগরাসন রাউথ(৫১)জানান; সাপ ধরে আনার পর কিছু খায় না। এ কারণে কাঠের বাক্সের ভিতরে পানি ছিটিয়ে দেয়া হয় যাতে সাপ জিহ্বা দিয়ে পানি চেটে নিতে পারে।
নগেশ্বরি রাউথ(৪৭)জানান;বন-জঙ্গলের চিহ্নই জানান দেয় সেখানে সাপ আছে কি-না। অনেক সময় ৩-৪ দিনেও সাপের দেখা মেলে না। তখন হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসতে হয়। বৃষ্টি হলে গর্ত থেকে সাপ বের হয়। বছরের প্রায় ৪-৫ মাস গর্ত থেকে সাপ বের হয় না।
সহেদুল রাউথ(৫৪)জানান;জীবন বাঁচাতে অনেক সময় জীবন বিপন্নও হয়। কেননা সাপ ধরতে গিয়ে এরই মধ্যে আমাদের গ্রামের নগেন রাউথ ও লাকু রাউথ সাপের ছোবলে মারা গেছেন।
তিনি আরও জানান;আমরা অন্য পেশার সাথে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারছি না। কিন্তু এভাবে আর কতদিন। সাপ আর তেমন পাওয়া যাচ্ছে না।কিন্তু এই পেশা ছেড়েও দিতে পারছি না। অনেকেই দিনমজুরি করেও সংসার চলছে না। তাই সাপ ধরার ডাক আসলে ঘরে বসে থাকতে পারি না। সাপ ধরে আনার চুক্তিতে যে অর্থ পাওয়া যায় তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক মোবাইল ফোনে জানান; অগ্রাধিকার ভিক্তিতে তাদের কিছু সুবিধা দেয়া হচ্ছে যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। প্রানিসম্পদ বিষয়ক যে সব আইন রয়েছে সে সম্পর্কেও তাদের সচেতন করা হচ্ছে। এ ছাড়া তারা যাতে প্রকাশ্যে প্রানি সম্পদ ধ্বংস করতে না পারে সে জন্য প্রশাসন সজাগ রয়েছে।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান; সাপ ধরা পল্লীর বাসিন্দাদেরকে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে। এজন্য যত রকম সহযোগিতা দরকার তা করা হবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭নভেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...