শুক্রবার, ২০ জুলাই, ২০১৮

কাঠ ফাটা গরমে জনজীবন স্থবির




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

কাঠ ফাটা গরমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড গরম আর তাপদাহে ঘর হতে বের হওয়া যেন দায় হয়ে পড়েছে। গত দু-দিন হতে রংপুরের বদরগঞ্জে প্রচন্ড তাপদাহ আর গরমের দাপট এতটাই যে,প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কেউ ঘর হতে বের হচ্ছেন না। এই সময়টাতে সবচাইতে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ছোট বাচ্চা বৃদ্ধ আর শ্রমজীবি মানুষরা।
সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার(২০জুলাই)দুপুরে গোটা পৌরশহর ঘুরে দেখা যায়,জনমানবহীন তপ্ত সড়ক। সড়কে রিক্সা কিংবা ব্যাটারিচালিত অটো রিক্সার দেখা নেই। অথচ দু-একদিন আগেও রিক্সা কিংবা ব্যাটারিচালিত অটো রিক্সার দাপটে সড়কে চলাচল করাই যেন দায় হয়ে যেত। আরও দেখা যায়, হাতে গোনা দু-একটি দোকান ছাড়া সকল দোকান বন্ধ। যে দু-একটি দোকান খোলা রয়েছে তাতেও হাতে গোনা লোকজন দোকানের মধ্যে বসে আসে। খোলা রয়েছে শুধু ঔষধের দোকান। ঔষধের দোকানগুলোতে রেকর্ড সংখ্যক স্যালাইন বিক্রির কথা দোকানদাররা জানান।
কথা হয় স্যালাইন কিনতে আসা পৌরশহরের সি.ও রোড মহল্লার বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের গনিত বিভাগের শিক্ষক নিখিল সরকারের সাথে,তিনি জানান,প্রচন্ড তাপদাহ আর গরমে ঘর হতে বের হওয়া যাচ্ছে না।
গরমে শরীর হতে ঘাম বের হবার কারনে স্যালাইন কিনতে এসেছি।
তিনি আরও জানান,প্রচন্ড গরমে আমার ছোট মেয়ে আর আমার মায়ের অবস্থা একেবারেই খারাপ। এই মাত্র ডাক্তারের সাথে কথা বলে স্যালাইন কিনতে এসেছি।
কথা হয় রাস্তার এক কোনে ছাঁয়ায় দাঁড়ানো রিক্সাচালক জুরান সাহার সাথে,তিনি জানান,আমি গরীব মানুষ রিক্সা না চালালে খাবো কি ? কিন্তু সকাল হতে রিক্সা নিয়ে বের হলেও এখন দুপুর পর্যন্ত মাত্র একজন যাত্রি পেয়েছি। তার কাছ হতে ভাড়া পেয়েছি দশ টাকা। এই হল দুপুর পর্যন্ত আমার রোজগার।
তিনি আরও জানান,এই রোদে মানুষতো বাইরে বের হতেই পারছে না। আমার রিক্সায় চড়বে কে ?
রেলষ্টেশন এলাকার লেবু শরবত বিক্রেতা এরশাদ আলি জানান,প্রচন্ড গরমে সকাল হতে গভীর রাত অবধি তার লেবু শরবতের দোকানে ভিড় লেগেই আছে। প্রতি গ্লাস লেবু শরবত ৫ টাকায় বিক্রি করি।
এদিকে,রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলি জানান,আজ (শুক্রবার)রংপুর অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮.০৪। তিনি আরও জানান,আজ কোথাও বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা না থাকলেও আগামিকাল শনিবার কোথাও কোথাও বৃষ্টি হতে পারে। 
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইফতেখারুল আলম মারুফ জানান,অতিরিক্ত গরমে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুন রোগি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই পেটের পীড়া ডায়রিয়া ও শ^াসকষ্টজনিত রোগি। এই গরমে শরীর হতে অতিরিক্ত লবন পানি ঘাটতি পুরনে সকলকে খাবার স্যালাইন ও বেশি বেশি পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২০জুলাই/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই, ২০১৮

