মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

হারিয়ে যাচ্ছে ঔষধি গুন সম্পন্ন উদ্ভিদ আমলকি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ব্যাপক ঔষধি গুন সম্পন্ন উদ্ভিদ আমলকি। রংপুরের বদরগঞ্জ সহ দেশের প্রায় সর্বত্রই এক সময় আমলকি দেখা যেত এখন আর সচারাচর চোখেই পড়ে না। অধিক পরিমানে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এ আমলকি ফলটিকে ভিটামিন সির রাজা বলা হয়। ইউফরবিয়েসি গোত্রের এ ফলটির বৈজ্ঞানিক নাম- ফাইলানথাস এমবিলিকা।
পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে; খাদ্য উপযোগি প্রতি ১০০ গ্রাম আমলকিতে আছে ভিটামিন সি ৪৬৩ মিলিগ্রাম, শর্করা ১৬.২ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.৭ গ্রাম, আঁশ ৩.৪ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৭০ কিলোক্যালরি, ক্যালসিয়াম ২২ মিলি গ্রাম, লৌহ ৩.১ মিলিগ্রাম।
দেশের বেশির ভাগ মানুষ ভিটামিন সির অভাবে প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। দেশিয় ঔষধ ও প্রসাধনি সামগ্রি তৈরিতে আমলকি ব্যাপক ভাবে ব্যবহার হচ্ছে। আমলকির আচার ও মোরব্বা সূ-স্বাদু এবং পুষ্টিকর। আমলকির রস সেবন করলে যকৃত, পেটের পীড়া, হাপানি, কাশি, বহুমুত্র, জন্ডিস ও বদহজম জনিত রোগ নিরাময়ে অসাধারন কাজ করে। এর পাতার রস খেলে আমাশয় ভাল হয় এবং শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায়। চর্মরোগের চিকিৎসাতেও আমলকি ফল ব্যবহার হয়। কাচা আমলকির রস ২-৩ চামচ করে প্রতি দিন ২ বার চিনি অথবা মধু দিয়ে সেবন করলে ভিটামিন-সি, ভিটামিন বি- ১, এবং ভিটামিন বি-২ এর অভাব জনিত বিভিন্ন রোগের উপশম হয়। কাঁচা অথবা শুকনা আমলকি বেটে দুধে দিয়ে তার সাথে মাখন মিশিয়ে মাথায় লাগালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম আসে। অল্প বয়সে দৃষ্টিশক্তি  কমে যাওয়া হতে রক্ষা পেতে ২-৩ চামচ আমলকির রসে ১চামচ করে মধু মিশিয়ে কিছুদিন খেলে দৃষ্টি শক্তি ভালো হয়। প্রস্রাবের কঠিন জ্বালা হতে মুক্তি পেতে ৩/৪ চামচ আমলকির রস আধা লিটার দুধের সাথে মিছরি মিশিয়ে গোসলের পর খেলে সম্পূর্ন আরোগ্য হয়। চুলের গোড়া নরম, উঠে যাওয়া এবং চুল পাকা বন্ধ করতে আমলকি বেটে মাথায় লেপে দিয়ে ৩/৪ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেললে ব্যাপক উপকার পাওয়া যায়। আমলকি ব্যবহারে একদিকে যেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত থাকা যায় অন্যদিকে অর্থ অপচয়ের হাত হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; আগে আমাদের উপজেলায় ব্যাপক আমলকির গাছ ছিল বর্তমানে চোখেই পড়েনা। বিলুপ্তপ্রায় এ উদ্ভিদটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এর সংরক্ষন ও বংশ বৃদ্ধির জন্য সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। তা না হলে প্রকৃতি হতে ভেষজ গুন সম্পন্ন আমলকি উদ্ভিদটি একদিন হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান জানান; এক সময় ব্যাপক ভাবে আমলকির গাছ চোখে পড়লেও এখন আর চোখে পড়ে না। দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন আমলকি উদ্ভিদটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করা উচিত। 

বদরগঞ্জ রংপুর
তারিখ-১৭অক্টোবর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৭

বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে নবীনবরন অনুষ্ঠিত




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ



রংপুরের বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেনির ছাত্রিদের নবীনবরন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার(১৫অক্টোবর)সকালে কলেজ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত নবীনবরন অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান ডঃ জাকির হোসেন, বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাশেদুল হক। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ¦ মেছের উদ্দিন,মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কাজি খয়রাত হোসেন, কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আ.ম.আ.কাইয়ুম,বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল হক দুলু,বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান প্রধান।
শুরুতেই নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরন করে নেয় দ্বিতীয় বর্ষ ও ডিগ্রির  শিক্ষার্থীরা। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্পি রনজিন রায়,বদরগঞ্জের বিশিষ্ট সংগীত শিল্পি পুর্নিমা সরকার। ফ্যাশন- শো পরিবেশন করেন মিতা ব্যানার্জি,মিষ্টি,চেতনা রায় ও তার দল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দ্বাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রি আইরিন। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫অক্টোবর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৭

হারিয়ে যাচ্ছে ডাক বিভাগের জৌলুস


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য চিঠি নিয়ে কবিতা “রানার” লিখেছিলেন। এছাড়া মনির খানের একটি জনপ্রিয় গান “চঠিি লখিছেে বউ আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে” গানটির সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। মুলতঃ চিঠিতে মনের মাধুরি মেশানো রং দিয়ে তাতে আল্পনা এঁকে প্রিয়জনকে তাদের আবেগ অনুভুতির কথা জানানোই ছিল মুল কাজ। কিন্তু প্রযুক্তির এই যুগে  ডাক অফসি ও ডাকপয়িনদের আর তেমন কদর নইে  । একটা সময় ছিল চিঠি প্রদান সহ অতি গুরুত্বপুর্ন কাজ ডাক অফিস ছাড়া কল্পনাই করা যেত না। সময় পাল্টে গেছে। বর্তমানে কোনো যুবক-যুবতী আর মনরে মানুষরে চঠিি পতেে অধির আগ্রহে অপক্ষো করে না । গায়রে কোনো বধূ প্রবাসি স্বামির পাঠানো চঠিি পতেে ডাকপয়িনরে পথ চয়েে বসে থাকে না। কোনো পিতা মাতা তার ছলেরে ভালো-মন্দ খবররে জন্য চঠিরি জন্য অপেক্ষা করে না। 
আধুনিকতা আর প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন ডাক বিভাগের স্থানে মোবাইল, কুরয়িার র্সাভসি, ফ্যাক্স, ইন্টারনটে, স্কাইপ,ি টুইটার ও ফইেসবুকসহ সামাজকি যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে । আধুনকি তথ্য-প্রযুক্তরি প্রসারে পোস্ট অফসিরে কার্যক্রম শুন্যের কোটায় এসে দাঁিড়য়েছে। এখন আর  পোস্ট অফসিরে র্কমর্কতা ও র্কমচারিদরে ব্যস্ত সময় কাটাতে দখো যায় না।  ডাকবভিাগরে সবোর ধীর গতরি কারণইে কুরয়িার র্সাভসি জনসাধারণরে কাছে জনপ্রয়ি হয়ে উঠছে।ে
বদরগঞ্জ উজেলা ঘুরে দেখা যায়; উপজলোসহ গ্রাম-গঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকার ডাকঘরগুলোতে নইে মানুষরে আনাগোনা । এখন চঠিি বতিরণ করার জন্য নইে ডাক পিয়নদের ছোটাছুটি । এখন শুধুমাত্র কছিু চঠিপিত্র আসে সরকারি অফসি-আদালত আর ব্যাংক-বীমা অফসি।ে
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান, এক সময় পরবিার-পরজিনরে খোঁজ-খবর নিতে একমাত্র মাধ্যম ছলি চঠিি আদান-প্রদান । আর এর প্রধান বাহন ছলি ডাকঘর আর ডাকপয়িন। ওই সময় ডাকপয়িনরে কদর ছলি, চঠিি নয়িে গলেে বশে আদর-আপ্যায়ন করানো হতো । বর্তমানে মানুষরা  মুর্হূতইে  যোগাযোগ করছে মোবাইল ও এসএমএস এর মাধ্যম।েবর্তমানে ই-মইেল, ইন্টারনটে, ফ্যাক্স, স্কাইপওি যোগাযোগরে মাধ্যম হয়ে দাঁড়য়িছে।ে
বদরগঞ্জ উপজেলা ডাক বভিাগরে এক র্কমর্কতা নাম প্রকাশ না শর্তে  জানান, আগরে মতো এখন চঠিি আসে না। কছিু সরকারি অফসি-আদালতরে চঠিি আস।ে এখন চঠিরি প্রয়োজন মটিাচ্ছে বভিন্নি সামাজকি যোগাযোগ মাধ্যম ও বভিন্নি কুরয়িার র্সাভসি। ডাকবভিাগকে আরো আধুনকি করা হলে ও শুন্য পদে জনবল নয়িোগ দলিে প্রয়োজন মতো সবার কাছে অনায়েসে পৌঁছানো যাব।ে আর সবার কাছে ডাক বিভাগের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে।
বদরগঞ্জ উপজলো পরষিদ ভাইস-চয়োরম্যান সাইদুল ইসলাম বলনে, র্বতমানে আধুনকি তথ্য-প্রযুক্তরি ছোঁয়ায় অনকে দূর এগয়িে গছেে অনকেইে। সবাই চায় কম সময়ে কম খরচে দনৈন্দনি চাহদিার সমাধান করত।ে তাই চঠিরি প্রয়োজনীয়তা কউে অনুভব করে না। এমতাবস্থায় ডাকবভিাগকে আরো আধুনকি করা প্রয়োজন। তা না হলে ডাক বিভাগ তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলবে।
 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১১অক্টোবর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

