মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বদরগঞ্জে পুজাকে কেন্দ্র করে নারিকেল বিক্রির ধুম


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

কয়েকদিন পরেই স্বারদীয় দুর্গাপুজা। এরই মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুন। বেড়েছে পুজার কেনাকাটাও। তারচাইতে বেড়ে গেছে নারিকেল বিক্রি। কারন দুর্গাপুজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের খাদ্য তালিকায় অন্যতম উপকরন হল নারিকেলের নাড়– ও নারিকেল দিয়ে তৈরি নানা রকমের পিঠা পায়েস। প্রতিটি বাড়িতেই তৈরি হবে নারিকেল দিয়ে তৈরি সুস্বাদু নানা ধরনের খাবার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বদরগঞ্জ পৌরশহরের অলিগলিতে খুচরা বিক্রেতা সহ আড়তদাররা ব্যস্ত সময় পার করছেন নারিকেল বিক্রি করে। 
কথা হয় নারিকেল বিক্রেতা জমসেদ আলির(৫৬)সাথে,তিনি জানান; দুর্গাপুজার সময় নারিকেলের চাহিদা অনেক গুন বেড়ে যায়। এবারের চাহিদা আরও বেশি। আমি বাগেরহাট জেলার চুলকাঠি বাজার হতে নারিকেল ক্রয় করে বদরগঞ্জে নিয়ে আসি। আমার কাছ হতে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়িরা নারিকেল ক্রয় করে ব্যবসা করছে।
তিনি আরও জানান; দুর্গাপুজা উপলক্ষে এ পর্যন্ত আমার আড়ত হতে কমপক্ষে ৫০হাজার পিস নারিকেল বিক্রি হয়েছে। কুড়িগ্রাম,লালমনিরহাট,তিস্তা সহ দেশের নানা প্রান্তের খুচরা ব্যবসায়িরা আমার কাছ হতে নারিকেল নিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও খুচরা ক্রেতাদের কাছে প্রতি জোড়া নারিকেল ৮০ হতে ১শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছি।
কথা হয় মৌসুমি নারিকেল ব্যবসায়ি মিনতি রানির(৪৫)সাথে,তিনি জানান;
পুজা উপলক্ষে নারিকেলের জমজমাট ব্যবসা চলছে বদরগঞ্জে। সারা দিনে আমি ৩শত জোড়া নারিকেল বিক্রি করছি। এতে আমার আয় ভাল হচ্ছে।
কথা হয় মৌসুমি নারিকেল ব্যবসায়ি মহাবীর(৪৩)সাথে,তিনি জানান; আমি মুলতঃ ফলমুলের খুচরা ব্যবসায়ি। দুর্গাপুজার এই সময়টাতে আমি নারিকেলের ব্যবসা করি। এতে আমার আয় বেড়ে যায় কয়েকগুন।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; দুর্গাপুজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িতে মহিলারা নারিকেল দিয়ে তৈরি করে নাড়ু,পিঠা পায়েস সহ নানা রকমের সুস্বাদু খাবার। নারিকেল দিয়ে তৈরি এ সুস্বাদু খাবারগুলো আত্মীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধব সহ সবাইকে নিয়ে খাওয়ার মজাটাই আলাদা। যুগ যুগ ধরে এভাবেই চলে আসছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯সেপ্টেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪










মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলন ক্ষেত্র রংপুরের বদরগঞ্জ




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি মিলন ক্ষেত্র। যুগ যুগ ধরে সকল ধর্ম বর্নের মানুষরা একে অপরের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলছে। যেন একটি ফুলের নানা পাপড়ি। যুগ যুগ ধরে ভিন্ন ধর্মের মানুষদের ধর্মীও আচার অনুষ্ঠানগুলোতে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে ভিন্ন ধর্মের মানুষরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়াটা এ অঞ্চলের মানুষদের অনন্য বৈশিষ্ট্য।
বদরগঞ্জ উপজেলা যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উজ্জল উদাহরন, তার নমুনা হল মাত্র ১শত গজের মধ্যে একদিকে বদরগঞ্জ কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ মাঝখানে বারোয়ারি কালি মন্দির এবং তার পরেই বদর পীরের মাজার।
কথা হয় বদরগঞ্জের প্রবীন বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আফজাল হোসেনের সাথে,তিনি জানান; যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি বদরগঞ্জ উপজেলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি মিলন ক্ষেত্র। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আছে বলেই তো মসজিদ,মন্দির ও বদর বাবার মাজার একত্রে রয়েছে। তিনি আরও জানান; পুর্বে বদরগঞ্জের নাম ছিল বৈকুন্ঠপুর। পরবর্তীতে বদরপীর নামক একজন আলেম সুফি সাধকের আগমনে এ এলাকার উন্নতি সাধিত হয়। পরবর্তীতে এ সুফি সাধকের নামানুসারে এলাকার নামকরন হয় বদরগঞ্জ।
কথা হয় সাবেক এমপি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তীর সাথে,তিনি জানান; বাংলাদেশের মধ্যে নানা ধর্মের মানুষদের মাঝে এই বন্ধুপ্রতীম সম্পর্ক এটা বদরগঞ্জ উপজেলায় না এলে বুঝা যাবে না। আমি বিশ^াস করি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জল উদাহরন হল আমার জন্মভুমি বদরগঞ্জ।
কথা হয় এ প্রজন্মের বিশেষ ব্যক্তিত্ব সমাজসেবক মাহাবুব সরকার দ্বীপের সাথে,তিনি জানান; বদরগঞ্জ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত। এখানে না এলে বুঝা বা অনুভব করা যাবে না। আমি গর্বিত আমার জন্মভুমি বদরগঞ্জকে নিয়ে।
কথা হয় এ প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দানকারি ও বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান; বদরগঞ্জ উপজেলা একটি নানান ধর্মের মানুষদের মিলন ক্ষেত্র। যা যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। আমি মনে প্রানে বিশ^াস করি আমাদের এ ভার্তৃত্বের বন্ধন চিরদিন অটুট থাকবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ- ৫ সেপ্টেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