শোলার খোঁজে মালিরা




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

শোলা বদ্ধ জলাশয়ে জন্মানো একটি জলজ উদ্ভিদের নাম। রোঁমশ লম্বাটে ফাঁপা পাতলা এই উদ্ভিদটি আগে বদরগঞ্জ উপজেলার কমবেশি সকল বদ্ধ জলাশয়ে দেখা গেলেও এখন উপজেলার হাতে গোনা কয়েকটি স্থানে দেখতে পাওয়া যায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে শোলার কদর অত্যন্ত বেশি। দেব-দেবির পুজা অর্চনা বিয়ের মুকুট সহ বিয়ে বাড়ি সাজাতে বেশি প্রয়োজন হয় এই শোলা। এছাড়াও বাচ্চাদের নানা ধরনের খেলনা তৈরিতে উদ্ভিদটির জুড়ি মেলা ভার।
সরেজমিনে গত সোমবার(১৬জুলাই)সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উপজেলা ঘুরে দেখার সময় উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির মন্ডলপাড়া এলাকায় গিয়ে চোখে পড়ে কিছু লোকজন বদ্ধ জলাশয় হতে শোলা নামক জলজ উদ্ভিদটি তুলে রাস্তার ধারে স্তুপ করছেন।  কাছে গিয়ে তাদের স্থির চিত্র ধারন করি।
 এ সময় কথা হয় নীলফামারি জেলার মাগুড়া হতে আসা মালি দুলাল চন্দ্রের (৩৫) সাথে, তিনি জানান, আমরা প্রতি বছর নীলফামারির মাগুরা এলাকা থেকে এই এলাকায় শোলা সংগ্রহ করতে আসি।
অপর মালি সুবল দাস (৪০) জানান,নীলফামারির মাগুরা থেকে বদরগঞ্জের দুরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। আমরা সবাই বাইসাইকেলে করে এসেছি। জলাশয় এলাকায় আসতে গেলে বাইসাইকেলই উত্তম বাহন।
তিনি আরও জানান,অনেক জলাশয় আছে যা প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে ভাল যাতায়াত ব্যবস্থাই নেই। এখান হতে এই শোলা সংগ্রহ করে আমরা নীলফামারি সহ আশে পাশের জেলা উপজেলায় বিক্রি করি।
মালি সুবাস চন্দ্র (৩০) জানান, দেশের বড় বড় জলাশয় পুকুর ডোবা ভরাট হয়ে যাওয়ায় আর আগের মত শোলা পাওয়া যায় না। তাই আমরা আগেই বিভিন্ন জলাশয় এলাকার খোঁজখবর নিয়েই যেখানে শোলা পাওয়া যায় সেখানে চলে আসি।
তিনি আরও জানান, শোলা দিয়ে পুজোর সামগ্রি তৈরি করে থাকি। যেমন কদম ফুল, মুকুট ও নানা প্রকার খেলনা সামগ্রি। প্রথমে আমরা শোলা সংগ্রহ করি তারপর সংগ্রহীত শোলা শুকিয়ে বাহারি রঙ্গে রাঙ্গিয়ে পণ্য সামগ্রি তৈরি করে পুজোর বাজারে বিক্রি করি। প্রতি বছর এই শোলা সামগ্রি বিক্রি করে ২৫-৩০হাজার টাকা আয় করি। এছাড়াও পেশাটি আমাদের পুর্বপুরুষের। তাই কষ্ট করে হলেও ধরে রাখার চেষ্টা করছি।
বদরগঞ্জ বারোয়ারি কালিমন্দিরের পুরোহিত দিনেশ চক্রবর্তী জানান, শোলা দিয়ে আমাদের অনেক কাজ সারতে হয়। যেমন বিয়ের মুটুক, সাজসজ্জা, দেব-দেবির গলার হার, মনষা ও ছায়া মন্ডব তৈরি করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন রকম ফুল এবং পুজার কাজে শোলার ব্যবহার হয়। 
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক রায় জানান, এক সময় বদরগঞ্জ উপজেলায় প্রচুর পরিমান শোলা পাওয়া যেত। এ কারনে বদরগঞ্জের একটি এলাকার নামকরন হয়েছে শোলাগাড়ি।
বর্তমানে শোলা এখন পশুখাদ্য,রান্নার কাজে জ্বালানি ও জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি আরও জানান,সময়ের সাথে সাথে শোলা নামক এই জলজ উদ্ভিটির বিকল্প সামগ্রি ব্যবহার করার ফলে এর চাহিদা অনেকটাই কমেছে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬জুলাই/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪         












  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...