  

মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৭

মানবিকতায় পাহাড় সম উচ্চতায় আমার বাংলাদেশ





কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
মানবিকতায় পাহাড় সম উচ্চতায় অধিষ্ঠিত আমার জন্মভুমি বাংলাদেশ। মানচিত্রে দেশটি ক্ষুদ্র হলেও মানবিকতায় পৃথিবীর মাঝে নজির স্থাপন করেছে। পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ এখন বিশ^ শান্তি ও সৌহার্দের উজ্জল নক্ষত্র। আমি গর্ব বোধ করি আমার মাতৃভুমি বাংলাদেশ নিয়ে। যার হাত ধরে মানবিকতায় “বাংলাদেশ” পৃথিবীর মানচিত্রে নতুন করে পাহাড় সম মর্যাদায় স্থান করে নিল, তিনি আমাদের ও আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পৃথিবীর মানুষের কাছে আমাদের লাল সবুজের পতাকাটি আজ বিশ^ শান্তির প্রতীক।
আমি একজন সাধারন মানুষ হিসেবে আমার দেশ বাংলাদেশ এবং আমার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে গর্ব বোধ করি।
বিনা উষ্কানিতে যখন মিয়ানমার(বার্মা)সরকার জাতি গত গোষ্ঠি নিধনে কাজ করছে,নিজ দেশের সাধারন মানুষকে যখন নিষ্ঠুর ভাবে ধর্ষন ও হত্যা করছে তখন আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ দেশের সীমান্ত খুলে দিয়ে অনন্য নজীর স্থাপন করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি ঘোষনা দিলেন; আমি যদি ১৬ কোটি মানুষের দায়িত্ব নিতে পারি তাহলে এই অসহায় ১০ লক্ষ লোকেরও (রোহিঙ্গা) দায়িত্ব নিতে পারবো। একদিকে যখন মানুষরুপি পশুদের তান্ডব অন্যদিকে অসহায় মানুষদের আশ্রয় ও দায়িত্ব নেয়া, তখন আমার মত একজন সাধারন নাগরিকের বুক গর্ভে ভরে যায়। স্যালুট আমার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

চলবে----


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১০অক্টোবর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৭

