কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
এক হালি পেঁয়াজে দেড় হালি ডিম পাওয়া যাচ্ছে। দেশে পেঁয়াজ নিয়ে হৈ চৈ শুরু হলেও কিছুতেই এর সমাধান হচ্ছে না। আপাতত সমাধানের কোন লক্ষনও দেখা যাচ্ছে না। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা সাধারন। এ ছাড়াও আগে ছোট বড় হোটেল(রেস্তোরা)গুলোতে ব্যাপকভাবে মুখরোচক খাবার পিঁয়াজি তৈরি এবং বিক্রি হলেও এখন তা শুন্যের কোটায় দাঁড়িয়েছে কারন পিঁয়াজি তৈরির অন্যতম উপাদানই হল পিঁয়াজ। দাম অনেকটা নাগালের বাহিরে যাওয়ায় দোকানদাররাও আর পিঁয়াজি তৈরি করছেন না। আর অল্প কিছু দোকানদার পিঁয়াজি তৈরি করলেও পিঁয়াজির দাম বৃদ্ধির কারনে ক্রেতারাও তা খাচ্ছেন না।
সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার(১৫নভেম্বর)সকালে বদরগঞ্জ পৌরবাজার ঘুরে দেখা যায়,দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২৭০টাকায় আর দেশের বাহিরের(বোল্ডার)পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২শত হতে ২২০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থ্যাৎ এক হালি পেঁয়াজের দামে পাওয়া যাচ্ছে দেড় হালি(৬টি)ডিম।
কাঁচাবাজার করতে আসা পৌরশহরের বালুয়াভাটা মহল্লার বাসিন্দা জান্নাতুল বাকি জানান,কাঁচাবাজারের অন্যান্য জিনিষ পত্রের দাম কিছুটা বেশি হলেও তবুও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের দাম তো কিছুতেই পড়ছে না। বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই বাসার জন্য ১ পোয়া পিঁয়াজ(বোল্ডার)৫৫টাকায় কিনলাম।
তিনি আরও জানান,আমি হিসেব করে দেখলাম,এক হালি পেঁয়াজে অনায়েসে দেড় হালি ডিম পাওয়া যাচ্ছে।
বদরগঞ্জ পৌরবাজারের পাইকাড়ি পেঁয়াজ বিক্রেতা এনামুল হক ও আকবার আলি জানান,আমরা দেশের বড় বড় মোকাম হতে দেশি ও বোল্ডার পিঁয়াজ কিনে এনে বদরগঞ্জ সহ বিভিন্ন জায়গায় পাইকাড়ি দরে বিক্রি করি। বর্তমানে পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারে এর বেশ প্রভাব পড়েছে। তবে দেশি পিঁয়াজ বাজারে আসলেই পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে যাবে।
বদরগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকার খুচরা কাঁচামাল ব্যবসায়ি মাহাবুল ইসলাম জানান,আমরাও বুঝি পিঁয়াজের দাম অনেক বেশি। আগে আমার দোকানের জন্য পিঁয়াজ কিনে আনতাম বস্তায় বস্তায়,এখন কিনে আনি ২০কেজি হতে ৪০ কেজি।
বদরগঞ্জ উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক রায় জানান,পেঁয়াজ সংকটের কথা মাথায় রেখে আমরা এখন হতেই কৃষকদের পিঁয়াজ সহ মশলা জাতীয় ফসল চাষের জন্য উৎসাহিত করছি যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মশলা জাতীয় ফসলের সংকট রোধ করা যায়।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫নভেম্বর/১৯
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