নরম হাতে রিক্সার শক্ত হ্যান্ডেল



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আশিকুর রহমান আশিক(১১)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপির বৈরামপুর গ্রামে। যে বয়সে আশিকুরের বাবা মায়ের সাথে আনন্দে দিন কাটার কথা,স্কুলে যাবার কথা,লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হবার কথা। সংসারের অর্থনৈতিক দৈন্যতা ফেরাতে এই ভাগ্যবিড়ম্বিত শিশুটি বাধ্য হয়েছেন নরম হাতে রিক্সার শক্ত হ্যান্ডেল ধরতে। অভাব আর অনটনে বেড়ে ওঠা আশিকুরদের মত শিশুদের যেন দেখার কেউ নেই! শুধুমাত্র সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে আশিকুর বইয়ের বদলে বেছে নিয়েছে তার সস্তা শ্রম বিক্রি করতে অন্যদিকে তার পরিবারও এক প্রকার বাধ্য করেছেন স্কুলে যাওয়ার পরিবর্তে তার কায়িক শ্রম বিকিয়ে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে।
সরেজমিনে বদরগঞ্জ উপজেলা ঘুরে দেখার সময় হঠাৎ চোখে পড়ে ছোট এক শিশু। যার কোমল হাত রিক্সার শক্ত হ্যান্ডেল চেপে যাত্রি নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গোটা পৌরসভা।
রিক্সা স্ট্যান্ডে কথা হয় শিশু আশিকুরের সাথে,সে জানায়; সে বৈরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনির ছাত্র। পিতা নুর হক একজন দিন মজুর। নানা অভাব অভিযোগের মধ্যেও সে স্কুলে যাতায়াত করতো।
তার পিতা বর্তমানে একটু অসুস্থ্য হওয়ার কারনে মুলতঃ সংসারের হাল ধরতেই রিক্সা চালানো। প্রতিদিন রোজগার হয় ২শত হতে ৩শত টাকা। যা দিয়ে চলছে আমাদের সংসার।
সে আরও জানায়; অভাবের সংসারে আর পড়তে পারবো কিনা জানি না।
লেখাপড়া আমিও করতে চাই,বাবা বর্তমানে অসুস্থ্য এই সময় আমাদের সংসার চালাবে কে ?
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; আমাদের কাছে কষ্টের বিষয় এই সমস্ত কোমলমতি ভাগ্যবিড়ম্বিত শিশুরা আজ জীবিকার সন্ধানে লেখাপড়া বাদ দিয়ে তাদের সস্তা শ্রম বিকিয়ে দিচ্ছে। সরকার বিনামুল্যে পাঠ্যপুস্তক সহ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেও তারা লেখাপড়ার দিকে না ঝুঁকে পরিবারের অভাবের কারনে শিশুরা বাধ্য হচ্ছেন ঝুঁকিপুর্ন,কম ঝুঁকিপুর্ন কিংবা অন্যের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে।
বদরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নজরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান; সরকার বিনামুল্যে পাঠ্যপুস্তক সহ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেও অনেক শিশু লেখাপড়া না করে তাদের শ্রম দেয়াটা দুর্ভাগ্যজনক।
তিনি আরও জানান; এবারই প্রথম আমরা শিশুশ্রম সম্পর্কিত কিছু কাজ হাতে নিয়েছি। ধীরে ধীরে কাজগুলো এগিয়ে নিচ্ছি। এছাড়াও পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১সেপ্টেম্বর/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 






  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...