মাটির প্রাণ টপ সয়েলে ধারনা নেই বদরগঞ্জের কৃষকদের




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জসহ বাংলাদেশের কৃষকরা জীবন-জীবিকার তাগিদে ফসল উৎপাদনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কম বেশি সারা বছরই তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শ্রম দেন তাদের কাঙ্খিত ফসল উৎপাদনে। খাদ্য নিশ্চিত নিরাপত্তা দানকারি কৃষকদের এই কষ্টাজিত শ্রমকে খাটো করে দেখার কোন কারন নেই। কিন্তু প্রশ্ন হল, মাটির প্রাণ টপ সয়েল সম্পর্কে তারা কতটুকু অবগত। ফসল উৎপাদনে টপ সয়েলের ভুমিকা কতটুকু এ বিষয়ে কৃষি অফিস তথা কৃষি অধিদপ্তর কৃষকদের কি ধারনা দিয়েছেন ?
আগে জানা প্রয়োজন টপ সয়েল কি? মাটির উপরিভাগে হিউমাস সমৃদ্ধ অংশটিই হল টপ সয়েল। এই অংশটিতেই মূলতঃ উদ্ভিদের মাইক্রো ও ম্যাক্রো উপাদান বিদ্যমান। যার মাধ্যমে উদ্ভিদরা তার জীবনীশক্তি ফিরে পায় এবং দ্রুত বেড়ে উঠে।
সরেজমিনে উপজেলা ঘুরে কথা হয় রামনাথপুর ইউপির খিয়ারপাড়া গ্রামের কৃষক নওশাদ আলি(৪৩)সাথে তিনি জানান; সারা বছর হারা (আমরা) কমবেশি সউক (সব) আবাদ করি । ভূঁই চাষ করি সার দেই ফসল তুলি এইটাইতো হামার কাম। টপ সয়েল এটা ফির কি?
কথা হয় মধুপুর ইউপির কৃষক মেনাজুল ইসলাম চঞ্চল(৪৫) সাথে তিনি জানান; আমাদের মধুপুরে ইটভাটার সংখ্যা কমপক্ষে ৩৫টি। আমাদের এখানকার কমবেশি সকল কৃষক তার জমির মাটি বিক্রি করে দেয় ইটভাটার মালিকদের কাছে। অধিক মুনাফার লোভে এখানকার কৃষকরা তাদের জমির মাটি অবলীয়ায় বিক্রি করে দিচ্ছে। সত্যি কথা বলতে কি তেমনভাবে আমিও জানি না টপ সয়েল কি?
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; সাধারনতঃ ভূমির দুই-আড়াই ইঞ্চি পরিমান হিউমাস সমৃদ্ধ মাটিই হল টপ সয়েল। এই মাটিতেই সকল পুষ্টিগুন তথা মাইক্রো ও ম্যাক্রো এলিম্যান্টেস থাকে। ফসলের ধরন অনুযায়ি যৎসামান্য আরর্টিফিশিয়াল (কৃত্রিম) সার প্রয়োগ করে কাঙ্খিত ফসল উৎপাদন করা হয়। কৃষকরা যদি তাদের ভূমির প্রাণ ভোমরাকেই অন্যের হাতে তুলে দেয় তাহলে তাদের জমি হতে তারা কাঙ্খিত ফসল উৎপাদনে ব্যর্থ হবেন।
কৃষকদের জানতে এবং বুঝতে হবে টপ সয়েল অন্যের কাছে বিক্রি করে দিলে এই ঘাটতি পূরনে তাদের লেগে যাবে ২০-২৫ বছর। আর এই সময়টাতে কৃষকরা যে ফসলই উৎপাদন করুক না কেন নিশ্চিত ভাবে বলা যায় তারা কাঙ্খিত ফসল উৎপাদন করতে পারবে না। না বুঝে হোক আর বাড়তি টাকার মোহেই হোক টপ সয়েল বিক্রির প্রবনতা কৃষকদের বন্ধ করতে হবে। তা না হলে কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সন্মূখিন হবেন। বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থা রাসায়নিক সার ও বালাইনাশকের উপর নির্ভরশীল। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ও মাটির গুনগত মান এমনিতেই নষ্ট হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে ফসলে বাদ যাচ্ছে না জীববৈচিত্রেও। এর পর যদি টপ সয়েল ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে কৃষি তথা কৃষি ব্যবস্থা যাবে কোথায় ! তাই পরিবেশ বান্ধব কৃষি এখন সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে কৃষি অফিস তথা কৃষি বিভাগকে অত্যন্ত আন্তরিক হয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং বোঝাতে হবে টপ সয়েল সম্পর্কে। অন্যথায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরন বাধাগ্রস্থ হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান; শুধুমাত্র লোভের বশবর্তী হয়েই কৃষকরা তাদের টপ সয়েল বিক্রি করে দেন। কিন্তু একবারও তারা উপলব্ধি করে না যে তারা কতবড় ক্ষতির সন্মূখিন হলেন। আমরা সবসময় কৃষকদের বোঝানোর চেষ্টা করি এবং করছি যাতে কৃষকরা তাদের জমির টপ সয়েল বিক্রি না করেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান মোবাইল ফোনে জানান; টপ সয়েল রক্ষার্থে আমাদের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই। কৃষি বিভাগের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে কথা বলেন টপ সয়েল সম্পর্কে। অনেক সময় কৃষকরা তা শুনেন আবার শুনেন না। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের সচেতনতা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০৩অক্টোবর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪





  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...